আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

ধনী হতে গিয়ে খুইয়েছেন কোটি টাকা জিনের বাদশাকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সিআইডির

ছোট একটি খাবারের দোকান থেকে বড় রেস্টুরেন্টের মালিক হয়েছিলেন শাহাদুজ্জামান খোকন। প্রতি মাসে ছিল কয়েক লাখ টাকা আয়। কিন্তু আরও ধনী হতে চেয়েছিলেন তিনি। এরই মধ্যে রেস্টুরেন্টের নিয়মিত কাস্টমার আবদুল খালেক খানের কাছে সন্ধান পান কথিত ‘জিনের বাদশা’র। প্রলোভন আর কৌত‚হল থেকে তিনি একটি বালতি কিনে আনেন। পানি আর টুথপেস্ট ভর্তি সে বালতি থেকে চোখের পলকে ১৫ হাজার টাকা আবিষ্কার করেন জিনের বাদশা। তখন খোকনের লোভ আর কৌত‚হল বাড়তে থাকে। ৬ কোটি টাকা বানানোর জন্য খোকন আর খালেক ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা দেন জিনের বাদশাকে। সর্বশেষ আরও ২ লাখ টাকা জোগাড়ে খোকন বউয়ের গয়না বিক্রি করতে গেলে বিপত্তি বাধে। স্ত্রী রেগে টাকা বানানোর বাক্স ভেঙে ফেলেন। তা থেকে বেরিয়ে আসে শুধু কাগজ। তারা বুঝতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরে তারা সিআইডিতে অভিযোগ করলে জিনের বাদশা তরিকুল ইসলামসহ চারজন গ্রেফতার হন। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক। গ্রেফতার অন্য তিনজন হলেন আবদুুল্লাহ বিশ্বাস, আল মাসুম, সাইদুল ইসলাম ওরফে রাজু। তাদের থেকে একটি প্রাইভেট কার, ১৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, দুটি ভেকু, টাকা তৈরির সাদা কাগজসহ বাক্স, মাজারের মাটি, লাল কালিতে আরবি লেখা কাগজ জব্দ করা হয়। সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, ভুক্তভোগী আবদুুল খালেকের স্ত্রী ও সন্তান দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। এর মধ্যে পরিচয় হয় কথিত জিনের বাদশা তরিকুলের সঙ্গে। যোগাযোগের একপর্যায়ে জিনের বাদশা খালেকের স্ত্রী-সন্তানের চিকিৎসা শুরু করেন। ওষুধে তারা কিছুটা সুস্থ হন। সুস্থ হওয়ার পর জিনের বাদশার প্রতি খালেকের বিশ্বাস জন্মে।

জানানো হয়, তাদের যত টাকা দরকার তত টাকা জিনের বাদশা তৈরি করে দিতে পারবেন।

প্রমাণ হিসেবে জিনের বাদশা খালেকের সামনেই একটি বালতির মধ্যে রাখা সাদা কাগজে ১ হাজার টাকার চকচকে নোট তৈরি করে দেন। আরও বেশি বিশ্বাস জন্মানোর জন্য খালেক জিনের বাদশাকে বলেন, আপনি কিছু পুরনো টাকা তৈরি করে দেখান। এরপর তিনি ওই বালতির মধ্যে কিছু পুরনো নোটসহ ১৫ হাজার টাকা তৈরি করে দেখান। ম্যাজিকের মতো এমন ঘটনা দেখে খালেকের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়।
সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, খালেক ও খোকনের চাহিদা অনুযায়ী ৬ কোটি টাকা জিনের বাদশা তৈরি করে দিতে চান। তবে তার শর্ত পৃথিবীতে যত মসজিদ আছে সব মসজিদে একটি করে কোরআন শরিফ কিনে দিতে হবে। কোরআন শরিফগুলো কিনতে ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লাগবে। চাহিদার ৬ কোটি টাকা একটি কার্টনে সাদা কাগজ দিয়ে তৈরি করে দেবেন জিনের বাদশা।

তার কথায় বিশ্বাস করে বাজার থেকে ৬ কার্টন এ-ফোর সাইজের সাদা কাগজ কিনে আনেন তারা। কাগজ কিনে আনার পর জিনের বাদশা বলেন, আপনারা যত দিন কোরআন শরিফ কেনার জন্য ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা দিতে পারবেন না, তত দিন কার্টনটি খোলা যাবে না। এ কথায় বিশ্বাস করে আবদুল খালেক কার্টনটি নিয়ে ঘরের এক কোনায় রেখে দেন।

সিআইডির কর্মকর্তা আরও বলেন, জিনের বাদশার এমন প্রলোভনে আবদুল খালেক দফায় দফায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা জিনের বাদশাকে দেন। খোকন দেন আরও ৫৩ লাখ টাকা। ১ কোটি ৬৬ লাখ হতে আরও ২ লাখ বাকি থাকে। তখন খোকনের স্ত্রী রেগে গিয়ে কার্টন ছিঁড়ে শুধু কাগজ দেখতে পান। বুঝতে পারেন তারা প্রতারিত হয়েছেন। প্রতারক চক্রের বিষয়ে ভুক্তভোগী সিআইডিতে অভিযোগ দিলে ফাঁদ পেতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

ভুক্তভোগী খোকন বলেন, ‘প্রলোভন আর কৌত‚হল থেকে সবকিছু বিক্রি করে প্রতারক চক্রকে টাকা দিয়েছিলাম। গাড়ি, জমিসহ সব সম্পদই বিক্রি করেছিলাম। বাকি ছিল স্ত্রীর গয়না। গয়নাগুলো যখন বিক্রি করতে যাই তখন স্ত্রী রেগে কাগজভর্তি কার্টন ছিঁড়ে ফেলেন। তখন দেখতে পাই শুধু কাগজ!’

এ জাতীয় আরও খবর

ঈশ্বরদী রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রিমান্ড শেষে কারাগারে রাগীব আহসান

বিদ্যালয়ের জমি বেদখল, দোকানের ছাদে পাঠদান

স্বর্ণালঙ্কারের জন্য খুন করা হয় সাবেক প্রধান শিক্ষককে

দুই ট্রেন মুখোমুখি, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন কয়েকশ যাত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতিসংঘের ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’ প্রদান

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি ,উপকরণ ও বাইসাইকেল বিতরণ

ময়মনসিংহে পাচারের সময় ভিজিডির ৮৪ বস্তা চাল জব্দ

কয়েক সেকেন্ডেই তালা খোলে চক্রটি, টার্গেট কর্পোরেট অফিস

প্রতারণার ফাঁদে ফেলে শতাধিক গাড়ি চুরি, দুই প্রতারক গ্রেফতার

মিরপুরে এসএসসির ডুপ্লিকেট সার্টিফিকেট, আতংকে শিক্ষার্থীরা

করোনায় আরও ২৬ জনের মৃত্যু