আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

ফসলি জমিতে পুকুর কেটে মাটি বিক্রির হিড়িক

পাবনার চাটমোহরে বিভিন্ন বিলের ফসলি জমি ও পুকুর সংস্কারের নামে মাটি কাটার হিড়িক পড়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই একটি অসাধু চক্র প্রকাশ্যে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে। ট্রলি ও ট্রাকে মাটি নিয়ে যাবার সময় সড়কে পড়ছে মাটি। এতে নষ্ট হচ্ছে স্থানীয় সড়ক।

এক্সকাভেটর দিয়ে পুকুর খনন করে মাটি বিক্রি করা হলেও এ বিষয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে কয়েকটি পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার ধুলাউড়ি ও রামনগর গ্রামের মধ্যবর্তী মাঠ থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন পার্শ্ববর্তী দোলং গ্রামের আনোয়ার হোসেন। পুকুর সংস্কারের নামে ঝাঁকড়া গ্রামের বাচ্চু, জাহাঙ্গীর ও ফোরকানের যৌথ মালিকানাধীন একটি পুকুর থেকে যন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করছেন ঝাঁকড়া গ্রামের আব্দুল গফুর।

মূলগ্রাম ইউনিয়নের পূর্বটিয়ারতলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, চাটমোহর-পাবনা সড়কের পশ্চিম পাশ থেকে শফিকুল ইসলাম নামক এক ব্যক্তি এক্সকাভেটর দিয়ে পুকুর খনন করে ট্রলি ও ট্রাকযোগে মাটি সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন অন্যত্র। এ ছাড়া বাহাদুরপুর গ্রামে জনাব হাজীর বাড়ির পেছনে বিলে পুকুর খনন করে মাটি বিক্রি করছেন দেলোয়ার হোসেন। এ সকল পুকুর খননকারী ও মাটি বিক্রেতাদের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা প্রশাসনের অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি। ওই ইউনিয়নের ভূমি অফিসের নায়েবের কাছ থেকে জানা গেছে, তাদের কারোরই মাটি কাটার অনুমতি নেই।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, কিছু মাটি ব্যবসায়ী ফসলি জমির মালিকদের সাথে চুক্তি করে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। মাটি বহনকারী ট্রলি, ট্রাক চাটমোহরের বিভিন্ন রাস্তায় দ্রুতগতিতে চলাচল করছে। আকারভেদে প্রতিগাড়ি মাটি ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক জায়গায় সড়কের অংশ কেটে গাড়ি ওঠা-নামার ব্যবস্থা করায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পাশিপাশি এসব যানবাহনে মাটি বহন করার সময় ধুলোবালিতে পথে চলাচলকারী মানুষের নানা সমস্যা হচ্ছে। মানুষ শ্বাসকষ্টসহ বায়ুদূষণজনিত অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। মাটি নিয়ে যাওয়ার কারণে আশপাশের ফসলি জমি ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানানোর পর তাঁরা পুকুর খনন বন্ধ করে দিলেও কিছুদিন পর মাটি ব্যবসায়ীরা আবার মাটি কাটা শুরু করে। এভাবেই চলছে ফসলি জমিতে পুকুর খনন আর মাটি বিক্রির উৎসব। অনেকে আবার দিনে মাটি না কেটে রাতের আঁধারে মাটি কেটে বিক্রি করছে। কিন্তু প্রশাসনের নজরদারিতেও বন্ধ হচ্ছে না মাটি কাটা ও বিক্রির ব্যবসা।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এসি ল্যান্ড ও ইউএনও মহোদয়রা খবর পেয়ে আমাদের জানালে আমরা গিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করে দিয়ে আসি। পরে আবার কাটা শুরু করে। এ জন্য দরকার কঠোর অভিযান। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করা গেলে মাটি কাটা ও বিক্রি কমে আসবে। ‘

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈকত ইসলাম বলেন, ‘মাটি কাটার তো অনুমতি নেই। আমরা অভিযোগ পেলে অভিযান পরিচালনা করি। কখনো পুলিশ পাঠিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সমস্যা হলো কিছুদিন পর আবার শুরু করে। কিংবা একজনকে বন্ধ করলে অন্য জায়গায় অন্য কেউ মাটি কাটা শুরু করে। এখানে আরেকটি সমস্যা হলো, মাটির দরকার, কিন্তু মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় বেপরোয়াভাবে মানুষ মাটি কাটা ও বিক্রি করছে। আপনারা আমাদের তথ্য দেন, আমরা ব্যবস্থা নেব। ‘

এ জাতীয় আরও খবর

দৌলতদিয়ায় ৭ ফেরিঘাটের ৪টিই বিকল, যানবাহনের দীর্ঘ সারি

পানির নিচে পন্টুন, ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি

ছাত্রদল করা সন্তানের জনক হলেন থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি

যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

চাঁদপুরের ডিসিকে বদলি, তিন জেলায় নতুন ডিসি

গাফফার চৌধুরী আর নেই

প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ভূমি দখলের পাঁয়তারার অভিযোগ

কুমিল্লার মানবজমিন প্রতিনিধিসহ সারাদেশের সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে সোচ্চার রূপগঞ্জ প্রেসক্লাব ॥ প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন-বিক্ষোভ মিছিল

চাকরির নামে টাকা আত্মসাৎ গ্রেপ্তার ২

মহাসড়কে গাছ ফেলে ডাকাতি করতো তারা, গ্রেফতার ৬

বনের ভেতর সিসা তৈরির কারখানা, হুমকির মুখে পরিবেশ

বাঘাবাড়ী নৌবন্দর খুঁড়িয়ে চলছে