আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

ফুলবাড়ীতে বেঁধে দেওয়া দামে চাল বিক্রি হচ্ছে না

news-image

দিনাজপুর জেলার বৃহত্তম চালের মোকাম ফুলবাড়ীতে চালকল মালিকরা শনিবার সরকার নির্ধারিত দামে চাল সরবরাহ করেননি। ফলে খুচরা বাজারে সরু মিনিকেট চালসহ মাঝারি ও মোটা চালের দাম ছিল বেশি।

চালের বাজারের অস্থিরতা কমাতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গত মঙ্গলবার চালকল মালিকদের বৈঠকে মাঝারী ও সরু চালের পাইকারি মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এতে প্রতিকেজি সরু মিনিকেট চাল ৫০ টাকা ৫০ পয়সা এবং মাঝারি চাল ৪৫ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, যা গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এরপরও ফুলবাড়ীর খুচরা বাজারে দাম নির্ধারণের কোনো প্রভাব পড়েনি।

শনিবার সরেজমিনে পৌর শহরের প্রধান চালের পাইকারি বাজার উর্বশী সিনেমা মার্কেট এলাকায় দেখা যায়, সরু মিনিকেট চাল প্রতি কেজিতে ৫২ থেকে বেড়ে ৫৪-৫৫ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৪৭ টাকা থেকে বেড়ে ৪৮-৪৯ টাকা, বিআর-২৯ চাল ৪৩ টাকা থেকে বেড়ে ৪৬-৪৭ টাকা এবং গুটি স্বর্ণা চাল ৩৮ টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ টাকায় বেচাকেনা চলছে।

ফুলবাড়ী পৌর বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা জয় প্রকাশ গুপ্ত ও লাল মিয়া বলেন, হঠাৎ করেই মিলারদের কাছে বেশি দামে চাল কেনা হচ্ছে বলেই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রতিকেজি চালের দাম ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়ে গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পাইকার চাল বিক্রেরা জানান, মিলারদের কাছ থেকে বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে বলেই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। গত মাস থেকেই চাল মজুদ রেখে দাম বৃদ্ধি করায় চালের বাজারে এমন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

ফুলবাড়ীর মেসার্স আমিন অটো রাইস ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী মো. রুহুল আমিন বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যেই সব ধরনের চাল বিক্রি করা হচ্ছে। তবে ধান বেশি দামে কেনার কারণে আর্থিকভাবে লোকসানে পড়তে হচ্ছে মিলারদেরকে।

ফুলবাড়ী চাউল কল মালিক সমিতির আহ্বায়ক মো. মোঞ্জিল মোরশেদ বলেন, একজন মিল মালিক স্বল্প সময়ের জন্য তার ধারণক্ষমতার পাঁচগুণ ধান মজুদ করতে পারবেন। কিন্তু মিল মালিকদের বাইরে যারা মৌসুমী মজুদদার রয়েছেন তারাই ধান মজুদ করায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মৌসুমী মজুদদারদের গুদামগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।

ফুলবাড়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. গোলাম মওলা বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে কেউ চাল বেচাকেনা না করলে তার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।