আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

বাবুল আক্তারকে এখনই পুনঃরিমান্ডে আনা হচ্ছে না

news-image

পরবর্তী প্রয়োজন ও সিদ্ধান্ত ছাড়া মিতু হত্যাকা-ের প্রধান আসামি তারই স্বামী সাবেক এসপি বাবুল আক্তারকে পুনঃরিমান্ডে আনা হচ্ছে না। মিতু হত্যার তদন্তে উদ্ঘাটিত পুরো বিষয়টি পুনঃরিভিউ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় পিবিআই সদর দফতরে সংস্থার চট্টগ্রামের মেট্রো অঞ্চলের এসপি, তদন্ত কর্মকর্তা এবং তদন্তের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে ঢাকায় ডেকে নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়।

পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়, পাঁচদিনের রিমান্ডে বাবুল আক্তার যা স্বীকার করেছেন এবং স্বীকারোক্তি দেয়ার কথা বলে আদালতে গিয়ে উল্টে যাওয়ার ঘটনাবলী। বৈঠক সূত্রে জানানো হয়, স্ত্রী মিতুকে বাবুল সুনিপুণ পরিকল্পনার মাধ্যমে যে হত্যা করিয়েছেন তা একেবারেই পরিষ্কারভাবে উন্মোচিত হয়েছে। এছাড়া বাবুলও জিজ্ঞাসাবাদে এর সবকিছুই স্বীকার করেছেন। কেন হত্যা করিয়েছেন, কিভাবে করিয়েছেন, কাদের দ্বারা করিয়েছেন, কত টাকা হত্যাকারীদের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন এর সবই স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দেয়ার কথা বলে ডিগবাজি করেছেন। গত ১৭ মে আদালতে স্বীকারোক্তি না দেয়ার ফলে তাকে পুনরায় রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য দেয়া হয়েছিল পিবিআই থেকে। কিন্তু সদর দফতরের নির্দেশে সহসা তা করা হয়নি। এছাড়া পিবিআইর মেট্রো অঞ্চলের এসপি নাঈমা সুলতানা তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা এবং সহযোগীদের বৃহস্পতিবার ঢাকায় ডেকে নিয়ে বৈঠক করা হয়। বৈঠকে তদন্তের ফল, জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং কেস ডকেট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তদন্ত তদারকি এবং তদন্ত কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আইনী ব্যাখ্যা নিয়েও আলোচনা করেছেন। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে আসামি বাবুল আক্তার ব্যক্তি জীবনে ধুরন্ধর প্রকৃতির। পুনরায় রিমান্ডে আনা হলে তিনি একই নাটকের অবতারণা করতে পারেন। ফলে বিষয়টির ফল ভিন্ন খাতে প্রবাহিতও হতে পারে। অথচ, মিতু হত্যা নিয়ে গ্রেফতারকৃত কিলিং মিশনের সদস্যদের এবং দুজন সাক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রমাণ করে বাবুল নিজে সূক্ষ্ম পরিকল্পনায় স্ত্রী মিতুকে হত্যা করিয়েছেন, যা তিনি তদন্ত সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে সম্পূর্ণভাবে স্বীকার করে গেছেন। কিন্তু আদালতে গিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী না দেয়ার ঘটনাটি বাবুলের চাতুর্যতা। কেননা, তিনি জানেন, যে কোন মামলায় আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী বিচার কাজের জন্য অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। কিন্তু পিবিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ প্রধান অনুষঙ্গ ছাড়াও বিচারে স্ত্রী হত্যায় বাবুল যে মূল পরিকল্পনাকারী এবং তিনি নিজেই অর্থ দিয়ে কিলিং স্কোয়াড গঠন করে তার সোর্স মুসার নেতৃত্বে মিতুকে হত্যা কারিয়েছেন- সেটা পরিষ্কাভাবে উন্মোচিত হয়েছে। এখন তিনি আদালতে জবানবন্দী দিক বা না দিক তা নিয়ে চার্জশীট প্রদান এবং বিচার কাজে অত বেশি প্রভাব ফেলবে না। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তদন্ত সংস্থা ইতিপূর্বে মিতু হত্যা নিয়ে যে সমস্ত আলামত ও তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন, স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেছেন, পুনরায় আরেক দফা খতিয়ে দেখা। এ পর্যায়ে যদি প্রয়োজন হয় তাহলে পুনরায় আদালতে আবেদন জানানো হবে রিমান্ডে আনার জন্য। গত ১৭ মে থেকে বাবুল চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে ডিভিশন পাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। আদালত জেল কোডের বিধি বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেছে। বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে, বাবুল যেহেতু মিতু হত্যার প্রধান আসামি সেক্ষেত্রে ডিভিশন প্রদানের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে এবং তিনি নিজেই এসপি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তার সার্টিফিকেটও আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। এখন তিনি ডিভিশন পাবেন কিনা সেটা জেল কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করে। কেননা, আদালত তাকে ডিভিশন প্রদানের জন্য সুনির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা প্রদান করেননি। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানানো হয়েছে, বাবুলকে ডিভিশন দেয়া এবং আদালতের দিক নির্দেশনা এখনও তাদের হাতে পৌঁছায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার দেওয়ান মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, আদালতের নথি প্রাপ্তির জন্য তারা অপেক্ষায় রয়েছেন। এদিকে ঢাকায় বৈঠকে শেষে পিবিআই সূত্র জানিয়েছে, মিতু হত্যা নিয়ে নতুন মামলার এবং বাদী হয়ে বাবুল আক্তারের দায়েরকৃত মামলা চলাকালে যেসব তথ্য প্রমাণ বেরিয়ে এসেছে এসব নিয়ে পুরো তদন্ত কার্যক্রম রিভিউ করা হবে। কোথাও কোন খাদ যেন না থাকে সে দিকে নজর রেখে চার্জশীট প্রদান করা হবে। যাতে আইনী কোন ফাঁকফোঁকরে বাবুল ও হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতরা পার পেয়ে যেতে না পারে।