আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

ফেঁসে গেছেন তিন কর্মকর্তা চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরে শুদ্ধি অভিযান শুরু

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরে শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান। ইতোমধ্যে মিথ্যা তথ্যে ৯ ইটভাটার অনুমোদন দিয়ে ফেঁসে গেছেন তিন কর্মকর্তা। এরমধ্যে একজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি চূড়ান্তভাবে সতর্ক করা হয়েছে দুই কর্মকর্তাকে। বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বদলি করা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তাকে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে বিগত সময়ে ইটভাটাসহ বিভিন্ন কলকারখানার অনুমোদন ঠিক ছিল কিনা। পরিবেশ অধিদপ্তরে হঠাৎ শুদ্ধি অভিযানে চরম আতঙ্কে রয়েছেন অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় সরকারি-বেসরকারি পাহাড় কেটে প্লটসহ বহুতল ভবন নির্মাণে জড়িতদের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পাহাড়খেকো, পরিবেশ দূষণে জড়িত কলকারখানা, সড়কে উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো যানবাহনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে এ অধিদপ্তর।

মিথ্যা তথ্যে সাতকানিয়া ও চন্দনাইশে বেশক’টি ইটভাটা অনুমোদন বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়ে তা খতিয়ে দেখতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে পরিবেশ অধিদপ্তর। কমিটিতে ছিলেন উপপরিচালক সেলিনা আক্তার, পরিদর্শক জোবায়ের হোসেন ও নূর হাসান সজীব। তারা পরিদর্শনে গিয়ে ৯টি ইটভাটা অনুমোদন দেওয়া নথির তথ্য এবং বাস্তবের সঙ্গে অমিল পান। এসব ইটভাটা অনুমোদনে জড়িত থাকার অভিযোগে সহকারী পরিচালক নাজনীন সুলতানা নীপার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সুপারিশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে উপপরিচালক জমির উদ্দিন ও সহকারী পরিচালক আফজারুল ইসলামকে চূড়ান্তভাবে সতর্ক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে উপপরিচালক জমির উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে টাঙ্গাইলে। পরিবেশ অধিদপ্তর পরিচালক (প্রশাসন) ড. এটিএম মাহবুব-উল করিম স্বাক্ষরিত আদেশে তাকে গত রোববার বদলি করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুফিদুল ইসলাম বলেন, যারা অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। পরিবেশ অধিদপ্তরে এ শুদ্ধি অভিযান চলমান থাকবে। ইতোমধ্যে অনুমোদিত ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা খতিয়ে দেখে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর মেট্রো কার্যালয়ের পরিচালক নুরুল্লাহ নূরী জানান, নগরীতে যারা বিভিন্ন সময়ে পাহাড় কেটে ভবন ও প্লট নির্মাণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। প্রতিদিনই পাহাড় দখলসহ পরিবেশের ক্ষতিসাধনে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অন্যান্য পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধেও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অভিযান চলমান থাকবে।