আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

দুই কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

news-image

দিনাজপুরে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি কোষাগার থেকে দুই কোটি ১৯ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় সাবেক জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা দুদক সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমান তাকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম বর্তমানে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে নিরীক্ষা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (সদর দপ্তর সংযুক্ত) পদে কর্মরত।

এর আগে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাশ সহকারী পদে থাকা আমিরুল ইসলাম ও জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর পদে থাকা মাহাফুজার রহমানকে গ্রেপ্তার করে দুদক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামি আমিরুল ইসলাম হাসপাতালের ক্যাশ সহকারী পদে কর্মরত থাকার ফলে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন উত্তোলন সংক্রান্ত কাজে হিসাবরক্ষণ অফিসে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। সেই সুবাদে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অডিটর মাহাফুজার রহমানের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে পরস্পর যোগসাজশে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অনলাইনের বিল ও অন্যান্য কার্যক্রমের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করেন আমিরুল ইসলাম। সেই ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ডিজিটাল ডিভাইসে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অর্থ জালিয়াতি করে আসছিলেন।

পরবর্তীতে আমিরুল ইসলাম ভুয়া পরিচয়পত্র বানিয়ে হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে কর্মরত দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার উপস্থাপন করে বিভিন্ন সময় বিল উত্তোলন করেন। সর্বশেষ হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৬৮০ টাকার ভাউচার সরিয়ে ফেলেন। হিসাব সংরক্ষণ অফিসের নিরীক্ষা বিভাগ কর্তৃক বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হলে জেলা কার্যালয়কে অবহিত করা হয়।

জেলা কার্যালয় স্থানীয় সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তাকে ওই অর্থ ছাড় না করতে অবহিত করে। একই সঙ্গে, সেই বিল ভাউচার খুঁজে না পাওয়ায় জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বিভিন্ন নথি ঘেঁটে দেখেন, গত ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে প্রতারণার উদ্দেশ্যে জাল বিল ভাউচার প্রস্তুত করে সরকারি কোষাগার থেকে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৪২৮ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।