আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

দেড় কোটির বাজেটে ৮ হলের সংস্কারকাজ কর্তৃপক্ষের ঢিলেমি জোড়াতালির কাজ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি আবাসিক হলের সংস্কারকাজ চলছে। গত ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই কাজ চলবে আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে এই কাজের গুণগত মান নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে দায়সারা কাজে সংশ্লিষ্টরা একে অন্যের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। আর অনিয়ম হলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষকে। যার সুযোগে দায়সারা কাজ করেই দিন পার করছেন ঠিকাদাররা।

জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় আঠারো মাস পর ক্যাম্পাস খোলার প্রস্তুতি হিসেবে ‘করোনা স্পেশাল ফান্ড’ গঠন করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাদ্দ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সেই তহবিল থেকে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পায় ইবি। অ্যাকাডেমিক ও আবাসিক খাতে সেই টাকা ব্যয়ের জন্য ১৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেন উপাচার্য। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ও প্রশাসন ভবন সংস্কারে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দের তিন মাসেরও বেশি সময় পর গত ২৭ সেপ্টেম্বর টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আলাদা আট ঠিকাদারকে কাজ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। গত ৪ অক্টোবর শুরু হয় সংস্কারকাজ। বরাদ্দ করা বাকি অর্থ বিভাগগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। এতে পুরনো বিভাগগুলো দুই লাখ এবং নতুনগুলো এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ পায়। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ হলেও সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হলগুলোতে ইলেকট্রিক্যাল, স্যানিটারি প্লাম্বিং, প্লাস্টার ও রঙের কাজ চলছে। ইলেকট্রিক ও প্লাম্বিংয়ের সংস্কারকাজে কমদামি সুইচ, বাল্ব, টিউবলাইট, শাওয়ার ও ট্যাপের কল ব্যবহার করা হচ্ছে। প্লাস্টার ও রঙের কাজের মান নিয়েও উঠেছে নানান প্রশ্ন। প্লাস্টারের জন্য শ্যাওলাযুক্ত দেয়াল পরিষ্কার করা হচ্ছে। কিন্তু কাঁচা দেয়াল শুকানোর আগেই প্লাস্টার ও রঙের কাজ করা হচ্ছে। দেয়ালে কমদামি রং ও সিলারের পরিবর্তে চুন ব্যবহার করা হচ্ছে। এমন দায়সারা কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা। প্রকৌশল দপ্তর ও হল কর্র্তৃপক্ষের অবহেলায় এমনটি ঘটছে বলে অভিযোগ করছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট হলের ঠিকাদাররা বলেন, তারা নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। সর্বক্ষণ তাদের সাব-কন্ট্রাক্টর কাজের তদারকি করছেন। তবু অসংগতি হলে ফের সেই কাজ করানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট নিলুফা বানু বলেন, ‘পণ্যের গুণগতমান ভালোভাবে যাচাই করা দরকার, কিন্তু প্রকৌশল দপ্তরের তদারকির কথা থাকলেও তারা সঠিকভাবে করছেন না। আমাদেরও সার্বক্ষণিক থাকার সুযোগ হয় না। ফলে ঠিকাদাররা তাদের মতো করেই কাজ করছেন।’

আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মুনশি শহীদ উদ্দীন মো. তারেক বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণে আমরা কাজগুলো ভালোভাবে তদারকি করতে পারছি না। সংশ্লিষ্ট হল-প্রভোস্টদের বিষয়টি তদারকির জন্য বলা হয়েছে। কিছু কাজে আমি নিজেও সন্তুষ্ট হতে পারছি না। অনিয়মের কথা এলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘ঠিকাদাররা চান বেশি লাভ করতে। তারা বিশ টাকার কাজ করে আশি টাকা লাভ করতে চান। কিন্তু আশি টাকার কাজ বুঝে নেওয়া প্রধানত প্রভোস্টদের কাজ।’

এ জাতীয় আরও খবর

মুরাদ হাসানের অনুষ্ঠানের বিতর্কিত উপস্থাপক কে এই নাহিদ রায়ান্স?

মুরাদকে গ্রেফতারের দাবিতে কুশপুত্তলিকা দাহ

অন্য এলাকায় হালকাসহ ভারী বৃষ্টি হতে পারে সিলেট-চট্টগ্রামে

যা আছে মুরাদ হাসানের পদত্যাগপত্রে

ভারতকে এস-৪০০ সরবরাহ শুরু করেছে রাশিয়া

ভৈরবে ২ খুনের মামলার আসামি সাফায়েত নৌকার প্রার্থী!

সোনারগাঁও প্রেসক্লাবের নির্বাচন ১৮ ডিসেম্বর

‘পদত্যাগপত্র লিখে মুরাদ হাসানের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয়েছে’

‘দেশে করোনা টিকা উৎপাদন শিগগিরই’

ওমিক্রনের সংক্রমণ ক্ষমতা বেশি হলেও মারণ ক্ষমতা কম: ফাউসি

গভীর সমুদ্রে তক্তার ওপর ১২ ঘণ্টা ভেসেছিলেন হাফিজ

কোম্পানিতে আসতে চান না বাস মালিকরা