আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

বেপরোয়া অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা

news-image

বাগেরহাটের যত্রতত্র অবৈধভাবে ভুগর্বস্থ বালু উত্তোলনকরী একটি চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নিয়ম নীতি ও আইনের তোয়াক্কা না করে তারা যত্রতত্র সরকারি নদী, খাল ও জলাশয় থেকে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন দিয়ে দিনরাত বালু উত্তোলন করছে। ফলে একদিকে যেমন পার্শ্ববর্তী রাস্তা ও জমিতে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হচ্ছে। তেমনি বিকট শব্দে স্থানীয় পরিবেশ-প্রতিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে। অভিযোগ রয়েছে বেশিরভাগ এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহল যোগসাজশে এসব বালু উত্তোলন হয়। যে কারনে স্থানীয় বাসিন্দারা অতিষ্ট হলেও মুখ খুলতে পারছেন না।

বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের বড়বাসবাড়িয়া এলাকার পিচঢালা রাস্তা সংলগ্ন খালে দুটি ড্রেজার দিয়ে ভুগর্বস্থ বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে শনিবার (২৭ আগস্ট)। আব্দুল রসুলপুর গ্রামের ছ-বাকি খালে বসানো ড্রেজারটি ডেমা ইউনিয়ন পরিষদের জনৈক মেম্বারের। এরপরে বড়বাসবাড়িয়া এলাকায় আন্ধারিয়া নদীর শাখা খালে বসানো ড্রেজারটির মালিক রামপাল উপজেলার ফয়লা এলাকার পলাশ নামের এক ব্যক্তি। এই ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন ডেমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন।

কেবলমাত্র ডেমা ইউনিয়ন নয়, বাগেরহাটের ৭৫টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভার অধিকাংশ এলাকায় অনুরূপ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ভুগর্বস্থ এসব বালু দিয়ে বেশিরবাগ ক্ষেত্রে পরিবেশ আইন অমান্য করে পুকুর, জলাশয় এবং নিচু জমি ভরাট করে উচু করা হচ্ছে। স্থান, এলাকা ও দূরত্ব ভেদে প্রতি ফুট বালু ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। বালু বিক্রি থেকে প্রাপ্ত টাকার অংশ ভাগ-বন্টন হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডেমা ইউনিয়নের এক বাসিন্দা বলেন, শুধু আব্দুল রসুলপুর ও বড়বাসবাড়িয়া নয়, আমাদের ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়। এবিষয়ে কথা বললে প্রভাবশালীদের রোষানলে পরতে হয়। তাই ক্ষতি হলেও মুখ বুঝে সহ্য করতে হচ্ছে আমাদের।
বালু উত্তোলনকারী ও ড্রেজার মেশিনের জনৈক মালিক বলেন, সবাই উত্তোলন করে তাই আমিও মেশিন বানিয়েছি। চুক্তি করে বালু উত্তোলন করছি। ইউএনও স্যার ফোন দিয়েছিলেন, তাই বন্ধ করেছি।

ডেমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এই বালু দিয়ে আমার বাড়ি উচু করছি না। বালু দিয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট করছি। যাতে আমাদের শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করতে পারে। মাঠ ভরাট হলে মেশিন বন্ধ করে দিব।

বিভিন্ন গবেষনা রিপোর্ট অনুযায়ী বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশের নানা ক্ষতি হয়। এর মধ্যে উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলে নেতিবাচক পরিবর্তন, ভূগর্ভস্থ পানি ও বায়ুদূষণ হওয়ারমত ঘটনা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষও আক্রান্ত হচ্ছে। বালু উত্তোলনের সময় সৃষ্ট বায়ুদূষণে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের মধ্যে পরিবর্তন ঘটার ফলে তাদের আবাসস্থল যেমন ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি তাদের খাদ্যের উৎসও ধ্বংস হচ্ছে। ফলে মৎস্য প্রজনন-প্রক্রিয়া পাল্টে যাওয়ার পাশাপাশি চাষাবাদের জমিও নষ্ট হচ্ছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার দত্ত বলেন, ভুগর্বস্থ বালু উত্তোলনে প্রাকৃতিক ভূচিত্র নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ওই এলাকার জনজীবনের উপর স্থায়ী বিরুপ প্রভাব পরে। অপরিকল্পিত উপায়ে ভুগর্বস্থ বালু উত্তোলন বন্ধ না করা গেলে বাংলাদেশের পরিবেশ-প্রতিবেশের উপর অনেক বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন,অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হচ্ছে। অনেকগুলি মেশিনসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। এ অভিযান আরও জোরদার করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

১৫১ প্রতিমা নিয়ে বড় দুর্গাপূজার আয়োজন

স্বজন হারানোর আহাজারির মাঝেই চলছে অবৈধ বালু তোলার মহোৎসব

নূরুল ইসলাম রাজা দ্বিতীয়বার মানিকগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত

শ্রীবরদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দায়ী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: বিদায়ী র‌্যাব ডিজি

কক্সবাজারের রামু বাঁকখালীর বাঁকে বাঁকে অবৈধ ড্রেজার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা–কর্মীরা মিলেমিশে নদীর ২৫টি অংশে ৫০-৫৫টি খননযন্ত্র বসিয়ে দৈনিক ৫০০ ট্রাক বালু তুলছেন।

নিলামে বালু বিক্রি, ১৩ সরকারি কর্মকর্তাকে চিঠি বেলার

মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে নিলামে বালু দিলেন ইউএনও

অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন হুমকিতে শত কোটি টাকার সেতু

ভূঞাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন

তথ্য অধিকার আইন, দোরগোড়ায় সুফল পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী