আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

বেলকুচিতে রাজাকার পরিবারের সন্তান ছাত্রলীগের সম্পাদক প্রার্থী

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা সমালোচনা। ছাত্রলীগর এই কমিটিতে রাজাকার পরিবারের সন্তানকে সাধারন সম্পাদক পদে সুপারিশ করেছেন স্থানীয় এমপি। এমন অভিযোগ এনে ক্ষুদ্ধ স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা। বেলকুচি উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০০৬ সালে এরপর নতুন কমিটি নিয়ে তোরজোর চলছে দীর্ঘদিন। সাম্প্রতিক এই ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন করতে একটি তালিকা তৈরি করে জেলা ছাত্রলীগের কাছে জমা দেন।

এই তালিকায় বেলকুচি উপজেলার রাজাকার পরিবারের সন্তান হাবিব মিল্লাতকে সাধারন সম্পাদক হিসেবে সুপারিশ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ আব্দুল মমিন মন্ডল। বর্তমান এই ছাত্রলীগ নেতা তৈল বাজীতও কম নন। স্বল্প সময়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ মন্ডলের হৃদয় জয় করে ফেলেন। সংসদ সদস্যর আর্শীবাদপুষ্ট হয়ে বেলকুচি ছাত্রলীগের সাধানর সম্পাদক পদ বাগিয়ে নিতে তৎপর হয়ে উঠেছেন। সংসদ সদস্যও তাকে এককভাবে সাধারন সম্পাদক হিসবে নির্বাচিত করতে জেলা ছাত্রলীগ ও কেদ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে সুপারিশ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে প্রকৃত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তষ্ট সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকৃত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, হাবিব মিল্লাত একটা রাজাকার পরিবারের সন্তান। তাকে কখনই আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে দেখিনি। তিনি মাদক সেবি ও বিক্রতা।

সম্প্রতি বেলকুচি উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক প্রার্থী হয়েছেন। এমনকি স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মন্ডলসহ কিছু নেতা জেলা ছাত্রলীগসহ কেদ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে তার পক্ষে সুপারিশও করেছেন। রাজাকার পরিবারের একজন মাদক সেবি ও বিক্রেতা যদি ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক পদ পায় তবে দলের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করছেন প্রকৃত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

সিয়াম আহমেদ নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী জানান, এমপি মহাদয় যদি এটা করে থাকে তাইলে তাদেরকে নিয়েই জানি থাকে আমরা তার কাছে যাবো না, নির্বাচনের সময় যুদ্ধ করি আমরা আর পদ পদবী পাবে ওরা? কিভাবে মেনে নেয়া যায় এগুলা? জুয়েল আল হাসান নামে একজন জানান, এইভাবে চললে ভাই আওয়ামীলীগের রাজনীতি আর খাটি মুজিব প্রেমী পাওয়া যাবে না। উপজলা মুক্তিযাদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ও উপজলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী দেলখোজ আলী প্রামানিক জানান, হাবিব মিল্লাতের দাদা ডিগ্রী প্রামানিক ছিলেন স্বাধীনতা বিরোধী শান্তি কমিটির সক্রিয় সদস্য। তার চাচা আহমেদ প্রামানিক স্বাধীনতা বিরোধী চিহ্নিত রাজাকার ছিলন।

রাজাকার পরিবারর সন্তান যদি আওয়ামীলীগের কমিটিতে আসে তাহলে প্রকৃত আওয়ামীলীগের কর্মীরা কোথায় যাবে। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসান হাবিব খোকা জানান, বেলকুচি উপজলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি নিয়ে য অভিযোগ উঠেছে সে বিষয় স্থানীয় এমপি ও উপজলা আওয়ামীলীগকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগটির সত্যতা প্রমান পাওয়া যায় তাহলে ছাত্রলীগের কোন পদে আসতে পারবেনা। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির কোন পরিবারের সন্তানকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আসার কোন সুযোগ নেই। জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল্লাহ বিন আহমেদ জানান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক হিসেবে হাবিব মিল্লাতকে স্থানীয় সংসদ সদস্য মমিন মন্ডল প্রাথমিকভাবে চাইছেন। কি হাবিবের বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ ওঠায় কমিটি গঠন প্রক্রিয়া বন্ধ রেখে সেগুলা তদন্ত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধানর সম্পাদক প্রার্থী হাবিব মিল্লাত জানান, আমি কখনো রাজাকার পরিবারের সন্তান নই। আমার পরিবারের কেউ মুক্তিযোদ্ধার বিরাধীতা করেনি। আমি একটি আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তান। আমার বাবা ১৯৯২ সালে সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ছিলো। আমার ছোট চাচা ১৯৮৬ সাল ছাত্রলীগ থেকে নির্বাচিত কলেজ সংসদের ভিপি ছিলেন তিনি বর্তমান উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য। আমি ২০১২ বেলকুচি সরকারী কলজ ছাত্র সংসদের সাধারন কক্ষের সম্পাদক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেছি। একটি কুচক্রি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ বিষয়টি জানতে স্থনীয় সংসদ সদস্য আলহাজ আব্দুল মমিন মন্ডলের সাথে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।