আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

দুর্গম চরাঞ্চলে ভয়াল যমুনা, চোখের সামনে বিলীন হচ্ছে জমি-বাড়িঘর

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে যমুনায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনে এ চরাঞ্চলের শত শত বিঘা ফসলি জমিসহ সহস্রাধিক বাড়িঘর যমুনার গর্ভে বিলীন হয়েছে। উপজেলার চর শিবালয়, আলোকদিয়া, বাতেনের পাড়া, আশ্রয়ণকেন্দ্রের হাট জুড়ান শেখের পাড়া, বারেক ডাক্তারের পাড়া, তিশুন্ডীসহ অন্তত ১০টি গ্রাম যমুনার ভাঙনের শিকার হয়েছে। নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড স্রোতে চার দিন ধরে ভাঙনের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশাল জায়গা নিয়ে প্রথমে ফাটল ধরছে, এরপর নদীতে যাচ্ছে জনপদ। বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। চোখের সামনে যমুনার এমন তাণ্ডবে আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয়দের। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো রাস্তার পাশে কোনোমতে আশ্রয় নিয়েছে। মানবেতর জীবন কাটছে তাদের। এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কেউ তাদের খোঁজখবর নিচ্ছে না।
সরেজমিন ঘুরে ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চরাঞ্চলের অন্তত ১০টি গ্রামের বেশির ভাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতে নদীপারের বিশাল স্থান দেবে যাচ্ছে। আলোকদিয়া এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারীরা তাদের ঘর সরিয়ে নেওয়ার সময়ও পাচ্ছে না। ভাঙনের তীব্রতায় অনেকে ঘর সরিয়ে নেওয়ার জন্য রাত-দিন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে নিজের বাড়িঘর নদীতে চলে যেতে দেখছে অনেকে। এই চরাঞ্চলের ছয়টি প্রাথমিক ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মুজিব কেল্লা, তিনটি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ চারটি হাট হুমকিতে পড়েছে। বর্ষার শুরুতে জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে বারবার জানানো হলেও কেউ ভাঙনরোধে ন্যূনতম ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

আলোকদিয়া এলাকার বারেক মোল্লা বলেন, ‘অনেক আগেই বাপ-দাদার জমিটুকু যমুনা গিলে খেয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্প গুচ্ছগ্রামে একটি ঘর পেয়েছিলাম। তাও এবার নদীতে ভেঙে গেল। এখন কোথায় যাব সেটাও বলতে পারছি না। একজনের বাড়িতে কোনোমতে মাচা করে সেখানে থাকার চেষ্টা করছি। আমাদের কেউ খোঁজখবর নিচ্ছে না। ‘

বৃদ্ধা মালেকা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘চোখের সামনে দেখছি গ্রামের পর গ্রাম নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। আমার ঘরের চালাটাও সরিয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছে। সকালে দেখছি অনেক দূরে নদী। ভাঙতে ভাঙতে সন্ধ্যাতেই দেখি তীর বাড়ির কিনারায়। আপাতত মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু পাচ্ছি না। এর ভেতর আবার বন্যার পানি আসছে। আমাদের দুঃখ কেউ শুনবে না। ‘ বলেই কান্না করতে থাকেন তিনি।

তেওতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘চরে জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা দরকার। আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানিয়েছি। ‘ সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বিত্তবানদের এ সকল ভাঙনকবলিত মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শিবালয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান বলেন, ‘চরাঞ্চলের ভাঙনের বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতনদের জানিয়েছি। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শতাধিক প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করেছি। আরো ত্রাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবগত করেছি। ‘

এ জাতীয় আরও খবর

পদ্মা সেতু: শিল্পের জন্য প্রস্তুত গোপালগঞ্জ

এখন যানবাহনের অপেক্ষায় ফেরি

ফেরিতে পাঁচ ভাগের এক ভাগে নেমে এলো ছোট গাড়ি

বাঁশখালীতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণ

মানিকগঞ্জে পদ্মা সেতুর লাইভ অনুষ্ঠানে অস্ত্র নিয়ে মহড়া, সাংবাদিক গ্রেপ্তার

উল্লাসে মেতেছে পদ্মা পাড়ের মানুষ

চার মাস না যেতেই উঠছে ৯ কোটি টাকার সড়কের পিচ

পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পিঠা উৎসব

নদী ভাঙা মানুষের বিলাপ

সাঁতরে মঞ্চে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলল কিশোরী

বঙ্গবন্ধুর শ্রেষ্ঠ উপহার স্বাধীনতা, আর প্রধানমন্ত্রীর শ্রেষ্ঠ উপহার পদ্মা সেতু : পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী

সেতুর উদ্বোধনে ফায়ার সার্ভিসের শোভাযাত্রা