আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

পুরনো রূপে দৌলতদিয়া, পারের অপেক্ষায় সহস্রাধিক গাড়ি

news-image

কঠোর লকডাউন শিথিল ঘোষণায় পুরনো চেহারায় ফিরতে শুরু করেছে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া ঘাট। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দক্ষিণের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা হতে নদী পার হওয়ার জন্য দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আসতে শুরু করে শত শত কোরবানির পশুবাহী, পণ্যবাহী ট্রাক এবং যাত্রীবাহী বাস। এতে যথাসময়ে পার হতে না পেরে ঘাট এলাকায় অনেক যানবাহন নদী পারের অপেক্ষায় আটকে পড়ছে।

একইভাবে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা হতে লঞ্চ ও ফেরিযোগে ঘরমুখো বহু মানুষ ফিরতে শুরু করেছে। তাদের পদচারণায় ঘাট এলাকা মুখরিত। কিন্তু মানুষের ভিড়ে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। মাস্কও দেখা যায়নি অনেকের মুখে।

ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলছে ছোটবড় মিলিয়ে মাত্র ১৫টি। এ অবস্থায় হঠাৎ করে যাত্রী ও যানবাহন সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ঘাট এলাকায় মহাসড়কে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে প্রচণ্ড রোদ ও ভ্যাপসা গরমে আটকে থেকে যাত্রীরা অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। পাশাপাশি ট্রাকে থাকা গরুগুলো নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন মালিক ও ব্যাপারীরা।

সরেজমিন বেলা ১১ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘদিন পর স্বরূপে ফিরেছে দৌলতদিয়া ঘাট। বিগত কয়েক মাস দৌলতদিয়া ঘাটে নদীপারের জন্য কোনো যানবাহনকে মহাসড়কে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়নি। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেই পুরনো দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। ফেরির জন্য প্রতিটি যানবাহনকে মহাসড়কে অপেক্ষা করতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়।

বেলা ৩টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারিজ পর্যন্ত ৩ কিলোমিটারজুড়ে দুই সারিতে সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে লাইনের দৈর্ঘ্য।

এদিকে দৌলতদিয়া ঘাটের ওপর চাপ কমাতে ১৩ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ মোড় নামক এলাকায় পুলিশ অপচনশীল মালবোঝাই গাড়িগুলোকে আটকে দিচ্ছে। সেখানেও অন্তত ৩ কিলোমিটার সারি সৃষ্টি হয়েছে। সব মিলিয়ে এ প্রান্তে ৬ কিলোমিটার সারিতে প্রায় সহস্রাধিক গাড়ি নদী পারের অপেক্ষায় আটকে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

অপরদিকে প্রচণ্ড রোদ-গরমে আটকে পড়া অধিকাংশ গরু অসুস্থ হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় গরুর ট্রাকে থাকা ৮-১০ জন করে রাখাল হাতপাখা দিয়ে অবিরাম গরুগুলোকে বাতাস করে চলেছেন।

এ সময় যশোর থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী আলম শিকদার, মাগুরার আব্দুল ওহাব, কুষ্টিয়ার আব্দুল গফুরসহ অনেকেই বলেন, তারা লাখ লাখ টাকার গরু নিয়ে ভালো দাম পাওয়ার আশায় ঢাকায় যাচ্ছেন। কিন্তু দৌলতদিয়া ঘাটে এসে ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রচণ্ড রোদ-গরমে অধিকাংশ গরু কাহিল হয়ে পড়ছে। কেননা এসব গরু খুব একটা কষ্ট সইতে পারে না। এ অবস্থায় হিটস্ট্রোকে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তা হলে তাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।

গোপালগঞ্জ থেকে আসা বাসচালক মো. দুলাল পাটোয়ারী জানান, তিনি প্রায় ২ ঘণ্টার ওপর ঘাটের দীর্ঘ সিরিয়ালে আটকে আছেন। এতে যাত্রীরা অধৈর্য হয়ে পড়ছেন। কিন্তু কিছুই করার নেই। জানি না কখন ফেরির নাগাল পাব।

কুষ্টিয়ার গরু ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর বেপারিসহ অনেকেই জানান, লাখ লাখ টাকার গরু নিয়ে তারা বেশি দামে বেচার আশায় ঢাকায় যাচ্ছেন। কিন্তু দৌলতদিয়া ঘাটে এসে ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। এসব গরু তো খুব বেশি কষ্ট সহিষ্ণু না। ফলে গরুগুলো প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এ কারণে যদি একটি গরুর কোন দুর্ঘটনা ঘটে তা হলে ওই ব্যবসায়ীর অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।

গোয়ালন্দ মোড়ে আটকে পড়া যমুনা ইলেকট্রনিকসের কাভার্ডভ্যান চালক সাগর আহমেদ জানান, তিনি ঝিনাইদহে ফ্রিজ নামিয়ে দিয়ে এসে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় গোয়ালন্দ মোড়ে এসে দীর্ঘ সিরিয়ালে আটকে পড়েন। যাবেন গাজীপুর। পুলিশ আটকে পড়া চালকদের বলছে বেশি প্রয়োজন হলে যমুনা সেতু ঘুরে যেতে। এ অবস্থায় কীভাবে, কখন গন্তব্যে পৌঁছাব বুঝতে পারছি না।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শিহাব উদ্দিন জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ছোট-বড় ১৫টি ফেরি চলাচল করছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুই-এক দিনের মধ্যে আরও দুইটি রো রো ফেরি এই নৌরুটে যুক্ত হবে। তখন আশা করি ফেরি পারের জন্য খুব একটা অপেক্ষায় থাকতে হবে না।