আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

নৌ পুলিশের বিরুদ্ধে বৈধ জাল জব্দ, বিক্রি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

ভোলার মেঘনা নদীর জেলেরা বরিশাল মেহেন্দীগঞ্জ নৌ পুলিশের বিরুদ্ধে বৈধ জাল জব্দ, বিক্রি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন। নৌ পুলিশের অত্যাচার-নির্যাতনের বিচার দাবি করে জেলেরা ভোলা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।

আজ রোববার দুপুরে ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুর ও পূর্ব-ইলিশা ইউনিয়নের জেলেদের স্বাক্ষরিত অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ তৌফিক ই-লাহী চৌধুরী বলেন, তিনি পুলিশ সুপার ও ডিআইজিকে বিষয়টি জানিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলবেন।
জেলেরা লিখিত অভিযোগে বলেন, জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনের মতো গত শুক্রবার (১২ নভেম্বর) ভোরে সদর উপজেলার রাজাপুর ও পূর্ব-ইলিশা ইউনিয়নের জেলে নিরব মাঝি, ছগির মাঝি, ছিদ্দিকুর রহমান, মহসিন মাঝি, হালানি মাঝি, পান্নু মাঝি, আবদুল খালেকসহ সাতজন জেলে বৈধ ছান্দিজাল নিয়ে মাছ ধরতে যান। মাছ ধরতে ধরতে তাঁরা মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ মেঘনার সীমানায় প্রবেশ করেন। এ সময় মেহেন্দীগঞ্জ নৌ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আল আমিনের নেতৃত্বে ৭-৮ জন পুলিশ সদস্য জেলেদের ৬টি জাল জব্দ করেন। এসব জালে অনেক মাছ ছিল।

জেলেরা জানান, এক–একটি বৈধ ছান্দিজালের দাম ২ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ১৪ লাখ টাকার জাল জব্দ করেছে নৌ পুলিশ। কিন্তু এসব জাল বৈধ। জালগুলো ছেড়ে দিতে পুলিশ নগদ এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু জেলেদের মহাজনেরা (আড়তদার) ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। চাহিদামতো চাঁদা না দেওয়ায় নৌ পুলিশের মাঝি জালগুলো তুলে নিয়ে যায়। পরে জেলেরা অনুনয়-বিনয় করতে করতে পুলিশের পিছু পিছু যান। গিয়ে দেখেন, নৌকার মাঝিরা জালগুলো থানা বা নৌক্যাম্পে না নিয়ে উপজেলার লালখারাবাদ মাছঘাটে নিয়ে আড়াই লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয়।
জেলেরা আরও জানান, মহাজন ও বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে এসব জাল বানিয়েছেন। মাছ বিক্রি করে তাঁরা ঋণ পরিশোধ করবেন এবং সংসার চালাবেন। কিন্তু নৌ পুলিশ জাল নিয়ে বিক্রি করে দেওয়ায়, এখন ওই ৬টি নৌকার ৬৫ জন জেলে ও তাঁদের স্ত্রী–সন্তানেরা অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

জেলেরা আরও জানান, মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে নৌ পুলিশ নামার পর থেকে জেলেদের ওপর নির্যাতন বেড়েছে। তাঁরা বিনা কারণে চাঁদাবাজি করছে। বৈধ-অবৈধ সব জাল জব্দ করছে। অবৈধ জাল পোড়ালেও বৈধ জাল বিক্রি করে দিচ্ছে। এসব অত্যাচার–নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তি পেতে জেলেরা ভোলা জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগপত্র জমা দিয়ে নৌ পুলিশের বিচার দাবি করেছেন।

ভোলা সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন বলেন, ‘নৌ পুলিশের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পেয়েছি। তারা মৎস্য বিভাগ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ছাড়াই নদীতে অভিযান করছে। যার কোনো বৈধতা নেই।’

মেহেন্দীগঞ্জ নৌ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আল আমিন মুঠোফোনে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁরা নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুকুর রহমানের নির্দেশে অভিযানে নেমেছেন। কারণ, তাঁদের প্রতিদিন এক লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করতে হয়। ১২ নভেম্বর ১ লাখ ২০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ২০ কেজি জাটকা জব্দ করেছেন। পরে জালগুলোতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেঁসে গেছেন তিন কর্মকর্তা চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরে শুদ্ধি অভিযান শুরু

রাঙ্গাবালীতে দুই ড্রেজারচালকের জেল, ৭ শ্রমিকের ৫ লাখ টাকা জরিমানা

বাঁচতে চায় মা হারা অবুঝ শিশু তানহা

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় পারাপারের অপেক্ষায় ৭ শতাধিক গাড়ি

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে দুর্নীতি দুদকের মামলা থেকে বাঁচতে ব্যাংকে টাকা জমা

অনিশ্চয়তা নিয়েই চালু হলো শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি ফেরি

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কমিশন ১১ টি নির্দেশ।।

রূপগঞ্জে শিক্ষানবিশ আইনজীবীর বাড়িতে হামলা – ভাংচুর

মানিকগঞ্জ জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ দুজন গ্রেফতার

মুরাদ হাসানের অনুষ্ঠানের বিতর্কিত উপস্থাপক কে এই নাহিদ রায়ান্স?

মুরাদকে গ্রেফতারের দাবিতে কুশপুত্তলিকা দাহ