আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

পটুয়াখালীতে মহিলা এমপির ক্ষমতার অপব্যবহার! ‘টক অব দ্য টাউন’

news-image

পটুয়াখালীতে মহিলা এমপির ব্যক্তিগত গাড়ি বাসায় ঢুকানোর জন্য প্রতিবেশীদের সুরোম্য ভবনের দেয়াল, বাসার সিড়ি, পাকা ভিটা ভেঙ্গে রাস্তা প্রশস্ত করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পটুয়াখালী পৌরসভা কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেনি। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যহারের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের মহিলা এমপি কাজী কানিজ সুলতানা হেলেনের বিরুদ্ধে। এনিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমপির ক্ষমতা অপব্যবহারের এ ঘটনা পটুয়াখালী শহরের মানুষের মুখে মুখে ‘টক অব দ্যা টাউন’। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকেও এর তোলপাড় চলছে। জানা গেছে, পটুয়াখালী শহরে সবুজবাগের ৮নং লেনের বাসিন্দা মহিলা এমপি কাজী কানিজ সুলতানা। সংসদ সদস্য হওয়ার পর তার ব্যক্তিগত গাড়িটি সরু লেন দিয়ে বাসায় ঢুকছিল না। ওই লেনের প্রবেশ মুখে আকর্ষনীয় ডিজাইনের হ্যাপী ম্যানর ভবনের পার্কিংয়ে এমপির গাড়িটি রাখার সুযোগ করে দেন ভবন মালিক জাকির হোসেন। কিন্তু মহিলা এমপি তার গাড়িটি বাসায় রাখার জন্য ব্যক্তিগত সুবিধার্থে লেন প্রশস্ত করতে পৌরসভাকে বারবার তাগিদা দিয়ে আসছেন। লেনটি খুবই সরু। গাড়ি চলাচলের জন্য লেনটি কমপক্ষে ১০ফিট প্রশস্ত করতে হ্যাপী ম্যানর ভবনের গার্ডেন লাগোয়া ব্যক্তিগত জমিতে করা দেয়াল, সিড়ি, পাকা ভিটি ভাংচুর করতে হবে। এতে ওই লেনের বাসিন্দারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে। একারণে রাস্তা বড় করা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্ধে পড়ে যায় পৌরসভা । এ লেন উভয় পাশের বাসিন্দাদের ছেড়ে দেওয়া জায়গার উপর করা হয়েছে। এই লেনে পৌরসভার নিজস্ব কোন জায়গায় নেই। তবে বাসিন্দাদের আবেদেনের প্রেক্ষিতে পৌরসভা লেনটি সংস্কার করে আসছে। পটুয়াখালী পৌরসভা সংশ্লিষ্টরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সবুজবাগের ৮ নং লেনটি ১০ ফিট প্রশস্ত করতে গেলে অনেকের ব্যক্তিগত জমিতে করা দেয়াল, সিড়ি, পাকাভিটি ভাঙ্গতে হবে। তারা ব্যাপক ক্ষতির মধ্য পড়বেন। শুধু এমপির গাড়ি চলাচলের সুবিধার করে দেওয়ার জন্য পৌরসভা এই ভাংচুরে হাত দিতে চায়নি। কিন্তু এমপির তরফ থেকে এটি করতে তাদের উপর চাপছিলো। সম্প্রতি জেলাপ্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমম্বয় সভায় এমপি কাজী সুলতানা হেলেন রাস্তা না করে দেয়ার অভিযোগ তোলেন পটুয়াখালী পৌরসভার বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, পটুয়াখালীর মেয়র সাহেব আমার বাসার লেনের কাজ ধরছে না। এরপর তড়িগড়ি করে কাজটিতে হাত দেয় পৌরসভা। ৮ নং লেনের বাসিন্দাদের কোন ধরণের নোটিশ না দিয়ে (আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে) পৌরসভা লেন প্রশস্ত করতে ভাংচুর শুরু করে। ভাংচুরের মধ্যে এমপির বাসা পড়লেও সেটিতে হাত দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় এলাকায় দেখা দেয় এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এব্যপারে পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দন আহমদের বক্তব্যে জানার জন্য তার সাথে একাধিক বার ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছে। কখনো তার ফোন ব্যস্ত পাওয়া গেছে। আবার রিং হলেও ফোন রিসিভ ব্যাক কোন টিই করেননি তিনি। এই কাজে নিয়োজিত পটুয়াখালী পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার আবদুল আউয়াল শুক্রবার রতে ৮নং লেনের কাজ অন্য একজন প্রকৌশলী দেখভাল করছেন। আমিও এ সাইট ঘুরে দেখেছি। কাজ শুরুর আগে বাসিন্দাদের কোন নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তা আমি (আউয়াল) জানি না। এই লেন প্রশস্ত করা নিয়ে কাজী কানিজ সুলতানা হেলেন এমপির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যহারের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে শুক্রবার এমপি হেলেন বলেন, পটুয়াখালী পৌরসভা আধুনিক শহর গড়তে শহরের বিভিন্ন সড়কে উন্নয়নের কাজ করছে। এজন্য তারা সড়ক প্রশস্তকরণ করেছে। কোথাও ১০ ফিট বা কোথাও ১২ফিট প্রশস্ত করছে। সবুজবাগের ৬ নং লেনে রাস্তা প্রশস্তের জন্য জায়গা (বাসা ও ওয়াল) ছেড়ে দিয়েছে। একইভাবে আমাদের ৮নং লেনেও পৌরসভা প্রশস্ত করছে। এটা পৌরসভার রুটিন কাজ, সেখানে আমার ক্ষমতা দেখানোরতো কোন সুযোগ নেই। যেহেতু এই রোডে এমপির বাসা সেকারণে অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে উঠবে। এখানে মন্ত্রীর বাসা থাকলেও তার বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ উঠতো। তিনি বলেন, ৮নং লেনের প্রবেশ মুখে হ্যাপী ম্যানর ভবনের দেয়াল ভাঙ্গা পড়েছে। তারা পৌরসভার জায়গার মধ্যে ওয়াল করেছে। পৌরসভা সেটা ভেঙ্গে দিয়েছে। এখানে আমার তো কোন কিছু করার নেই।ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও এম্বুলেন্স প্রবেশের জন্য রাস্তা বড় করা দরকার। সবার জন্য। ওই ফ্ল্যাট বাড়ির মালিক জাকির হোসেন আমাকে অকারণে ভুল বুঝে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটা দু:খজনক। একদিকে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শুরুর বিষয়ে কিছু জানেন না দাবি করেন এমপি হেলেন। অথচ সম্প্রতি জেলাপ্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমম্বয় সভায় তার রাস্তার কাজ না জন্য পৌরসভার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। এর জবাবে এমপি কাজী সুলতানা হেলেন বলেন, ৮নং লেন চলাচল অনুপযোগী। বৃষ্টির পানিতে প্রায়শ: ডুবে থাকে। এজন্য লেনটির কাজ শুরু করতে বলেছি। এর বেশি কিছু না। ৮ নং লেনের প্রশস্তকরার কাজে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন হ্যাপী ম্যানর এর মালিক জাকির হোসেন বলেন, এটা শুধু ওই লেনের বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কানা গলি। ওই লেন দুই পাশের ভবন মালিকদের ব্যক্তিগত জায়গায়। এই লেনের রাস্তা চওড়া হবে কিনা? হলে কতো টুকু হবে সে সিদ্ধান্ত নেবেন মালিকরা। কারো একক ইচ্ছায় দুই পাশের মালিকাদের স্থাপনা ক্ষতবিক্ষত করার অধিকার কারো নেই। কিন্তু এটা করা হচ্ছে একক সিদ্ধান্তে গায়ের জোরে। সবার মতামত উপেক্ষা করে। তিনি বলেন, আমার ভবন আমার ব্যক্তিগত জায়গায়। গার্ডেনের পরেও যে দেড়ফুট জায়গা খালি রাখা হয়েছে। সে জায়গাও আমার ব্যক্তিগত। গার্ডেন না ভেঙ্গে ওই জায়গা টুকু (প্রায় ৫০-৬০ফিট লম্বা) রাস্তার কাজে লাগালে আমার কোন আপত্তি ছিলো না। কিন্তু আমার জায়গায় করা বাগান আমার অনুমতি ছাড়া যা ভেঙ্গ ফেলা হয়েছে তা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। গাড়ি ঢুকানোর জন্য অনুমতি ছাড়া কারো স্থাপনা ভেঙ্গে দেয়ার অধিকার সরকার কাউকে দেয়নি। এমপির বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে জাকির হোসেন বলেন, এটা ভিত্তিহীন অভিযোগ। দলীয় মহিলা এমপি কাজী কানিজ সুলতানা হেলেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ সম্পর্কে মোবাইল ফোনে জানতে চাওয়া হলে শুক্রবার বিকেলে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কাজী আলমগীর বলেন, তার (হেলেন) কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছি। তাকে বলেছি, বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী নিজের বাসা পর্যন্ত রাস্তা নেয়ার জন্য নুরু মিয়ার বাড়ী ভেঙ্গে দিয়েছে। সেটা পটুয়াখালীবাসী আজও ভোলেনি। একই ভাবে আপনি (এমপি) বাসা পর্যন্ত গাড়ি ঢুকানোর জন্য ক্ষমতার অপব্যহার করে প্রতিবেশীদের দেয়াল (ওয়াল) ভেঙ্গেছেন কেন? এমপি হেলেন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, বললেন তিনি। দলের সাধারণ সম্পাদক ভিপি আবদুল মান্নানের উপস্থিতিতেই তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম। মহিলা এমপি আমাদের কাছে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেক সরব আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর