আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

দুই সপ্তাহ ধরে খোঁড়া হচ্ছে পুকুর, জানে না কর্তৃপক্ষ বগুড়ায় রেলওয়ের জমি দখল

বগুড়ায় রেলওয়ের জমি অবৈধ দখলে নিয়ে খনন করা হচ্ছে পুকুর। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এ পুকুর খনন চললেও নির্বিকার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। অবাক করা বিষয় হলো, রেলওয়ের ভূমি দেখভাল করা যাদের দায়িত্ব, স্থানীয় সেই ফিল্ড কানুনগো অফিসের কর্মচারীদের কাছে জমি দখল কিংবা পুকুর খননের কোনো তথ্য নেই। আর রেলওয়ের প্রকৌশল শাখার (আইওডব্লিউ) কর্মকর্তারা বিষয়টি জানলেও খননকাজ বন্ধের জন্য দখলদারকে অনুরোধ জানিয়ে দায় সেরেছেন।
তবে যার বিরুদ্ধে রেলওয়ের জমি দখলের অভিযোগ, ফরিদ উদ্দিন নামে সেই ব্যক্তি বলছেন উল্টো কথা। তার দাবি, তিনি রেলওয়ের মৌখিক অনুমতি নিয়েই তাদের জমিতে পুকুর খনন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে অভিযোগ উঠেছে, অবৈধ ওই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে রেলওয়ের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে।
জানা গেছে, বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পূর্ব দিকে রেললাইনের দক্ষিণ পাশে সদর উপজেলার চক আলম মৌজায় রেলওয়ের ১২ দশমিক ৪৩ একর এবং সংলগ্ন গাবতলী উপজেলার পদ্মপাড়া মৌজায় তিন দশমিক ৭২ একর কৃষি জমি রয়েছে। করোনাকালে সরকার ঘোষিত লকডাউনের মধ্যে রমজানের শেষ দিকে ফরিদ উদ্দিন ওই দুটি মৌজার প্রায় পাঁচ বিঘা জমি দখলে নিয়ে পুকুর খনন শুরু করেন। তিনি তার মালিকানাধীন জমির পাশাপাশি রেলওয়ের জমিও অবৈধ দখলে নেন এবং এক্সক্যাভেটর দিয়ে পুকুর খনন অব্যাহত রাখেন।
সোমবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, এক্সক্যাভেটর দিয়ে খনন করা মাটিগুলো একাধিক ট্রাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কার নির্দেশে রেলওয়ের জমি খনন করা হচ্ছে জানতে চাইলে নিয়োজিত শ্রমিকরা দূরে রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ফরিদ উদ্দিনকে দেখিয়ে দেন। পরে ফরিদ উদ্দিনের কাছে গেলে নিজেকে স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষক পরিচয় দিয়ে জানান, তিনি ওই এলাকায় একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করতে চান। আর মাদ্রাসার খরচ বহনের জন্য নিজের মালিকানাধীন চার বিঘা এবং সংলগ্ন রেলওয়ের মালিকানাধীন ৩১ শতকসহ প্রায় পাঁচ বিঘা জমিজুড়ে পুকুর খনন করছেন। তার দাবি, রেলওয়ের যে জমি খনন করা হচ্ছে, সেটি তিনি লিজ নিয়েছেন। তবে রেলওয়ের কৃষিজমিতে এভাবে পুকুর খনন করা যায় কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রেলওয়ের মৌখিক অনুমতি নিয়েছি। তাদের অনুমতি নিয়েই পুকুর খনন করছি।’
বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থিত ফিল্ড কানুনগো অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত আমিন (সার্ভেয়ার) আব্দুর রাজ্জাক মঙ্গলবার জানান, তাদের জমিতে অবৈধভাবে কারও পুকুর খননের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তিনি কোনো ধরনের যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
বগুড়া রেলওয়ের আইওডব্লিউ বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (কার্য) আসলাম হোসেন বলেন, ঈদের ছুটির সময় এক ব্যক্তি রেলওয়ের জমি খনন করছিল বলে অভিযোগ পাওয়ার পর লোক পাঠানো হয়েছিল। তখন তাকে খনন বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। মঙ্গলবার বিকেলে আমি নিজে দুপুরে লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে ফরিদ উদ্দিন নামে এক কলেজ শিক্ষক রেলওয়ের দুই হাজার ৭০০ বর্গফুট জমি দখল করে খুঁড়েছেন। অন্যের নামে লিজ দেওয়া জমি দখল ও খননের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।