আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

ফেরি পেতেই ১০ ঘণ্টা!

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে আট থেকে ১০ ঘণ্টায়ও ফেরিতে উঠতে পারছে না কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস। সীমাহীন ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে মানুষজনের। ফেরির সংখ্যা কম থাকা, নদীতে তীব্র স্রোত ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ বেড়ে যাওয়ায় এ অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।

শনিবার বিকেল ৪টা নাগাদ পারাপারের অপেক্ষায় ঘাট এলাকায় আটকা পড়েছে সহস্রাধিক যানবাহন। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রী, পশুবাহী ট্রাক চালক ও গরু ব্যবসায়ীরা। কোরবানির পশুগুলোরও নাজেহাল অবস্থা।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ঘুরে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পদ্মার মোড় পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার ব্যাপী যাত্রীবাহী বাস, পশুবাহী ট্রাক রয়েছে। এ অবস্থায় ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারগুলোকে সরাসরি ঘাটে ঢুকতে না দিয়ে গোয়ালন্দ বাজার-চর দৌলতদিয়া গ্রামীণ সড়ক দিয়ে ফেরিঘাটে যাওয়ার  ব্যবস্থা করছে পুলিশ। অন্যদিকে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের অপচনশীল পন্যবাহী যানবাহন আটকে দিচ্ছে তারা। সেখানেও তিন কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। এসব সাধারণ পন্যবাহী ট্রাককে দিনের পর দিন নদী পারের জন্য মহাসড়কে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকায় মহাসড়কে আটকে থাকা গরু ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম বলেন, আমি ১০টি গরুসহ ট্রাক নিয়ে আট ঘণ্টার মতো মহাসড়কে আটকে আছি। জানি না কখন ফেরিতে উঠতে পারব, আর কখন গরুগুলো নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাব। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল এ রুটে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো।

এ সময় মোতালেব মণ্ডল নামে এক খামারি বলেন, ট্রাকে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে প্রচণ্ড রোদ-গরমে আমার একটি বড় গরু ক্লান্ত হয়ে গাড়িতেই পড়ে যায়। দীর্ঘ সময় তার মাথায় ঠান্ডা পানি ঢেলে কিছুটা সুস্থ্য করা হয়।

ঝিনাইদহ থেকে আসা ছাগলের ব্যাপারী কাসেম শেখ বলেন, আমি ৩০টি খাসি নিয়ে ঢাকার গাবতলীর হাটে যাচ্ছি। শনিবার ভোর ৬টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে এসেছিলাম। বেলা ১২টা পর্যন্ত ফেরির নাগাল পাইনি।
দৌলতদিয়া ঘাটে আটকে পড়া জেআর পরিবহনের বাস চালক ফয়সাল হোসেন বলেন, ঘাটে আমাদের ১১ ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে থাকতে হচ্ছে। বার বার ঢাকা থেকে ফোন করছে দ্রুত সময়ে যাওয়ার জন্য। সেখানে সিডিউল ঠিক না রাখার জন্য আমাদের অনেক কথা শুনতে হচ্ছে। অনেক যাত্রী টিকিট কাটার পর গাড়ি সময় মতো না পৌঁছানোর কারণে টাকা ফেরত চাচ্ছে।

গোয়ালন্দ মোড়ে আটকে পড়া ট্রাক চালক স্বপন শেখ বলেন, খাওয়া-দাওয়া, গোসল কিংবা পায়খানার ব্যবস্থা নেই। নিরাপত্তাহীন অবস্থায় এখানে খোলা আকাশের নিচে দুই দিন ধরে আটকে আছি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে একটি ফেরি বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে এ রুটে ছোট-বড় মিলে ১৬টি ফেরি চলাচল করছে।

তিনি বলেন, তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যে কারণে ভোগান্তি বেড়েছে। এছাড়া লকডাউন শিথিল করায় ঈদের ছুটি কাটাতে রাজধানী ছাড়ছে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষ। শনিবার সকাল থেকেই দৌলতদিয়া প্রান্তে ঘরমুখো মানুষের ভিড় শুরু হয়।