আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

সিংগাইরে ফসলি জমির মাটি পুড়ছে ইটভাটায় ,প্রভাবশালীদের দাপটে অসহায় কৃষক, প্রশাসন নীরব

news-image

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের রিফায়েতপুর চক থেকে মাটিখেকোরা তিন ফসলি জমির উর্বরতা কেটে বিক্রি করছে ইটভাটায়। আগুনে পুড়ছে জমির প্রাণ। কমে যাচ্ছে চাষাবাদযোগ্য জমি। এতে যেমন জমির শ্রেণি পরিবর্তন হচ্ছে, তেমনি নষ্ট হচ্ছে জমির উর্বরতা শক্তি। ফসলি জমির উর্বর মাটি পুড়ে তৈরি হচ্ছে ইট। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে বিশাল এলাকা জুড়ে সবুজের সমাহার।

ইটভাটায় এসব টপ সয়েল কেনার ক্ষেত্রে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। এক্সকাভেটর দিয়ে জমির টপ সয়েল কেটে ১৫/২০ ফুট গভীর জলাশয়ের ফলে ভেঙে পড়ছে আশপাশের ফসলি জমি। ফলে বাধ্য হয়েই কৃষক জমি বিক্রি করে দিচ্ছে সিন্ডিকেটের কাছে। অন্যদিকে ট্রলিতে করে মাটি নেওয়ার ফলে ভেঙে যাচ্ছে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণের। এসব যানবাহনের নেই কোনো বৈধতা। এসব চালায় অপ্রাপ্ত বয়সের চালকরা। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করার জন্য কৃষিজমি, পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে তা ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করতে পরবে না। কিন্তু এর প্রয়োগ না থাকায় ভাটার মালিকরা বেপরোয়া। তারা মানছে না এ আইন। এছাড়া অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধেও নেওয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা। মানা হচ্ছে না নীতিমালা। দিন দিন তিন ফসলি জমির কেটে নেওয়া হচ্ছে মাটি।

কৃষক ফজল আলী ও তার ভাই আনোয়ার আলী বেপারী জানান, রিয়ায়েতপুরের চকে ৮০ শতাংশ জমিতে ইরি ধান আবাদ করেছেন তারা। পাশের জমি থেকে গভীর করে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে তাদের ধানখেত এখন ভেঙে পড়ার উপক্রম। তারা আরো জানান, ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট (এসিল্যান্ড) আব্দুল মালেক নামে এক জনকে গত ২৬ জানুয়ারি আটক করে তিন মাসের জেল দেন।

কিন্তু মাত্র এক মাস ১০ দিন জেল খেটে বের হয়ে একই কাজ করছেন তিনি। একই কথা বলেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক একাব্বর হোসেন, আলী খাঁ, রমেজ উদ্দিন, মুখলেছ মিয়া, এখলাস খাঁ, ইমরান হোসেন ও শিক্ষক আমজাদ হোসেন। তারা জানান, বিঘাপ্রতি জমিতে তাদের ২৫ মণ ধান হয়। এভাবে জমি থেকে মাটি কাটার ফলে রিফায়েতপুর চকে অন্তত ৫০০ একর জমি থেকে ৫০ হাজার মণ ধান উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হবে কৃষক।

এভাবেই সরিষা, পাট, ধনিয়া, কালিজিরা ফসল থেকেও বঞ্চিত হবে। শুধু তাই নয়, আরও এক হাজার একর জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে সিন্ডিকেট। কৃষকরা জানান, গত ৯ মার্চ ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করলেও থেমে নেই মাটি কেটে নেওয়া ।

এসিল্যান্ড মেহের নিগার সুলতানা বলেন, ‘আব্দুল মালেক জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় জমির টপ সয়েল কেটে নেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। দেখছি কী করা যায় তার বিরুদ্ধে। ’