আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কমিশন ১১ টি নির্দেশ।।

নূরুল আজিজ চৌধূরী নারায়নগঞ্জঃ
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বিতরণ গতকাল রবিবার (৫ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থীদের ১১টি নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন।
প্রার্থীদের প্রতি নির্দেশনায় রয়েছে, প্রতিটি ওয়ার্ডের সিডির মূল্য ৫০০ টাকা। এই সিডির জন্য সোনালী ব্যাংকের নির্দিষ্ট কোড নম্বর দিয়ে ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে মেয়র পদের জন্য ১৩ হাজার ৫০০ টাকা, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের জন্য ১৫০০ টাকা ও সাধারণ কাউন্সিলর পদের জন্য ৫০০ টাকা জমা করে মূল চালান প্রদান করতে হবে। জামানতের টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে বা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। মেয়র পদের জন্য জামানত লাগবে ৩০ হাজার টাকা। মেয়র পদে সর্বোচ্চ নির্বাচনি ব্যয় ২০ লাখ টাকা। সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের জামানত ১০ হাজার টাকা। ১, ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৮ নং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ নির্বাচনি ব্যয় ৬ লাখ টাকা। ২ ও ৭নং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ নির্বাচনি ব্যয় ৪ লাখ টাকা। ৯নং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয় ২ লাখ টাকা। ১, ৮, ১৩ নং সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে প্রার্থীদের জামানত লাগবে ৩০ হাজার টাকা। এই ৩টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সর্বোচ্চ নির্বাচনি ব্যয় ৪ লাখ টাকা। ২, ৩, ৪, ৬, ৯, ১১, ১২, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ২১, ২২ ও ২৩ নং ওয়ার্ডের জামানত লাগবে ২০ হাজার টাকা। এসব ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সর্বোচ্চ নির্বাচনি ব্যয় ২ লাখ টাকা। ৫, ৭, ১০, ১৯,২০, ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের জামানত লাগবে ১০ হাজার টাকা। এসব ওয়ার্ডে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয় ১ লাখ টাকা।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সদ্য তোলা প্রার্থীর ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি জমা দিতে হবে। ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সম্পাদনকৃত হলফনামা (প্রার্থীর সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের সত্যায়িত কপি) জমা দিতে হবে। নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহ করার সম্ভাব্য অর্থপ্রাপ্তির উৎসসমূহ ও সম্ভাব্য ব্যয়ের বিবরণী দাখিল করতে হবে। ১২ ডিজিটের টিআইএন সনদের কপি এবং সম্পদ বিবরণী অবিকল নকল সংবলিত সর্বশেষ দাখিলকৃত আয়কর রিটার্নের রসিদের কপি সংযুক্ত করতে হবে। নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের জন্য একটি তফসিলিভুক্ত ব্যাংকে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলাসহ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সিøপ দাখিল করতে হবে। প্রার্থী, সমর্থনকারী এবং প্রস্তাবকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ভোটার তালিকার সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় চিহ্নিত করে অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে। রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর ক্ষেত্রে দলের মনোনয়ন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে নাসিকের ৩০০ জন ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা জমা দিতে হবে।
এছাড়া মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় ২ সেট ফটোকপিও জমা দিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ৩০ নভেম্বর দুপুরে নির্বাচন কমিশন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শতভাগ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৫ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২০ ডিসেম্বর এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৭ ডিসেম্বর।
নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিস নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনার জন্য একজন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৯ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার। রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মতিয়ুর রহমান, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান, বন্দর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল কাদির, সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আফরোজা খাতুন, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ইউসুফ উর রহমান, জেলা কার্যালয়ের নির্বাচন কর্মকর্তা প্রতিভা বিশ্বাস, আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সুলতানা এলিন, কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ, ডেমরা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা আল-আমিন। মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল মিমাংসার জন্য আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।