আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

নদীর উপর আওয়ামী লীগ নেতার বহুতল ভবন!

news-image

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পাইনাদী এলাকায় কংসনদী দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা। রহস্যজনক কারনে স্থানীয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।

সরেজমিনে সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পাইনাদি তেরা মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নামধারী নেতা আনোয়ার হোসেন ওরফে চুনা আনোয়ার কংস নদীর একাংশ বালু দিয়ে ভরাট করে দু’পাশে দুটি বহুতল ভবন নির্মাণ করে দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করে আসছেন। নদীর উপর দিয়ে অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করে দুই ভবনে যাতায়াত করেন বসবাসকারীরা। কংস নদীটি একশ ফুট চওড়া থাকলেও তার দুই ভবনের মাঝখানে দশ থেকে বারো ফুট নদীর জায়গা রয়েছে। বাকি নদীর জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ করে দিব্যি বসবাস করছেন তিনি। এতে ওই নদীতে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় ওই এলাকায়। দিনের পর দিন পানি জমে থাকায় মশামাছির উপদ্রপসহ নানা অসুখ বিসুখে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পাইনাদী এলাকার বাসিন্দা আজহার চৌধুরী কালের কণ্ঠকে জানান, কংসনদীটি এক’শ ফুট চওড়া ছিলো। নদীতে এখানকার বাসিন্দারা পাট ভিজাইতেন। এই পথ দিয়ে ধান-পাট বোঝাই নৌকা চলাচল করত। কী সুন্দর পানি ছিলো নদীর টলটল করত। দখলের কারনে নদীটি এখন মৃত্যু প্রায়। নদীটি পুনরায় খনন ও পুনরুদ্ধারের দাবি জানান তিনি।

আইনুল হক নামে এক বাসিন্দা কালের কণ্ঠকে জানান, নদীর এক দিকে বিশ ফুট চওড়া আর অন্যদিকে দশ ফুট ও তার কোথাও কোথাও তার থেকে কম কিভাবে এমনটা হয় বুঝে আসে না। প্রভাবশালী হওয়ায় এমন অবস্থা বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, নদীটি এখন খালে পরিনত হয়েছে। পানি চলাচল না করায় মশামাছির উপদ্রব বেড়েগেছে আমাদের এলাকায় তাছাড়া বাসাবাড়ির ময়লা আবর্জনা খালে পড়ায় দূর্গন্ধে অতিষ্ট হয়ে পড়েছি আমরা। এতে ডেঙ্গুর উপদ্রপ বেড়ে যেতে পারে আমাদের এলাকায়।

আবদুল করিম নামে এক বাসিন্দা বলেন, এই যে রাস্তা দেখতেছেন ১৩০ ফুট, এর কাছাকাছি ছিলো নদীটি। নদীর দুই পাশে যে বাড়িঘর হয়েছে সব নদীর জায়গায় হয়েছে।

একই এলাকার বাসিন্দা খোকন মিয়া জানান, এ নদীর পানি দিয়ে গোসল করার পাশাপাশি রান্নাবান্নাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হতো। আর এখন নদীর পাশ দিয়ে যেতে হলে নাকে রুমাল দিয়ে যেতে হয়। দখলদাররা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় প্রশাসনের সাথে ম্যানেজ করেই টিকিয়ে রেখেছে তার দখলদারিত্ব। ফলে কেউ তাদের ভয়ে মুখ মুখছেন না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন ওরফে চুনা আনোয়ার বলেন, নদী দখল করে আমি বাড়ি নির্মাণ করিনি। সরকারি ভাবে মাপের পর নদীর জায়গা ছেড়ে আমি ভবন নির্মাণ করেছি। কোন ভাবেই আমি নদী দখল করেনি।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের এক নাম্বার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুক বলেন, কংসনদীটির যখন প্রশাসন সীমানা প্রাচির দিয়েছি তখন সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে স্থানীয় কাউন্সিলর হিসেবে আমাকে রাখা হয়নি। তিনি বলেন, অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি নদীটি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করে বসবাস করছেন। যে যার মতো করে সীমানা নির্ধারণ করে নদীটি দখল করে রেখেছে। নদীটির দখল হওয়া জায়গা উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই কাউন্সিলর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াসিন মিয়া জানান, আনোয়ার হোসেন ওরফে চুনা আনোয়ার নামে কোন ব্যক্তি আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কোন কমিটি নেই। যদি কোন ব্যক্তি আমাদের দলের নাম ভাঙ্গিয়ে সরকারি নদী দখল করে মানুষের দূর্ভোগ বাড়ায় তাহলে ওই সকল ব্যক্তির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুস্তাইন বিল্লাহ কালের কণ্ঠকে জানান, যারা কংস নদী দখল করে ভবন নির্মান করে দখল করে রেখেছে তারা যতই শক্তিশালী হউক না কেন তাদেরকে উচ্ছেদ করে নদী উদ্ধার করা হবে। আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি নদীর জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। প্রমাণ পেলে তাকে খুব শিগগিরই উচ্ছেদ করা হবে।