আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

ফলাফল ঘোষণার পর উত্তেজনা, গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

news-image

চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের নয়ারচর ও চরআন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করলে উত্তেজনা শুরু হয়। দুই কেন্দ্র ঘিরে অবরুদ্ধ করে ফেলে প্রিজাইডিং অফিসারসহ ভোটগ্রহণকারী সংশ্লিষ্টদের।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নয়ারচর কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি ছোড়ে। পরে গুলিবিদ্ধ একজনের লাশ উদ্ধার করে চরমোন্তাজ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। নিহত ওই ব্যক্তির নাম খালেক হাওলাদার (৫৫)। তিনি ওই ইউনিয়নের নয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, সুরতহাল করার পরে রাত সাড়ে ১১ টায় লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে কাদের গুলিতে সে নিহত হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, রোববার বিকালে নয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ শেষে গণনা হয়। এতে নয়ারচর ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য প্রার্থী টিউবওয়েল প্রতীকের আলমগীর হোসেন জয়ী হয় বলে বাহিরে জানাজানি হয়। কেন্দ্রের ভেতরে তখন ফলাফল তৈরি করা হচ্ছিল।

এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী পরাজিত প্রার্থী ভ্যানগাড়ি প্রতীকের মো. জিয়াউর রহমানের সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে ওই রেজাল্ট ছিনিয়ে নিয়ে যায়। একপর্যায় ভোটগ্রহণকারী সংশ্লিষ্টদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। দীর্ঘক্ষণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ড। একপর্যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি ছোড়ে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, এ সময় খালেক গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাইলাবুনিয়ার একটি ফার্মেসিতে নিলে গ্রাম্য চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, নিহত খালেক পরাজিত প্রার্থী জিয়াউরের সমর্থক।

অবরুদ্ধ থাকাকালীন নয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ইনচার্জ এসআই আবুল বাশার বলেন, সমস্যা হয়েছে। আমরা খুব অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। ম্যাজিস্ট্রেট আছে, সার্কেল এসপি আছে, চরমোন্তাজের আইসি (তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ) আছে অবরুদ্ধ। পরে কথা বলি।

এদিকে, ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে একই ইউনিয়নের আন্ডারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অবরুদ্ধ রয়েছে পিজাইডিং অফিসারসহ ভোটগ্রহণকারীরা। ওই কেন্দ্রে চরমোন্তাজ ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তালা প্রতীক নিয়ে লোকমান স্থানীয় ফলাফলে বিজয় হলে পরাজিত ফুটবলের প্রার্থী মজিবরের সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। রাত সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত তারা সেই কেন্দ্রেই অবরুদ্ধ।

চরআন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান রুমী বলেন, আমরা অবরুদ্ধ।আমরা এখানেই আছি।

চরমোন্তাজ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোহাম্মাদ মিজান বলেন, লাশ উদ্ধার করে তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসছি। তবে কার গুলিতে মারা গেছে এটা এখনও বলা যাচ্ছে না। ওখানে কোস্টগার্ড, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ সবাই গেছে।

তিনি আরও বলেন, আমি ওদের (বিক্ষুব্ধদের) সঙ্গে কথা বলে নয়ারচর কেন্দ্রের নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের উদ্ধার করে নিয়ে এসেছি।

চরআন্ডা কেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চরআন্ডা কেন্দ্রে এখন মোটামুটি শান্ত পরিবেশ আছে। আমি এখন যাব।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান সোহাগ হাওলাদার বলেন, ৮ ও ৯ নম্বর কেন্দ্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে খুব, শুনেছি। ব্যাপকভাবে সমস্যা হয়েছে। ৮-৯ অবরুদ্ধ, আমার কাছে ম্যাসেজ আসছে। আমাদের ফোর্স যারা আছে। তারা সবাই যাচ্ছে। আমরা এখনও ধোঁয়াশার মধ্যে আছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।

Shares

এ জাতীয় আরও খবর