আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

নদীর বালু নদীতেই

news-image

নাব্য অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বরিশাল নৌ-বন্দর সচল রাখতে এবারো লক্ষাধিক ঘনমিটার পলি অপসারণ করে নদীতেই ফেলা হচ্ছে। গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মূল টার্মিনাল এলাকার পলি অপসারণ করে তা কীর্তনখোলার মধ্যভাগ থেকে পূর্ব প্রান্তে অপসারণ করা হয়।
যেকারণে কীর্তনখোলা নদীর নৌ-বন্দরের দক্ষিণ অংশের বিশাল এলাকার তলদেশ ক্রমশ উঁচু হয়ে যাচ্ছে। গত ২৫ বছরে এ বন্দর থেকে প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ করে কীর্তনখোলাতেই ফেলা হয়েছে। ফলে কীর্তনখোলা নদী নগরীর ড্রেন ও খালের পানি গ্রহণ করতে পারছে না। এমনকি বন্দরের মূল অংশের অপসারিত পলি কীর্তনখোলার মধ্যভাগে অপসারণ করায় দক্ষিণপ্রান্তে ভাটারখাল, চাঁদমারী খাল ও সাগরদী খাল থেকে শুরু করে দপদপিয়া পর্যন্ত নগরীর সঙ্গে সংযুক্ত সবগুলো খালের মোহনাও অনেকটাই উঁচু হয়ে যাওয়ায় নগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, গত ২৫ বছর ধরে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ ভাগ থেকেই বরিশাল নৌ-বন্দরে নাব্য সঙ্কট শুরু হয়। বিআইডব্লিউটিএ প্রতিবছরই অক্টোবরের মধ্যে বন্দরে ড্রেজিং শুরু করে। এবারো অক্টোবরের শেষভাগ থেকে নাব্য উন্নয়নে ড্রেজিং শুরু হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং পরিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী এমএ মতিন জানান, বরিশাল বন্দর সচল রাখতে এবারও এক লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ করা হবে। তবে বন্দরের সামনের পলি নদীতেই অপসারণ করায় কীর্তনখোলার তলদেশ উঁচু হয়ে যাবার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে মডেল স্ট্যাডি করলেই সমাধান সূত্র মিলতে পারে।
সূত্রমতে, গত প্রায় ২৫ বছর ধরে শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে এ বন্দরে ড্রেজিং করা হলেও কোন ‘মডেল স্ট্যাডি’ করে স্থায়ী সমাধান খোঁজা হয়নি। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিআইডব্লিউটিএসহ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোন অগ্রগতি হয়নি। কয়েক মাস অগে বরিশাল সার্কিট হাউসে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর নাব্যতা নিয়ে জরিপ সংক্রান্ত এক অবহিতকরণ সভায়ও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এমনকি বরিশাল নদী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পেও কীর্তনখোলা নদীর নাব্য নিয়ে একটি মডেল স্টাডির কথা থাকলেও পরে আর তা হয়নি। নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবছর লক্ষাধিক ঘনমিটার পলি এ নদী বন্দরের সামনে ও পূর্বপ্রান্তে কীর্তনখোলা নদীতে অপসারণ করায় তা নদীর প্রবাহ থেকে শুরু করে নগরীর জন্য নতুন সঙ্কট তৈরি করতে শুরু করেছে। প্রতিবছরই বন্দর সচল রাখার নামে এ ড্রেজিং সাময়িকভাবে বন্দরকে নাব্য রাখতে সহায়তা করলেও কীর্তনখোলার প্রবাহসহ এ নদীর একটি বড় এলাকার নাব্যতাসহ নগরীর পয়ঃনিষ্কাশনে দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষতি বয়ে আনছে। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান প্রকৌশলী মোঃ নুরুল ইসলাম সরকার বলেন, বরিশাল নৌ-বন্দরের বিষয়টি ক্রমেই সমস্যা তৈরি করতে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র সঙ্গে কথা বলতে বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কীর্তনখোলার তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় নগরীর ড্রেন ও খালের পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেঁসে গেছেন তিন কর্মকর্তা চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরে শুদ্ধি অভিযান শুরু

রাঙ্গাবালীতে দুই ড্রেজারচালকের জেল, ৭ শ্রমিকের ৫ লাখ টাকা জরিমানা

বাঁচতে চায় মা হারা অবুঝ শিশু তানহা

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় পারাপারের অপেক্ষায় ৭ শতাধিক গাড়ি

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে দুর্নীতি দুদকের মামলা থেকে বাঁচতে ব্যাংকে টাকা জমা

অনিশ্চয়তা নিয়েই চালু হলো শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি ফেরি

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কমিশন ১১ টি নির্দেশ।।

রূপগঞ্জে শিক্ষানবিশ আইনজীবীর বাড়িতে হামলা – ভাংচুর

মানিকগঞ্জ জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ দুজন গ্রেফতার

মুরাদ হাসানের অনুষ্ঠানের বিতর্কিত উপস্থাপক কে এই নাহিদ রায়ান্স?

মুরাদকে গ্রেফতারের দাবিতে কুশপুত্তলিকা দাহ