সুজন কুমার কর্মকার, কুষ্টিয়া :  ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া পালিয়ে আসা করোনা আক্রান্ত দম্পতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।  তারা দুইজন করোনা পজেটিভ। ঢাকায় নমুনা দিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তারা। বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায়। পজেটিভ জানার পর ওই দুই ব্যক্তি পালিয়ে যান। তবে পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের লোকেশন নিশ্চিত হন। রাজবাড়ী জেলায় তাদের আটক করে পুলিশ। তবে এদের ঢাকা বা রাজবাড়ীতে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কুষ্টিয়া পুলিশ। কিন্তু কুষ্টিয়ার এক সাংসদের অনুরোধে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ওই দুই ব্যক্তি কুষ্টিয়ায় আনার ব্যবস্থা করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে এম্বুলেন্সযোগে তাদেরকে কুষ্টিয়ায় আনা হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়- ওই দম্পতিকে কোনভাবেই হাসপাতালে ভর্তি করা যাচ্ছে না। তারা বাড়ীতেই ফিরে যাবে বলে এম্বুলেন্স থেকে নামছেন না। করোনা পজেটিভ  দম্পতি হলেন তছিকুল ইসলাম (৩১) ও তার স্ত্রী শিল্পী খাতুন (২৫)। তাদের একমাত্র সন্তান ফাতেমা (৫) তাদের সাথে রয়েছে। তছিকুল ধানমন্ডি এলাকায় থাকতেন এবং সেখানে একজনের ব্যক্তিগত গাড়ি চালাতেন। ক্রান্ত তছিকুল ইসলাম জানান, গত ২২ ও ২৩ এপ্রিল করোনা উপসর্গ নিয়ে আমরা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে টেষ্টে পজেটিভ আসে। তবে আমাদের মেয়ের নেগেটিভ। তিনি জানান, আমাদের বাড়ি যেহেতু কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর তাই ঢাকায় ঠিকমতো চিকিৎসা পাব কি না সেই ভয়ে আমরা কুষ্টিয়ায় চলে আসি। পথে নানান ঝামেলার পর এখন কুষ্টিয়া হাসপাতালের সামনে ৩০ মিনিট বসে আছি কোন ডাক্তার নেই। বে এ নিয়ে কুষ্টিয়ার সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলামের ভাষ্যমতে, ওই তিন ব্যক্তির বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায়। ঢাকাতে তারা করোনা পজেটিভ হন। তবে এটা শোনার পর তারা  গোপনে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। রাজবাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সাংসদ আ ক ম সরওয়ার জাহানের অনুরোধে মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের কুষ্টিয়ায় আনা হয়। কুষ্টিয়ায় আনার পর তাদের জেলা শহরে আরপিটিআই আইশোলসনে রাখা হবে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, পজেটিভ আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা তিনজন। তাদের কোনভাবেই কুষ্টিয়ায় আনার পক্ষে ছিলাম না। তারপরও সিভিল সার্জন তাদের নিয়ে এসেছে। এতে জেলার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। কেননা পালিয়ে বেড়ানো রোগীকে কোনভাবেই জেলাতে আইশোলসেন ঠিকমত রাখা যাবে কিনা সন্দেহ আছে। নামপ্রকাশ না করার শর্তে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের এক চিকিৎসক (করোনা ইউনিটে দায়িত্ব) বলেন, এভাবে বাইরের রোগীদের নিয়ে এসে বিপদ ডেকে আনা হচ্ছে। এটা ঝুঁকির মধ্যে ফেলা ছাড়া কিছুই না।