আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

প্রাণহানির পর হাজীগঞ্জে ১৪৪ ধারা, জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চার জনের প্রাণহানির ঘটনায় হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি দুই প্লাটুন বিজিবিও মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সাত দিনের মধ্যে কমিটিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
বুধবার (১৩ অক্টোবর) ওই সংঘর্ষের পর মধ্যরাত থেকেই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় হামলার শিকার কয়েকটি পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। এসময় তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি আমরা করে দিয়েছি। কমিটিতে সার্কেল এএসপি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এসি ল্যান্ড ও ইসলামি ফাউন্ডেশনের উপপরিচালককে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেনসহ পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, যখন সম্পদের ওপর ও মানুষের জীবনের ওপর যখন আঘাত এসেছে, তখন সঙ্গত কারণেই সম্পদ ও জীবন রক্ষার জন্য এখানে যারা দায়িত্বরত ছিলেন তারা গুলি করেছেন। এসময় মোট চার জন মারা গেছেন। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সাত জনকে আটকও করেছে।

জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করে এবং মানুষকে উসকানি দিয়ে এক ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার হীন উদ্দেশ্যে এই কাজ করা হয়েছে। আমরা জানি, কোনো সুস্থ ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি অন্য ধর্মের কোনো বিষয়ের ওপর আঘাত হানতে পারে না। কিন্তু কিছু উশৃঙ্খল ব্যক্তি এই কাজ করেছে। তাদের প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে যারা এখানেসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা করেছে, তাদের প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এর আগে, বুধবার কুমিল্লায় কোরআন শরিফ অবমাননার খবরের জের ধরে রাতে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় একটি মিছিল হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া (ত্রিনয়নী), বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ মন্দির, পৌর মহাশ্মশান ও জমিদার বাড়িসহ কয়েকটি পূজা মণ্ডপে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হলে পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি করে।

পুলিশের গুলিতে রাতেই মারা গেছেন তিন জন। গুলিবিদ্ধ আরেকজন আহত অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। নিহতরা হলেন— টাইলস মিস্ত্রি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সুন্দরপুর বাগডাঙা এলাকার সামছুর ছেলে বাবলু (৩৫), হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ১১ নম্বর ওয়ার্ড রান্ধুনী মুড়ার শুকু কমিশনার বাড়ির তাজুল ইসলামের ছেলে আল আমিন (১৮), একই ওয়ার্ডের সেকান্দর বেপারী বাড়ির মো. ফজলুর ছেলে হৃদয় (১৪) এবং রান্ধুনীমুড়া গ্রামের বাচ্চুর ছেলে শামীম (১৯)।

এ জাতীয় আরও খবর