আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

নাটোরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

news-image

নাটোরের ২ উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে। তবে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়া, দিঘাপতীয়া ইউপিসহ আরও কয়েকটি ইউপিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া এবং কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের টলটলিয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী কবির হোসেনের এজেন্টরা ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে চাইলে লাঠিসোঁটা নিয়ে নৌকার কর্মীরা তাঁদের বের করে দেন। এজেন্টদের বের করে দেওয়ার পর থেকে ‘বাটাম বাহিনী’ হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত একটি দল ভোটকেন্দ্রের উত্তর পাশের সড়কে অবস্থান নেয়।
এ সময় তাঁরা ঘোড়া ও আনারস প্রার্থীর সমর্থকদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দিচ্ছিল বলে জানা গেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টের অভিযোগ, ভোটকেন্দ্রে পুলিশ সদস্যরা থাকলেও তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেননি।

তবে সকাল নয়টার দিকে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রিয়াঙ্কা দেবী পালের নেতৃত্বে বিজিবির স্ট্রাইকিং ফোর্স ওই কেন্দ্রে আসার পর বাটাম বাহিনী গা ঢাকা দেয়। পরে কবির হোসেন তাঁর এজেন্টদের ডেকে এনে আবার কেন্দ্রে বসিয়ে দেন। এ সময় কবির হোসেন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁর কয়েক এজেন্টকে হাজির করলে কেন্দ্র থেকে তাঁদের বের করে দেওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ করেন।

প্রিয়াঙ্কা দেবী পাল বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগের খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টদের আবার কেন্দ্রে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আর কোনো সমস্যা হবে না।’
এদিকে কেন্দ্রে দায়িত্বরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রের ভেতরে কেউ এজেন্টদের বের করে দেয়নি। বাইরে কিছু হয়েছে কি না, সেটি তাঁরা জানেন না।

সদর উপজেলার দিঘাপতীয়া ইউনিয়নের করোটা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলামের এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। সকালে ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়ায় তাঁরা কেন্দ্রের বাইরে চলে এসেছেন।
তবে কেন্দ্রে দায়িত্বরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, এজেন্ট ঢুকতে না দেওয়ার কোনো অভিযোগ তাঁরা পাননি।
এদিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ কেন্দ্রেও নৌকার কর্মীদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আছলাম হোসেন বলেন, এজেন্ট ও ভোটারদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে কোনো প্রার্থী ফোনে যেকোনো অভিযোগ জানালে সেটিও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নেই একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে। এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ জন পুলিশ ও ১২ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।