আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

দ্রুত এগিয়ে চলছে বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর কাজ

যমুনা নদীর উপর দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ। বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে দিনরাত দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধায়নে এগিয়ে চলছে ৪.৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ডুয়েল গেজ, ডাবল ট্র্যাকের সেতুর কাজ। মোট ৫০টি পিয়ারের মধ্যে ১০টি পিয়ারের পাইলিং কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সেতুটি বাস্তবায়ন হলে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারবে।
১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালুর মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকার সাথে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ চালু হয়। তবে ২০০৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ফাটল দেখা দেওয়ায় কমিয়ে দেওয়া হয় ট্রেনের গতি। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩৮টি ট্রেন ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে পারাপার হওয়ায় সময় অপচয়ের পাশাপাশি শিডিউল বিপর্যয়ে বাড়ছে যাত্রী ভোগান্তি।

আর এ সমস্যা সমাধানে সরকার যমুনা নদীর উপর আলাদা একটি রেল সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে নির্মিত হচ্ছে দেশের মেগা প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু। সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে নদীর দু’প্রান্তে দুটি ভাগে দেশি, বিদেশি প্রকৌশলী আর কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে চলছে এ সেতুর নির্মাণ কাজ। বড় বড় ক্রেনের সাহায্যে সেতুর প্রথম পর্যায়ের পাইলিং এর কাজ চলছে এখন। ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাকের এ সেতুটি নির্মিত হবে মোট ৫০টি পিয়ারের উপর। ইতোমধ্যে ১০টি পিয়ারের পাইলিং কাজ শেষ হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট আবু ইউসুফ সূর্য জানান, এ সেতুর মাধ্যমে যাত্রী সেবার মান বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসা বাণিজ্যেরও দ্রুত প্রসার ঘটবে।

এদিকে প্রকল্প পরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত রেল সেতুর কাজের অগ্রগতি ৩৪ শতাংশ। এটি চালু হলে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারবে।

আর নিদিষ্ট সময়ের মধ্যেই রেল সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে জানালেন রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন।

২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে এ রেল সেতুর নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। জাপান এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে রেল সেতু প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করছে জাইকা।