আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর মৃত্যু

news-image

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ধর্ষণের শিকার ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ নিহত কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

ওই কিশোরীর মৃত্যুর খবর পেয়ে অভিযুক্ত আশিক ও তার পরিবারের সদস্যরা গা ঢাকা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, অভাব আর টানাপোড়েনের সংসারে বেড়ে ওঠে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ওই কিশোরী। সবেমাত্র বয়স ১৫ বছরে পা রেখেছে। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করলে সৎ মায়ের সংসারে থেকেছে। এলাকার এক বাড়ির মালিকের অসুস্থ মায়ের সেবা-যত্নসহ ফুটফরমায়েশের কাজ করতো কিশোরী। বাড়ির মালিকের অসুস্থ মায়ের সঙ্গেই দু’তলায় থাকতেন তিনি। আর নিচতলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতো ১৮ বছর বয়সী আশিক ও তার পরিবার। তাদের গ্রামের বাড়ি একই উপজেলায়।

ভিকটিমের বাবা জানান, আশিকের পরিবার নিচতলায় থাকার সুবাদে আশিকের সঙ্গে তার মেয়ের পরিচয় হয়। আর পরিচয় থেকে প্রেম। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরী কল্পনাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে আশিক। ফলে একসময় অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে তার মেয়ে। কিন্তু পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে অস্বীকৃতি জানায় আশিক ও তার পরিবার। সুবিচারের আশায় ও স্ত্রী-সন্তানের স্বীকৃতির দাবিতে সমাজের মাতবরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বিচার পায়নি। মেলেনি স্ত্রী-সন্তানের স্বীকৃতি। নিরুপায় হয়ে গেলে ২৬ আগস্ট থানায় অভিযুক্ত আশিককে প্রধান আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও ধর্ষণের অভিযোগ এনে ৩ জনের নামে মামলা দায়ের করে।

ভিকটিমের পরিবারের সদস্যরা জানায়, হঠাৎ করে সোমবার সকালে ওই কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ধর্ষণের শিকার ও সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই কিশোরী। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে গা ঢাকা দিয়েছে অভিযুক্ত আশিক ও তার পরিবার।

এ প্রসঙ্গে ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী মাহফুজ হাসান সিদ্দিকী বলেন, কিছুদিন আগে ওই কিশোরী বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের অভিযোগ এনে ৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়। ভিকটিমের মারা যাওয়ার সংবাদের পর পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এছাড়া পুলিশ অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।

এ জাতীয় আরও খবর