আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

নির্মাণাধীন সেতু ধসের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

রাঙামাটিতে নির্মাণাধীন সেতু ধসের ঘটনায় ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী ২ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও এ নিয়ে মামলা হয়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাঙামাটির আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কের বড়াদম মোরঘোনা এলাকায় সেতু ধসের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় রফিক নামে এক নির্মাণ শ্রমিক নিহত ও ১৭ জন আহত হন।

জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল থেকে ওই সেতুর নির্মাণ কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। সেতুর উভয় দিকে নির্মাণ শেষ করে মাঝখানে সংযুক্ত স্প্যানের ওপর ঢালাই কাজ চলছিল। সেল্টারিংয়ের ওপর চালানো হচ্ছিল মিক্সার মেশিন। আর সেল্টালিং কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল স্থানীয় কাঠের খুঁটি। ঢালাইয়ের এক পর্যায়ে মিক্সার মেশিনের কম্পনে মেশিনসহ সেতুর স্লাব ধসে যায়। এতে হতাহতের ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার সময় কাজে নিয়োজিত শ্রমিক সুমন ও সোলায়মান বলেন, আমরা সকাল ৮টা থেকে ঢালাইয়ের কাজ করছিলাম। একপর্যায়ে সেতুর স্লাবের ফ্রেমটি মিক্সার মেশিনসহ ধসে যায়। মেশিনের নিচে চাপা পড়ে রফিকের মৃত্যু ও কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনায় নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে দোষারোপ করে স্থানীয়রা বলছেন, এতবড় সেতু ঢালাইয়ের সেন্টারিং কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল স্থানীয় কাঠের খুঁটি। ফলে অল্প ঝাঁকুনিতে সেল্টারিং ধসে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রমিকদের অসাবধানতাকে দায়ী করে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসএস ট্রেডার্স মালিক মো. জসিম বলেন, মূলত শ্রমিকদের অসাবধানতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। মিক্সার মেশিনটি সেন্টারিংয়ের ওপর তুলে না চালালে এটি ঘটত না। মেশিনটির কম্পনের ফলে স্লাবের ফ্রেম ফিলার ক্যাপ থেকে সরে গিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহত রফিকের দাফনের খরচ বহন করেছি।

এছাড়া আহত সবার চিকিৎসার খরচ দিচ্ছি। কাজের সময় এ ধরনের ঘটনা কারও কাম্য নয়। কিন্তু ভাগ্য খারাপ। এতবড় দুর্ঘটনা আমাকে মারাত্মকভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ভেঙে পড়া স্লাব উদ্ধার করে তা আবার স্থাপন করতে আমার আরও অতিরিক্ত ৩০-৪০ লাখ টাকা ব্যয় করতে হবে।

ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের কমিটি কাজ করছে বলে জানান, এলজিইডির রাঙামাটি নির্বাহী প্রকৌশলী আহামদ শফি।

তিনি বলেন, এ কমিটি ২ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। কাজ চলছে। শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল গিয়ে সরেজমিন তদন্ত হয়েছে। আমাদের প্রাথমিক তদন্ত বলছে ঠিকাদারের দুর্বলতার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে; যা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে স্পষ্ট জানা যাবে।

এলজিইডির চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত প্রকৌশলী এনামুল হকের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, রাঙামাটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুর রশিদ খান ও নির্বাহী প্রকৌশলী আহামদ শফি।

এছাড়া ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদুল ইসলাম ও রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ওসি কবির হোসেন। তবে এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি।

ওসি কবির হোসেন বলেন, মামলা হলে ঘটনার দ্রুত তদন্ত করবে পুলিশ।

এ জাতীয় আরও খবর

নারায়নগঞ্জে ৪১৪ জন শিক্ষককের আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম

দৌলতদিয়ায় ৭ ফেরিঘাটের ৪টিই বিকল, যানবাহনের দীর্ঘ সারি

পানির নিচে পন্টুন, ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি

ছাত্রদল করা সন্তানের জনক হলেন থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি

যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

চাঁদপুরের ডিসিকে বদলি, তিন জেলায় নতুন ডিসি

গাফফার চৌধুরী আর নেই

প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ভূমি দখলের পাঁয়তারার অভিযোগ

কুমিল্লার মানবজমিন প্রতিনিধিসহ সারাদেশের সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে সোচ্চার রূপগঞ্জ প্রেসক্লাব ॥ প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন-বিক্ষোভ মিছিল

চাকরির নামে টাকা আত্মসাৎ গ্রেপ্তার ২

মহাসড়কে গাছ ফেলে ডাকাতি করতো তারা, গ্রেফতার ৬

বনের ভেতর সিসা তৈরির কারখানা, হুমকির মুখে পরিবেশ