আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

বালুর বাঁধে প্রতিবছর কোটি টাকা পানিতে

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ড্রেজারের মাধ্যমে নদী থেকে তোলা বালু দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে অস্থায়ী রিং বাঁধ। পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা সুইস গেটের পশ্চিম পাশে ১ হাজার ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে এ বাঁধ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। প্রায় ৩৪ বছর ধরে স্থানীয় কৃষকদের ধান রক্ষার নামে বালু দিয়ে অস্থায়ী এ বাঁধ নির্মাণ ও ভাঙার কাজ চলছে। যদিও প্রতি বছরই বাঁধটি নির্মাণের এক থেকে দেড় মাসের মাথায় মাছ আহরণ ও নৌকা চালানোর সুবিধার জন্য অদৃশ্য শক্তির ইশারায় কেটে দেয় স্থানীয় মৎস্য শিকারি ও নৌযান শ্রমিকরা। এভাবে গত ৩৪ বছর ধরে বাঁধটি ভাঙা ও গড়ার কাজ চলছে।

এলাকাবাসী বলছে, বাঁধটি নির্মাণের ফলে স্থানীয় কৃষকদের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন না হলেও সরকারের গচ্চা গেছে প্রায় শতকোটি টাকা। যে অর্থ দিয়ে সেখানে কয়েকবার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ তা না করায় প্রতি বছর ভাঙা-গড়ার কাজই চলছে। শুধু কার্যকরী পরিকল্পনার অভাবে সরকারের এ বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হয়েছে। এ অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। রাউতারা সøুইস গেট লাগোয়া বালুর বাঁধটির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন শাহজাদপুর উপজেলা বাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আলীম ফকির, চরচিথুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা সোহেল রানা, গোলাম আজম, পোতাজিয়া গ্রামের ওসমান গণি, নিজাম উদ্দিন, রাউতারা গ্রামের জিয়া উদ্দিন ও মোন্নাফ সরকার। তারা বলেন, শাহজাদপুর উপজেলাসহ চলনবিল অঞ্চলের অন্তত আট উপজেলার ৪৫ হাজার হেক্টর জমির ইরি-বোরো ধান ও অন্যান্য ফসল বন্যার পানির হাত থেকে রক্ষার জন্য ১৯৮০ সালে তৎকালীন সরকার একটি বাঁধ নির্মাণ করে। এ বাঁধের সুবিধাভোগী উপজেলাগুলো হলো সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া, পাবনার চাটমোহর, ফরিদপুর ও ভাঙ্গুড়া এবং নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া ও বড়াইগ্রাম। ১৯৮৮ সালের বন্যায় বাঁধটির বাঘাবাড়ি-নিমাইচড়া অংশের রাউতারা সøুইস গেটের পশ্চিম পাশে ১ হাজার ২৫০ মিটার পরিমাণ ভেঙে যায়। পরের বছর সেখানে বালু দিয়ে অস্থায়ী রিং বাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। নির্মাণ শেষে বাঁধের এ অংশ ভেঙে না গেলেও প্রতি বছর জুন মাস শেষে মাছ আহরণ ও নৌকা চালানোর সুবিধার জন্য কেটে দেন মৎস্য শিকারি ও নৌযান শ্রমিকরা। এতে চোখের সামনে সরকারের কোটি টাকা জলে ভেসে যায়। আর স্থানীয়রা বাঁধের পাইলিংয়ের বাঁশ, খুঁটি ও বালুর বস্তা লুট করে বিক্রি করে। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন কঠোর নজরদারি করলে বাঁধটি সহজেই রক্ষা করা যায়।

এলাকাবাসী বলছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজশের কারণে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হচ্ছে। তারা সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও দুর্নীতি বন্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় কর্মকর্তা (এসডিও) আবু জুবায়ের বলেন, ‘ইরি-বোরো ফসল রক্ষার্থে পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা সুইস গেটসংলগ্ন লো-হাইট অস্থায়ী রিং বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। ধান কাটা শেষ হয়ে গেলে এখানকার পাহারা সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সুযোগে স্থানীয়রা বাঁধটি কেটে দিয়ে সরকারের বিপুল অর্থের অপচয় করে। তবে এখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে একটি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে এ সমস্যা আর থাকবে না।’

এদিকে আস্থায়ী বাঁধ নির্মাণেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁধটি নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিন অ্যান্ড কোংয়ের পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ‘বাঁধ নির্মাণে কোনো দুর্নীতি হয়নি। শিডিউল অনুযায়ী নদী খননের বালু দিয়ে বাঁধটি নির্মাণ করা হচ্ছে।’
বাঁধে প্লাস্টিকের বস্তার বদলে পাটের বস্তা ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রোদের হিটে প্লাস্টিকের বস্তা নষ্ট হয়ে যায়। পক্ষান্তরে পাটের বস্তার স্থায়িত্ব বেশি। তাই প্লাস্টিকের পরিবর্তে পাটের বস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে।’

এ জাতীয় আরও খবর

দৌলতদিয়ায় ৭ ফেরিঘাটের ৪টিই বিকল, যানবাহনের দীর্ঘ সারি

পানির নিচে পন্টুন, ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি

ছাত্রদল করা সন্তানের জনক হলেন থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি

যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

চাঁদপুরের ডিসিকে বদলি, তিন জেলায় নতুন ডিসি

গাফফার চৌধুরী আর নেই

প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ভূমি দখলের পাঁয়তারার অভিযোগ

কুমিল্লার মানবজমিন প্রতিনিধিসহ সারাদেশের সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে সোচ্চার রূপগঞ্জ প্রেসক্লাব ॥ প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন-বিক্ষোভ মিছিল

চাকরির নামে টাকা আত্মসাৎ গ্রেপ্তার ২

মহাসড়কে গাছ ফেলে ডাকাতি করতো তারা, গ্রেফতার ৬

বনের ভেতর সিসা তৈরির কারখানা, হুমকির মুখে পরিবেশ

বাঘাবাড়ী নৌবন্দর খুঁড়িয়ে চলছে