আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

দৌলতদিয়ায় ঢাকামুখী যানবাহনের চাপ, রাতে শৃঙ্খলাহীন ঘাট

news-image

কয়েক দিন ধরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ অব্যাহত রয়েছে। দিনের বেলা ফেরিতে যানবাহন ওঠানামার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় থাকলেও রাতে সেই চিত্র পাল্টে যায়।

কে কার আগে ঘাটে পৌঁছাতে পারে, সেটি নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয় রাতে। এ সময় গাড়িগুলো নিয়ম ভেঙে ঘাটের সড়কে একাধিক লাইন বানিয়ে ফেলে। এতে মাঝেমধ্যে ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা বন্ধ হয়ে যেতে দেখা গেছে।

গতকাল বুধবার রাতে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, ঘাট স্বল্পতার কারণে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া উভয় ঘাট এলাকায় অন্তত পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার করে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী ছেড়ে আসা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী যানবাহনগুলোকে পাটুরিয়া ঘাটে যানজটে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে।

দ্রুত ঘাট পাওয়ার জন্য ছোট বা ব্যক্তিগত গাড়িগুলো ৫ নম্বর ঘাট সড়কে লাইন ধরে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে ৩ ও ৪ নম্বর ঘাটেও অন্যান্য গাড়ির সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন ছিল। এদিকে ফেরিতে ওঠার সংযোগ সড়কে নিয়ম ভেঙে চার-পাঁচ লাইন তৈরি হওয়ায় যানবাহন ওঠানামা অনেকটা বন্ধের উপক্রম।

ফরিদপুরগামী ব্যক্তিগত গাড়ির চালক আরমান হোসেন বলেন, কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন দেখে তিনি ভেতরের সড়ক দিয়ে ৫ নম্বর ঘাটের দিকে এসেছেন। তবে সেখানে অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর ফেরি না পেয়ে ৪ নম্বর ঘাটে আসেন। এই ঘাটের সংযোগ সড়কে গাড়ির চার-পাঁচ লাইন তৈরি করে জটলা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ফেরিতে ওঠানামায় অনেক সময় লাগছে।

একটি বেসরকারি পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মইনুল হোসেন জানান, দিনের বেলায় ঘাট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু সন্ধ্যা পার হলেই ঘাটের কোনো শৃঙ্খলা থাকে না। কে কার আগে ফেরিতে উঠবে, এটা নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়।

একইভাবে দৌলতদিয়ায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ঘাট থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটারজুড়ে যানজট দেখা যায়। নদী পাড়ি দিয়ে দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ঘাটে নামার পরই বিশৃঙ্খলা চোখে পড়ে। ফেরি থেকে নামার পর কোনোভাবে ঘাটের সংযোগ সড়ক পার হলেও টার্মিনাল এলাকা থেকেই ঢাকামুখী যানবাহনের দীর্ঘ লাইন ছিল। এর মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, কাঁচা ও মাছের গাড়ি, যাত্রীবাহী বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও ব্যক্তিগত গাড়ি দেখা যায়।

রাজবাড়ীগামী ব্যক্তিগত গাড়ির চালক মহির উদ্দিন শেখ বলেন, ফেরিঘাট থেকে গোয়ালন্দ আসতে মাত্র পাঁচ মিনিট লাগে। কিন্তু ঘাটের মুখে কয়েক লাইন তৈরি হওয়ায় ওই রাস্তা যেতে ১ ঘণ্টার মতো সময় লাগছে।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন এলাকা পার হয়ে বাংলাদেশ হ্যাচারিজের সামনেও একই চিত্র দেখা যায়। এ সময় যশোর থেকে আসা পণ্যবাহী একটি ট্রাক লাইন অতিক্রম করে আরেক লাইনে ঢুকে যাওয়ায় জটলা বেধে যায়। ওই ট্রাকচালক মো. মনির হোসেন বলেন, ‘এটা কাঁচামালের গাড়ি। এই গাড়ি সবার আগে ফেরিতে ওঠার নিয়ম। আমার আগে আরও কয়েকটি গাড়ি এভাবে ঢুকিয়ে দিয়েছে। তাই আমিও আগে যাওয়ার জন্য লাইন ভাঙছি।’

গ্রিনলাইন পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক নুরুজ্জামান মিয়া বলেন, সন্ধ্যার পর সবজি ও মাছের গাড়িচালকদের কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। রাতে কেউ কোনো নিয়ম মানতে চায় না।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) আবদুস সাত্তার বলেন, নদীর নাব্যতা কমতে থাকায় পাটুরিয়ার ৫টি ঘাটের মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ঘাট গত কয়েক দিন ধরে ড্রেজিংয়ের কারণে বন্ধ রাখা হচ্ছে। ঘাট দুটি চালু হতে কয়েক দিন সময় লাগবে।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটের কাছে একটি পকেট বন্ধ রেখে ড্রেজিং শুরু হওয়া কথা রয়েছে। এই নৌপথে ছোট-বড় মিলে ১৯টি ফেরি চলাচল করছে। বাংলাবাজার-শিমুলিয়া রুট বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া এবং পাটুরিয়ায় বাড়তি চাপ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঘাটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ জাতীয় আরও খবর