আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

নারায়ণগঞ্জে মানছে না স্বাস্থ্যবিধি, বাড়ছে সংক্রমণ-মৃত্যুর শঙ্কা

news-image

নারায়ণগঞ্জ ফিরেছে করোনা-পূর্ববর্তী সময়ের রূপে। সড়কে তীব্র যানজট। মার্কেট, ফুটপাত ও যানবাহনে উপচেপড়া ভিড়। এসব যানজট-ভিড়ের মাঝে অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। বেশিরভাগই মাস্কবিহীন চলাচল করছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্বাস্থ্যবিদরা।

স্বাস্থ্যবিদ ও সচেতন মহল বলছে, সরকারের বিধিনিষেধ চলার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় কিছুটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছে বেশিরভাগ মানুষ। কিন্তু বিধিনিষেধ শিথিলের পর স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছেন না অনেকেই।
গত তিন দিন ধরে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া এলাকায় দেখা গেছে, পথচারীদের অনেকেই মাস্ক পরেননি। কারও থুতনিতে মাস্ক ঝুলছে। কেউবা হাতে রেখে দিয়েছেন। কেউবা গলায়, কেউ-কেউ কানে ঝুলিয়ে রেখেছেন। তাদের কারও মধ্যেই নেই করোনার ভীতি। নেই কোনো শঙ্কাও। আর এসব দেখারও যেন কেউ নেই।

জীবন-জীবিকাকে গুরুত্ব দিলেও জীবন বাঁচানোর সুরক্ষায় মাস্ক ব্যবহারে উদাসীন বেশিরভাগ মানুষ। শপিংমলে বা মার্কেটে ৮০ ভাগ ক্রেতা-বিক্রেতাই মাস্ক পরেন না। গণপরিবহনে যাত্রী, চালক ও হেলপারদেরও একই অবস্থা। নগরীর ১নম্বর গেট এলাকার যানবাহনগুলোতে যারা চলছেন, তাদের অনেকেই মাস্ক পরেননি। এছাড়া অধিকাংশ বাসের হেলপার ও চালকও মাস্ক পরেননি।

মাস্ক না পরে বাস চালাচ্ছিলেন ‘বাঁধন’ পরিবহনের একজন চালক। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমনিতে যানজটের মধ্যে গরমে থাকতে হয়। মাস্ক পরলে আরও গরম লাগে। সে জন্য খুলে রাখছি।’
কালিবাজার ফ্রেন্ডস মার্কেট ও ডিআইটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতা-বিক্রেতা অনেকের মুখে মাস্ক নেই। কেনাকাটা করতে আসা আফসানা বেগম বলেন, ‘অনেকে মাস্ক না পরে ঘোরাফেরা করছেন। এটা ঠিক নয়। কারণ, ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়, তা বলা যায় না। নিজেদেরই সচেতন থাকতে হবে।’ আরেকজন ক্রেতা রেদোয়ান আহমেদ। তার মুখেও ছিল না মাস্ক। কেন মাস্ক পরেননি, জানতে তিনি বলেন, ‘বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আনতে ভুলে গেছি।’

চাষাড়ার শপিংমলগুলো ঘুরে দেখা গেছে, এসব শপিংমল ও মার্কেটে যারা এসেছেন, তাদের বেশিরভাগের মুখে মাস্ক নেই। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য সমবায় মার্কেট, সায়াম প্লাজা, পারোনামা প্লাজা, হক প্লাজা, মার্ক টাওয়ার, জামান টাওয়ারে ছিল না কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা। মার্কেটগুলোর সামনে এখন আর চোখে পড়ে না জীবাণুনাশক টানেলের। দুই-একটিতে টানেল থাকলেও সেগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে না।
দোকান মালিক সমিতির কমিটির একজন সদস্য মাসুদুর রহমান খসরু বলেন, ‘যারা স্বাস্থ্যবিধি যারা মানবেন না, তাদের কাছে পণ্য বিক্রি না করার জন্য দোকান মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রতি ঘণ্টায় স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য মাইকিং করে সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে।’

কয়েকদিন ধরে নারায়ণগঞ্জে বাড়ছে সংক্রমণ। এতে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘যদি মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়, তাহলে সংক্রমণ দ্রুত কমে আসবে।’

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল বাসার বলেন, ‘মানুষ যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাতে করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে। এতে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া আশঙ্কা রয়েছে।’
এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন মো. ইমতিয়াজ বলেন, ‘সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসারে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। লকডাউন তুলে নেওয়ার পর এটাই এখন করোনা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।’ স্বাস্থ্যবিধি না মানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। তবে নিজেদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে।’

এই বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জাহিদুল আলম বলেন, ‘সবাই যেন মাস্ক পরে চলাফেরা করেন, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।’

এ জাতীয় আরও খবর