আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুট স্পিডবোট-বাল্কহেড সংঘর্ষে ২৬ জন নিহতের ঘটনার এক বছর আজ

news-image

গত বছরের ৩ মে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে কাঁঠালবাড়ী ঘাট সংলগ্ন এলাকায় বাল্কহেডের সাথে স্পিডবোটের সংঘর্ষে ২৬ জনের নিহতের ১ বছর পূর্তি হলো আজ। সেদিন করোনার বিধিনিষেধ ভঙ্গ করে ভোর সাড়ে ৬টার দিক শিমুলিয়া থেকে যাত্রীবোঝাই স্পিডবোট বাংলাবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয়। স্পিডবোটটি কাঁঠালবাড়ী (পুরাতন ফেরিঘাট) ঘাটের কাছে আসলে নদীতে থাকা একটি বাল্কহেডের (বালু টানা কার্গো) পেছনে সজোরে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। খবর পেয়ে নৌপুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণ করে। ওই অভিযানে ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আজহারুল ইসলামকে প্রধান করে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি ও বিআইডাব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গ্রেপ্তার হয় মালিক ও চালক।

এ ঘটনায় নৌপুলিশের দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যেই চার্জশিট প্রদান করে পুলিশ। চার্জশীটে করোনা মহামারির মধ্যে সরকারের দেয়া লকডাউন অমান্য ও ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে দ্রুত গতিতে স্পিডবোট চালানোর কারণেই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

চার্জশিটে বলা হয়, লকডাউন অমান্য করে ২০২১ সালের ৩ মে সকাল আনুমানিক ৬টার সময় শিমুলীয়া ঘাট ইজারাদার মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার মেনিদীমন্ডল ইউনিয়নের উত্তর জশলদিয়া গ্রামের মৃত ডা. রমিজ উদ্দিন আহমেদের ছেলে মো. শাহ আলম খানের (৪০) সাথে যোগসাজশে স্পিডবোট মালিক মুন্সিগঞ্জের জশলদিয়া পূনর্বাসন কেন্দ্রের মৃত আনু মৃধার ছেলে চাঁন মিয়া মৃধা (৩৫) ও একই এলাকার মৃত দবির টুনির ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম টুনি (৩২) শিমুলীয়া ঘাট থেকে যাত্রী পারাপারের ব্যবস্থা করেন। তারা বাংলাবাজার ও কাঁঠালবাড়ি ঘাটগামী ৩২ জন যাত্রীকে লাইফ জ্যাকেট আছেসহ বিভিন্ন আশ্বস্তের কথা বলে তাদের মালিকানাধীন স্পিডবোটে তোলেন। পরে চালক বরিশালের আগৈলঝাড়া থানার গৈলা ইউনিয়নের নগরবাড়ি গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মো. শাহ আলম (৩৮) ৩২ জন যাত্রীকে নিয়ে দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে বাংলাবাজার ও কাঁঠালবাড়ি ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান স্থানীয় সরকার বিভাগ মাদারীপুরের উপ-পরিচালক মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, গত বছর পদ্মায় বাল্কহেডের সাথে স্পিডবোটের ধাক্কায় ২৬ যাত্রী নিহতের ঘটনায় আমরা তদন্ত করতে গিয়ে স্পিডবোট চালকসহ ঘাট সংশ্লিষ্টসহ বিভিন্নজনের সাথে কথা বলে দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় করে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট দিয়েছি। তদন্ত করতে গিয়ে যে বিষয়টি আমরা বুঝতে পেরেছি তা হলো, স্পিডবোট চালকদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই, স্পিডবোটের কোনো লাইসেন্স নেই, অনেক চালক মাদকে গ্রহণের সঙ্গে সম্পৃক্ত, ঘাট ব্যবস্থাপনায়ও বেশ কিছু ত্রুটি রয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা স্পিডবোটের লাইসেন্স করা, চালকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, মাঝে মাঝে চালকদের ডোপ টেস্ট করানো, যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারসহ নিরাপত্তা প্রদানের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছিলাম। আর লকডাউনের মধ্যে স্পিডবোট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘাট সংশ্লিষ্টরা যদি স্পিডবোট না চালাতো তাহলে কিন্তু এতো বড় দুর্ঘটনা ঘটতো না।

এ জাতীয় আরও খবর

নারায়নগঞ্জে ৪১৪ জন শিক্ষককের আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম

দৌলতদিয়ায় ৭ ফেরিঘাটের ৪টিই বিকল, যানবাহনের দীর্ঘ সারি

পানির নিচে পন্টুন, ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি

ছাত্রদল করা সন্তানের জনক হলেন থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি

যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

চাঁদপুরের ডিসিকে বদলি, তিন জেলায় নতুন ডিসি

গাফফার চৌধুরী আর নেই

প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ভূমি দখলের পাঁয়তারার অভিযোগ

কুমিল্লার মানবজমিন প্রতিনিধিসহ সারাদেশের সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে সোচ্চার রূপগঞ্জ প্রেসক্লাব ॥ প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন-বিক্ষোভ মিছিল

চাকরির নামে টাকা আত্মসাৎ গ্রেপ্তার ২

মহাসড়কে গাছ ফেলে ডাকাতি করতো তারা, গ্রেফতার ৬

বনের ভেতর সিসা তৈরির কারখানা, হুমকির মুখে পরিবেশ