আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

পাটুরিয়া ঘাটে বিআইডব্লিউটিসির মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজি

news-image

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে অতিরিক্ত টাকা ছাড়া মিলছে না বিআইডব্লিউটিসির ফেরির টিকেট এমনটি অভিযোগ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৈা রুটে চলাচলরত ট্রাক চালকদের। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত জেলার গুরুত্বপূর্ণ নৌ রুট পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট। আর এ ঘাটেই চালক, যাত্রী এবং পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।সরকার কর্তৃক রশিদে যে টাকা দেওয়া থাকা তার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা না দিলে দেওয়া হয় না ফেরির টিকেট। আর এ অতিরিক্ত টাকার কোন সীমাবদ্ধতা নেই। ঘাটের যানজটের অবস্থা বুঝে চাঁদাবাজির দাবি ৩০০ থেকে ৩ হাজার পর্যন্ত উঠে। সোমবার (২৪ আগস্ট) ইত্তেফাকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এ অনিয়মের চিত্র। দুপুর ২ টার দিকে টিকেট কাউন্টারে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে টিকেট বিক্রি করছিলেন বিআইডব্লিউটিসির অফিস সহকারী হাসেম। সাংবাদিক দেখে ট্রাক চালককে টাকা ফেরত দিয়ে দ্রুত কাউন্টার ত্যাগ করেন। পরে দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সুপারেন্টেড গোলাম মোস্তফার সাথে কথা বলতে গেলে প্রতিবেদকে টাকা দেওয়ার ম্যানেজ করা হয়।

গোলাম মোস্তফাকে প্রশ্ন করলে তিনি এই অনিয়মের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমার চাকরির বয়স ত্রিশ বছরের বেশি। ১৯৬৭ সাল থেকে এখানে এভাবেই হয়ে আসছে। চালকরা খুশি হয়ে আমাদের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে থাকে যা আমরা সবাই মিলে ভাগ করে নেই।’

পরিবহনে কিছুটা শিথিলতা থাকলেও দুর্ভোগ চরমে পণ্যবাহী ট্রাকে চালকদের। সিরিয়ালে ঢুকানো, স্কেল, টিকিট পাওয়া থেকে শুরু করে সকল জায়গায় ভোগান্তি আর উৎকোচ দিয়েও যেন রেহাই পাওয়া যায় না এদের থেকে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এর অসাধু কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে ঘটছে টিকিট কাউন্টারে অনিয়ম ও দুর্নীতির এই অভিযোগ বছরের পর বছরের। উচ্চ মহলের নজরদারিতে দুই একদিন ভালো থাকলেও সারা বছর চলে এ অনিয়ম।

বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন, পানি বৃদ্ধি, তীব্র স্রোত, শুষ্ক মৌসুমে নাব্যতা সংকট, শীতের মধ্যে থাকে ঘনকুয়াশা, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, কখনো অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ। এ সকল সমস্যা না থাকলেও তখন থাকে ফেরি স্বল্পতা। তাছাড়া ফেরির দুর্বল ইঞ্জিন, ভাঙা পন্টুন, ঘাট নড়াচড়া, ড্রেজিং সংকট। এই সংকটকে পুঁজি করে বিআইডব্লিউটিসির অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে টিকিট প্রতি নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। ছোট মালবাহী গাড়ি প্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং বড় মালবাহী গাড়িতে ৪০০ থেকে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত।

বিআইডব্লিউটিসি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় গড়ে এই রুটে ৫ থেকে ৮ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। এর ভেতর মালবাহী ট্রাকের সংখ্যা ৫০০ থেকে ৮০০। সেই হিসেবে প্রতি মাসে পাটুরিয়া ঘাটে কয়েক কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয় বলে ধারনা করা হচ্ছে।প্রতিদিন এ রুট থেকে সরকার প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব পেলেও যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে স্থায়ীভাবে তেমন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বললেই চলে। এ নিয়ে যাত্রী এবং শ্রমিকদের ভেতরে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে গতকাল (সোমবার) দুপুরে বিআইডব্লিউটিসির টিকিট কাউন্টারে গিয়ে দেখা গেছে, টিকিট কাউন্টারে মানা হয় না সিরিয়াল। বোর্ডেও লেখা হয় না। যার কাছ থেকে যত বেশি নিতে পারছে তাকেই আগে টিকিট দেওয়া হচ্ছে। কাউন্টারে দেখা গেছে শত শত শ্রমিকের টিকিট পেতে উপচে পরা ভিড়। নেই সামাজিক দূরত্বের লেশ মাত্র। খোলা মাঠ, মাথার ওপর প্রখর রোদ এর মধ্যেই দাঁড়িয়ে আছে টিকিটের অপেক্ষায়। কেউবা দুই ঘণ্টা কেউ বা তারও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছে। মালবাহী বড় গাড়িতে ১ হাজার ৪৬০ টাকার টিকিটে নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকা। মালবাহী ছোট গাড়ি ৭৬০ টাকার স্থলে নেওয়া হচ্ছিল ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। উপস্থিতি টের পেয়ে কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত টাকা এবং টিকিট দেওয়া কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখে।

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রাক ড্রাইভার আসলাম বাবু বলেন, ‘সকাল ৮টায় আমি ঘাটে এসে পৌঁছেছি। নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছি এখন দুপুর হয়ে গেছে এখনো টিকিট পাই নাই। যারাই টিকিট নিচ্ছে সবার কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩০০-৪০০ টাকা নিচ্ছে। ২০০ টাকা বেশি দিছিলাম নেয় নাই।’

ট্রাক ড্রাইভার শাহিনুর বলেন, ‘এই রুটে আট বছর যাবৎ যাতায়াত করি। অতিরিক্ত টাকা ছাড়া কখনো ঘাট পার হইছি এমন হয় নাই। না চাইতেই আমরা ৬০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দেই। তাতে হয়না এদের। ২০০, ৫০০, ১ হাজার যখন যা নিতে পারে। টাকা দিব না টিকেট দিবে না। তাদের তো সমস্যা না। পেছনের মানুষ আগে টিকিট নিয়ে যাবে। এই এখানকার নিয়ম, অন্যকোন ঘাটে এদের মত এত খাই খাই নেই।

সরকারি বিআরটিসির একাধিক চালকের সাথে কথা বললে তারা বলেন, ‘আমরা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত আছি। সরকারি গাড়ি চালাই আমাদেরও কোন ছাড় নাই। ঘাটে আসলে ঘুষ দিয়ে টিকিট নিতে হইব জানি। এখন ঘুষ দিয়েও টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। ৪ ঘণ্টা যাবৎ টিকিট কাউন্টারে ঘুরছি, টিকিট নাই।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এর মানিকগঞ্জ শাখার এজিএম তানভীর আহমেদ বলেন, ‘আমাদের কাছে কোন গ্রাহক অভিযোগ করেনি। ওপরে আমাদের অভিযোগ নাম্বার দেওয়া আছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ জাতীয় আরও খবর

শেখ রাসেলের জন্মদিনে ৫৮ কেজি ওজনের কেক কাটলেন মেয়র জাহাঙ্গীর

বিনা ভোটে নির্বাচিত হচ্ছেন ১৮ চেয়ারম্যান

‘প্রশাসনে বাংলাদেশি যেমন আছে, অসংখ্য পাকিস্তানিও আছে’

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের আহ্বান

শিশু শ্রমে নির্মাণ হচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর

পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় মতবিনিময়

বিএনপি-জামায়াত বা তৃতীয় শক্তির জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পীরগঞ্জে জেলে পল্লিতে হামলার প্রতিবাদে দিনাজপুরে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

উপকূলে ৩নং সতর্ক সংকেত, দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা

‘শেখ রাসেল স্বর্ণ পদক’ বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

কোন শিশুকে যেন রাসেলের ভাগ্যবরণ করতে না হয়: প্রধানমন্ত্রী

ফতুল্লায় মিশুক চালককে হত্যার দুই ঘাতক গ্রেপ্তার