আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

পাটুরিয়া হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কর্মস্থলে ফেরার যুদ্ধ

news-image

ঈদ শেষে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষজন পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট হয়ে ফিরতে শুরু করেছেন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে ফিরতে গিয়ে পথে-ঘাটে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।পাটুরিয়া ঘাটে দেখা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কর্মস্থলে ফেরার যুদ্ধ। দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে প্রতিটি ফেরিতে গাদাগাদি করে মানুষজন আসছেন পাটুরিয়ায়। স্বাস্থ্যবিধির কোনও তোয়াক্কা করছেন না তারা। ঘাটে এসেই তারা গুমড়ি খেয়ে পড়ছেন পরিবহনের জন্য।

গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও পাটুরিয়া থেকে গাবতলী পর্যন্ত সেলফি, নীলাচল ও যাত্রীসেবা পরিবহন এবং প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, এম্বুলেন্সসহ ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহনে যাত্রীরা যাচ্ছেন যে-যার গন্তব্যে। আর এই যাওয়ার পথে তাদের ভাড়া গুনতে হচ্ছে অনেকগুণ বেশি।

যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকা ফিরতে গিয়ে পথে-ঘাটে তাদের অনেক বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে, পাটুরিয়া ঘাট থেকে ঢাকায় যেতে জনপ্রতি ৫শ’ থেকে হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। বাস চালক ও শ্রমিকরা ভাড়া নিয়ে এরকম নৈরাজ্য চালালেও দেখার কেউ নেই । এছাড়া বাসে এক সিটে একজন বসার নিয়ম থাকলেও সেটাও মানছেন না পরিবহন শ্রমিকরা। প্রতিটি বাসে গদাগাদি করেই যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি বলা হলেও প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস চলছে ভাড়ায়। প্রাইভেটকারে পাঁচ থেকে ছয় জন যাত্রী এবং মাইক্রোবোসে কমপক্ষে ১৫ জন যাত্রী চলাচল করছেন।

এদিকে পথে ঢাকামুখী যাত্রীবাহী সব বাস ঘুরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। এতে করে অল্প কিছুটা পথ পায়ে হেঁটে আবার ঢাকা জেলার গাড়িতে করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে যাত্রীদের। এতে করে অধিক ভোগান্তিতে নারী এবং শিশুরা। রবিবার মধ্যরাত থেকে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চলাচলের বিধান থাকলেও যাত্রী বোঝাই করে চলাচল করছে জেলা ভিত্তিক বাস। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

নুরজাহান নামে এক গার্মেন্টস কর্মী জানালেন, রাস্তাঘাট ও ফেরি পারাপারে ভোগান্তি হয় বলে আরও দুই দিন ছুটি থাকার পরও আগেভাগেই কর্মস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। ফেরিঘাটে ভোগান্তি না হলেও ভেঙে ভেঙে আসদে গিয়ে বাস পরিবর্তন করায় বেশ ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি।

করিম শেখ নামে এক দোকান শ্রমিক বলেন, ‘পাবনার আতাইকুলা থেকে কাজিরহাট হয়ে ফেরিতে করে আরিচা ঘাটে আসেন তিনি। ৬০ টাকার ভাড়া দুইশ’ টাকা দিয়ে আরিচা থেকে নবীনগরের উদ্দেশে রওয়ানা করেন তিনি, কিন্তু বারবারিয়া বাসস্ট্যান্ডের অনেক আগেই বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে দেয় পুলিশ। এখন গাট্টি বোচকা কাঁধে নিয়ে অপর বাসের দিকে রওয়ানা হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন।

এসব বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকা জেলায় গণপরিবহন চলাচলের কোনও সুযোগ নেই। যে কারণে জেলা পুলিশের লোকজন বিষয়টি কঠোরভাবে দেখভাল করছে।’

গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রীর বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম রুহুল আমিন জানান, মহাসড়কের টেপড়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন তিনি। এছাড়া পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এসি ল্যান্ডের মোবাইল কোর্ট রয়েছে। এরই মধ্যে চারটি যানবাহনে মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি কঠোরভাবে দেখভাল করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম জিল্লুর রহমান জানান, ঈদফেরত মানুষ ও যানবাহন পারাপারের ১৭টি ফেরি সচল রাখা হয়েছে। তবে পাটুরিয়া থেকে ফেরিগুলো কার্যত খালি যাচ্ছে দৌলতদিয়া ঘাটে। সেখান থেকে কয়েক মিনিট পর পর ফেরিগুলো যাত্রী ও যানবাহন ভরপুর করে পাটুরিয়া ঘাটে আসছে। প্রতিটি ফেরিতে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, জরুরি পণ্যবাহী পরিবহন ও অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ির সঙ্গে মানুষের চাপ অনেক বেশি থাকছে। যাত্রী ও মানুষের চাপ থাকলেও কোনও ধরনের যানজট নেই বলে জানান ওই কর্মকর্তা।