আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

প্রার্থী হয়েই চেয়ারম্যান ঘোষণা

news-image

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে হয়েছেন এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী, সেই মোতাবেক জমা দিয়েছেন মনোনয়ন পত্রও। হঠাৎ আ.লীগ বণে যাওয়া এই ব্যাক্তি স্থানীয় সাংসদের আগমন উপলক্ষে নির্মাণ করেছেন সুসজ্জিত তোরণ। আর এখানেই বিপত্তি বাজিয়েছেন তিনি। নির্বাচনের আগেই নিজেকে তোরণে চেয়ারম্যান হিসাবে ঘোষণা দিয়ে জন্ম দিয়েছেন সমালোচনার। যা নিয়ে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক অঙ্গণে চলছে চুল-ছেঁড়া বিশ্লেষণ। তবে রাতের আধারে আবার বদলে ফেলা হয়েছে সেই তোরণের ব্যানার।
ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ৮নং পাঙ্গাসী ইউনিয়নে। চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে তোরণ নির্মাণ করা ব্যাক্তির নাম মো. রফিকুল ইসলাম নান্নু। তিনি তার নিজ প্রতিষ্ঠিত একটি কলেজের অধ্যক্ষও। যে কলেজের এমপিও নিয়েও রয়েছে নানান সমালোচনা ও নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ।

শুক্রবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পাঙ্গাসী ইউনিয়ন পরিষদের মূল ফটকের সামনে পাঙ্গাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পরিচিতি সভায় স্থানীয় সাংসদ অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল আজিজ এর আগমন উপলক্ষে করা একটি শুভেচ্ছা তোরণের নিচে তার ছবি ব্যাবহার করে দুই অংশে লেখা রয়েছে শুভেচ্ছান্তে মো. রফিকুল ইসলাম নান্নু, চেয়ারম্যান ৮নং পাঙ্গাসী ইউনিয়ন পরিষদ, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ। যা নিয়ে এলাকায় এখন একটিই প্রশ্ন সবার মুখে মুখে “নির্বাচনের আগেই তিনি চেয়ারম্যান হলেন কিভাবে”?
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক পাঙ্গাসী এলাকার অনেকেই জানান, নান্নুকে যারা চেনেন তারা সবাই তাকে মাস্টার হিসাবেই চেনেন। তিনি কখনও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল বলে শুনিনি। তবে বিএনপি-জামায়াত এর রাজনীতির সাথে তার সম্পৃক্ততা ছিলো বলে শোনা যায় তার নির্বাচনী পোস্টারে রাজনৈতিক কোন পদবী না থাকলেও প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে রয়েছে চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম।

তবে তার প্রতিষ্ঠিত এই ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ কামিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে এই ব্যাক্তির নামে। এখন হঠাৎ করেই যেন মনে বাসা বেধেছে চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন।

তবে এ ব্যাপারে পাঙ্গাসী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম নান্নুর সঙ্গে কথা বলার জন্য তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও সাড়া মেলেনি।
অন্যদিকে এঘটনায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন বর্তমান দায়িত্বে থাকা অত্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, এই তোরণ লাগানোর পর থেকেই নাগরিকরা আমাকে নানান রকমের প্রশ্ন করছেন। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদের একদম ফটকের সামনেই তোরণটি নির্মাণ করায় প্রশ্নটা যেন আরও বেড়েছে।

পাঙ্গাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে তিনি এটা করে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।

পাঙ্গাসী ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, বিষয়টি আমি দেখেছি। তিনি এটা মোটেও ঠিক করেননি।

এ ছাড়াও তিনি ইউনিয়ন আ.লীগের সদস্য পর্যন্ত না জানিয়ে বলেন, আমার জানামতে সে কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল না। এবার হঠাৎ করে নিজেকে আ.লীগ পরিচয় দিয়ে এমপির ছবি সহ তোরণ লাগিয়েছেন। আবার নিজেকে চেয়ারম্যান হিসাবে পরিচয়ও দিয়েছেন। এরা সুবিধাবাদি রাজনৈতিক বলেও জানান তিনি।

এ জাতীয় আরও খবর