আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

পুলিশ সুপারের তৎপরতায় পদ্মায় যুক্ত হল আরও দুই ফেরি

রাজবাড়ী প্রতিনিধি : তীব্র স্রোতের কারণে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পারের অপেক্ষায় থেকে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি বৃদ্ধি পায়। ফেরিঘাটের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস ও পচনশীল পণ্য বহনকারী ট্রাক পার করার কারণে অপচনশীল পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পারের অপেক্ষায় থাকতে হয়। যানবাহনের চাপে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমসিম খায় পুলিশ সদস্যরা।

আজ সোমবার দৌলতদিয়া ও গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় দেখা যায়, রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে ফেরিপারের জন্য কোনো যানবাহন নেই। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পারের অপেক্ষায় নেই কোনো বাস অথবা প্রাইভেটকার। ফেরি পারের অপেক্ষায় রয়েছে শতাধিক অপচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান।
জানা যায়, প্রায় দেড় মাস ধরে যানবাহনের চাপ সামাল দিতে ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের চার লেন রাস্তার ৫ কিলোমিটার এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাকের সিরিয়াল থাকতো। এই মহাসড়কটি সচল রাখতে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় অপচনশীল দ্রব্যের ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান আটকে পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধি করার কোনো পরিকল্পনাই হাতে নেয়নি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্টে অবস্থানরত ট্রাকচালকেরা জানান, যেহেতু শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত সেখান থেকে কয়েকটি ফেরি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যুক্ত করলে সমস্যা সমাধান হয়ে যেতো। দীর্ঘদিনে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিসি) সেটি করেনি। তাদের অভিযোগ সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কারণেই দৌলতদিয়া প্রান্তে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।

ট্রাকচালক মো. সুদেব সরকার বলেন, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ২০টি ফেরি চলাচল করছে। যাত্রীবাহী বাস, পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি সরাসরি ফেরি পার হতে পারছে। শুধু অপনশীল দ্রব্যের ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানগুলোকে কিছু সময় অপেক্ষা করে ফেরি পার হতে হচ্ছে। যে সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে সেটি সহনশীল। কোনভাবেই যেন এই রুটের ফেরির সংখ্যা কমানো না হয়।

ভোগান্তির বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিসির) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান। তিনি বোঝাতে সক্ষম হয় আরিচা-কাজিরহাট ও শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কম থাকায় ওই নৌরুট থেকে দুইটি বড় ফেরি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যুক্ত করলে সমস্যা সমাধান হয়। এরপর এই রুটের ফেরি বহরে যুক্ত হয় দুইটি রো-রো ফেরি। ২০টি বড় ফেরি চলাচলের কারণে দেড় মাস পরে স্বস্তি ফিরে আসে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া প্রান্তে।

একটি গোয়েন্দা দপ্তরের তথ্য মতে, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল বিঘ্ন ঘটার পর নৌরুটগুলোর ফেরি চলাচল নিয়ে সঠিক কোন পরিকল্পনাই গ্রহণ করেনি বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে কাজ করে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান। যে কারণে ভোগান্তি স্বস্তি মিলেছে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া প্রান্তে।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি বৃদ্ধির জন্য বেশ কয়েকটি নৌরুটে ফেরি চলাচল নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করি। তখন দেখা যায় আরিচা-কাজিরহাট ও শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে অপ্রয়োজনে দুইটি ফেরি চলাচল করছে। এই বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিসি) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করলে তারা এ রুটে দুইটি ফেরি বৃদ্ধি করেন। বর্তমানে এ রুটে ২০টি ফেরি চলাচল করছে। স্বস্তি ফিরেছে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসির) বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক এমএম আশিকুজ্জামান বলেন, মাওয়া ঘাটে স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পায়। সেই বিষয়টি রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে যাত্রী ও যানবাহনের ভোগান্তি রোধে এই রুটে ফেরি বৃদ্ধি করা হয়।

তিনি বলেন, সমন্বয় করে কাজ করার ফলে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বর্তমানে ২০ টি ফেরি চলাচল করছে। তবে ওই নৌরুটটি সম্পূর্ণরূপে সচল হলে এখান থেকে ফেরি হ্রাস করা হতে পারে।

এ জাতীয় আরও খবর