আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

ফাঙ্গাস নিয়ে আতঙ্ক নয় সতর্ক থাকার পরামর্শ

news-image

করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারির মধ্যে ব্ল্যাক ও হোয়াইট ফাঙ্গাস নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে হোয়াইট ফাঙ্গাসের সংক্রমণও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একে দেশটিতে জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিবেশী বাংলাদেশেও এই ফাঙ্গাস নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে। কারণ, করোনার ‘ভারতীয় ধরন’ বাংলাদেশেও শনাক্ত হয়েছে। এ ধরন যাতে দেশব্যাপী ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য সতর্ক সরকার। জনসমাগম এড়াতে গত ৫ এপ্রিল থেকে সরকারি বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে, যা আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে গতকাল রোববার আদেশ জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ব্ল্যাক ও হোয়াইট ফাঙ্গাস নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের অভিমত, মাস্ক ব্যবহারসহ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনা সংক্রমণ থেকে অনেকাংশে মুক্ত থাকা সম্ভব হবে। এটি করোনার ভারতীয় কিংবা অন্য যে কোনো ধরনের ক্ষেত্রেই প্রয়োজ্য। ব্ল্যাক কিংবা হোয়াইট ফাঙ্গাস, যা-ই হোক না কেন, সব ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশে এখনও ব্ল্যাক কিংবা হোয়াইট ফাঙ্গাসে আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। ফলে এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ভারতে করোনা-পরবর্তী সময়ে রোগীদের অনেকের মধ্যে এই ফাঙ্গাসজনিত সংক্রমণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এটি কী কারণে হচ্ছে, তা পরিস্কার করে জানা যায়নি। প্রথমে বলা হচ্ছিল, করোনা সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের ডায়াবেটিস ছিল, তারা এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। পরে বলা হচ্ছে, শিল্পে অক্সিজেন ব্যবহারের কারণে এ ঘটনা ঘটছে। ফলে ফাঙ্গাসজনিত ঘটনা আরও গবেষণার দাবি রাখে। ব্যাপকভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এ রোগের সঠিক কারণ উদ্ঘাটন করা সম্ভব।

ব্ল্যাক ও হোয়াইট ফাঙ্গাস সংক্রমণ: ভারতের চিকিৎসকদের উদ্ৃব্দতি দিয়ে সে দেশের একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার সংক্রমণ থেকে সুস্থতার পথে অথবা সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের শরীরে এক ধরনের বিরল সংক্রমণ শনাক্ত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর নাম দেওয়া হয়েছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস, যার বৈজ্ঞানিক নাম ‘মিউকোরমাইকোসিস’। এর মাধ্যমে যে সংক্রমণের ঘটনা খুবই বিরল। মিউকোর নামে একটি ছত্রাকের সংস্পর্শে এলে এ সংক্রমণ হয়। সাধারণত এই ছত্রাক মাটি, গাছপালা, সার ও পচন ধরা ফল এবং শাকসবজিতে পাওয়া যায়। এই ছত্রাক সাইনাস, মস্তিস্ক ও ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত অথবা করোনা কিংবা অন্য কোনো রোগের কারণে ব্যক্তির শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যদি কমে যায়, তাদের এই মিউকোর থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল পর্যন্ত ভারতে আট হাজার আটশর বেশি মানুষের শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত হয়েছে। বিরল এই সংক্রমণে মৃত্যুহার ৫০ শতাংশের মতো। জীবিত অনেকের চোখও ফেলে দিতে হয়েছে। চিকিৎসকদের উদ্ৃব্দতি দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা চিকিৎসায় ব্যবহূত স্টেরয়েডের কারণে এমনটি হতে পারে। আবার ডায়াবেটিসে আক্রান্তের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্ত হওয়ার ১২ থেকে ১৮ দিন পর এই ফাঙ্গাসে সংক্রমিত হচ্ছেন মানুষ। আগে ভারতে বছরে এ ধরনের দু-একজন রোগী শনাক্ত হতো বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। বাংলাদেশেও কয়েক বছর আগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ফাঙ্গাসে আক্রান্ত একজন রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন উল্লেখ করে আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর বলেন, ওই ঘটনা ছাড়া এখন পর্যন্ত আর কারও এ ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাননি তারা।

চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের চেয়ে হোয়াইট ফাঙ্গাস বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ শুধু মুখের আশপাশে হয়। কিন্তু হোয়াইট ফাঙ্গাসের সংক্রমণ দ্রুত শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। ফুসফুস, যকৃত, বৃক্ক ও যৌনাঙ্গে অতিদ্রুত সংক্রমিত হতে পারে এই ভাইরাস। নখের মাধ্যমে শরীরের নানা জায়গায় ছড়িয়ে বিভিন্ন অঙ্গ বিকলও করে দিতে পারে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে মৃত্যু বেশি হলেও হোয়াইট ফাঙ্গাসে মৃত্যু সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা করা যায়নি। আবার চিকিৎসকদের অনেকে মনে করেন, হোয়াইট ফাঙ্গাসে গর্ভবতী এবং শিশুরাও আক্রান্ত হতে পারে।

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ভারতে করোনা থেকে সুস্থ হওয়া মানুষ নতুন করে যেভাবে ফাঙ্গাসে সংক্রমিত হচ্ছেন, সেটি নিঃসন্দেহে আতঙ্কের। বিষয়টি নিয়ে এখনও সুস্পষ্ট কোনো ধারণা দিতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা। অনেকে বলেছেন, করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর মাত্রাতিরিক্ত স্টেরয়েড ব্যবহারের কারণে এ সংক্রমণ হতে পারে। করোনা আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের জীবন বাঁচাতে স্টেরয়েড দিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন, শিল্পের অক্সিজেন ব্যবহারের কারণে এমনটি হচ্ছে। বিষয়টি এখনও মীমাংসিত নয়। এ ফাঙ্গাসের দুটি রূপ দেখা যাচ্ছে। একটি ব্ল্যাক, অপরটি হোয়াইট। তবে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ এখন পর্যন্ত বেশি। এ বিষয়ে গবেষণা হলে দুটির পার্থক্য জানা যাবে।

ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কয়েকজন রোগীর শরীরে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে। এ ধরন বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে পড়লে এতদিন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করত। সরকার বেশকিছু সতর্কতা অবলম্বন করেছে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখাতে ভালো কাজ হয়েছে। তবে ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আটকে পড়াদের ফিরিয়ে এনে কিছুটা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে রাখা গেলে সংক্রমণ ছড়ানোর শঙ্কা কমে আসবে। করোনার ভারতীয় ধরন ও ফাঙ্গাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে হলে সতর্ক থাকতে হবে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশে ভারতীয় ধরনে আক্রান্ত ৯ ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। বোরবার এক ভার্চুয়াল বুলেটিনে তিনি বলেন, সন্দেহভাজন আক্রান্ত আরও কয়েকজনের শরীর থেকে নমুনা নিয়ে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের কাজ চলছে। এটির ফলাফল এলে তখন সঠিক সংখ্যা জানা যাবে। ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, করোনার ভারতীয় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক নাম বি.১.৬১৭। মিউটেশনের কারণে এর তিনটি ‘সাব-টাইপ’ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে বি.১.৬১৭.২ ধরনটি শনাক্ত হয়েছে। ভারতীয় ধরনের সংক্রমণ ক্ষমতা অনেক বেশি। এ কারণে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। অর্থাৎ সঠিকভাবে মাস্ক পরা, হাত জীবাণুমুক্ত করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করা- এসব সতর্কতা অবশ্যই পালন করতে হবে। তাহলেই অনেকাংশে সংক্রমণমুক্ত থাকা সম্ভব হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু-শনাক্ত কমেছে

ফুঁসছে ঘূর্ণিঝড় গুলাব, আতঙ্কে উপকূলবাসী

শেখ হাসিনা শিশু পার্কের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু

দুর্নীতি দমনে পিছু হটব না : বিআরটিসির চেয়ারম্যান

আপত্তিকর ভিডিও, মামলা না নেওয়ায় আত্মহত্যার হুমকি স্কুলছাত্রীর

হবিগঞ্জে দখল-দূষণে হুমকির মুখে নদ-নদী

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’, দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির শঙ্কা

সিংগাইরে এক দিনে পৃথক স্থান থেকে ২ জনের লাশ উদ্ধার

কুয়েতে প্রবাসী সংবাদকর্মীদের ফুটবল টিম গঠন

২০০ কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় আবারও তলব জ্যাকলিনকে

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৪৫ অভিবাসী ১৪ দিনের রিমান্ডে

নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরী রানীর বাড়িতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত