আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

বেনামি নালিশ নিয়ে পুলিশে আতঙ্ক অভিযোগের সত্যতা না থাকলেও পোহাতে হয় ভোগান্তি

news-image

বেনামি নালিশ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে চট্টগ্রাম পুলিশে। কথিত রাজনৈতিক নেতাদের অযৌক্তিক তদবির রক্ষা না করলে সংশ্লিষ্ট পুলিশের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে নালিশ করা হয়।

অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামে করা অভিযোগের সত্যতা না থাকলেও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যকে ভোগান্তিতে পড়তে হয় । এমনকি বেনামি এসব অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নাম, ঠিকানাবিহীন কিছু অভিযোগ আসে। তদন্ত করে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় না। বাদীরও হদিস মিলে না। তাই এখন কোনো অভিযোগ এলে সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করা হয়।’
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর জোনের উপ-কমিশনার বিজয় বসাক বলেন, ‘বেনামি অভিযোগগুলো আমরা প্রাথমিকভাবে তদন্ত করি। সত্যতা পাওয়া গেলে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করানো হয়। সত্যতা পাওয়া না গেলে অভিযোগগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে রাখি।’ অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রামে বেনামি নালিশ করেন এমন ৩০টি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এ চক্রে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য, কথিত সাংবাদিক, মানবাধিকার সংগঠনের নেতা ও আদালত ভবনের কিছু দালাল। তাদের তদবির রক্ষা না করলে ওই পুলিশের বিরুদ্ধে বেনামি অভিযোগ করেন। পরে অভিযোগের কপি নিয়ে শুরু হয় তাদের বাণিজ্য। মানবাধিকার সংগঠনের কথিত নেতারা সংবাদ সম্মেলন ও ভুঁইফোঁড় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে উৎকোচ দাবি করে। এক্ষেত্রে অনেক পুলিশ সদস্য ঝামেলা এড়াতে বিষয়টা রফাদফা করেন।

সিএমপির ভুক্তভোগী কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কিছু ভুঁইফোঁড় সংগঠনের নামে নানান তদবির নিয়ে থানায় আসেন কথিত নেতারা। অযৌক্তিক তদবিরগুলো রক্ষা না করলে তারা বেনামি নালিশ দেয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে। অভিযোগ সত্য মিথ্যা প্রমাণ হওয়ার আগেই অনেক ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের।’

কয়েকটা অভিযোগ তদন্ত করেছেন এমন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কয়েক মাসে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে বেনামি কিছু অভিযোগ জমা পড়ে। এ অভিযোগগুলো তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায় আবেদনকারীর নাম-ঠিকানা কিছুই ঠিক নেই। যে মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়েছে সেটাও অন্যজনের। যেসব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলোর সিংহভাগেরই সত্যতা পাওয়া যায়নি। বেনামি এসব অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে উল্টো তদন্তকারী কর্মকর্তাকেই হয়রানিতে পড়তে হয়।’