আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

পটুয়াখালীতে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের টাকা দেননি ইউপি চেয়ারম্যান

news-image

জাকির হোসেন (৩৫) শারীরিক প্রতিবন্ধী। এ বছর ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে টাকা পাচ্ছেন, তিনি এ কথা আগেই জেনেছিলেন। এলাকার ইউপি সদস্য তাঁর কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে গেছেন। তাঁর নামে ৪৫০ টাকা এসেছে এবং ঈদের আগেই তাঁর হাতে সেই টাকা দেওয়ার কথা। ঈদের আগের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন, কিন্তু তিনি উপহারের টাকা পাননি।

জাকির হোসেনের বাড়ি পটুয়াখালীর সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরতকীবাড়িয়া গ্রামে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ঈদের আগে তিন দিন ধরে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের বারান্দায় ঘুরেছেন, কিন্তু তিনি এখনো টাকা পাননি।
ওই গ্রামের হতদরিদ্র রওশনারা বেগমের (৪৫) নামও উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার তালিকায়। তিনি বলেনন, তিনি ও তাঁর স্বামী দিনমজুরি করেন। ঘরে তাঁদের চার মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। করোনার কারণে এমনিতেই তেমন কাজ নেই। অভাব–অনটনে চলছিল তাঁদের সংসার। ঈদের আগে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলে সন্তানদের জন্য ভালো কিছু কিনে এনে খাওয়াতে পারতেন বলে আক্ষেপ করেন রওশনারা।

শুধু প্রতিবন্ধী জাকির কিংবা রওশনারা বেগমই নন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ছোট বিঘাই ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী পক্ষ থেকে বরাদ্দ হওয়া ৪৫০ টাকা হারে তালিকাভুক্ত ৪ হাজার ১৩ জনের কাউকেই টাকা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঈদের আগের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ইউনিয়নের ৬ জন ইউপি সদস্য পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারের হাতে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের টাকা তুলে দিতে পারেননি বলে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন।

প্রেসক্লাবে উপস্থিত ৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোসা. হোসনে আরা বেগম বলেন, তিনি তিনটি ওয়ার্ডের তালিকা তৈরি করে চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিয়েছেন। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ৭০ জনের নাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউ টাকা পাননি।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জালাল খান বলেন, তাঁর ওয়ার্ড থেকে তালিকা করে চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া হয়েছে। ঈদের আগে সবাইকে ৪৫০ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নগুলোতে ইতিমধ্যে এই টাকা প্রদান করায় তাঁরা বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন।
ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফারুক হাওলাদার বলেন, ‘ঈদের আগেই দরিদ্র পরিবারগুলোর হাতে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা সব প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। ইউপি চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে টাকা দেওয়া যায়নি। ঈদের আগে উপহারের টাকা পেলে এই দরিদ্র পরিবারগুলো ভালোভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারত।’

জানতে চাইলে ছোট বিঘাই ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার বলেন, আসলে ইউপি চেয়ারম্যান তালিকা তৈরি করেন এবং তারিখ নির্ধারণ ও অবহিত করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত থেকে এই অর্থ সঠিকভাবে বিতরণ করা হয় কি না, তা মনিটরিং করবেন। তবে ছোট বিঘাই ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী ঈদ উপহার ৪৫০ টাকা এখনো দেওয়া হয়নি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ছোট বিঘাই ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলতাফ হাওলাদার বলেন, ‘ইউপি সদস্যরা আমার বিষয়ে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেছেন, তা সঠিক নয়। ঈদের আগেই টাকাটা বিতরণের কথা ছিল। ব্যাংকে থেকে খুচরা টাকা দিতে না পারায় টাকা উত্তোলন করা হয়নি। টাকা ব্যাংকে রয়েছে। ঈদের পর টাকা উত্তোলন করে তালিকাভুক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।’

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঈদ উপহার অবশ্যই ঈদের আগে প্রদান করার কথা। কেন দেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।