আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

ব্যবস্থা না নিয়ে আসামির সঙ্গে আপসের প্রস্তাব পুলিশের!

চাঁদাবাজদের দ্বারা হামলার শিকার হয়ে চট্টগ্রামে রেজিস্ট্রি অফিসের এক কর্মচারী রক্তাক্ত অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স যোগে পুলিশের কাছে যান। প্রমাণ করতে চান এই সন্ত্রাসীরা এর আগেও তার ওপর হামলা করেছিল। কিন্তু এর পরও হামলার বিষয়টি কোতোয়ালি থানা পুলিশ বিশ্বাস করেছে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান হামলার শিকার মোহাম্মদ শফি। কারণ প্রথম দফা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রায় চার মাসেও জমা দেয়নি পুলিশ। উলটো আসামির সঙ্গে আপস মীমাংসা করার জন্য বাদিকে নানাভাবে চাপ দেন তদন্ত কর্মকর্তা। ওই মামলায় আপস-মীমাংসা না করার কারণেই দ্বিতীয় দফা হামলার শিকার হন শফি। এখন তিনি জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছেন।

মোহাম্মদ শফি বলেন, ‘প্রথম দফা হামলার ঘটনায় পুলিশ যদি একটু সক্রিয় হতো, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করত তবে দ্বিতীয় দফায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটাত না। দ্বিতীয় দফা হামলায় তিনি এক প্রকার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে তিনি এর আগে চারটি জিডিও করেন। কিন্তু একটিরও জিডির তদন্ত হয়নি।’

জানা যায়, চট্টগ্রাম রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ নকলনবিস হিসেবে কর্মরত আছেন মোহাম্মদ শফি। তার বাড়ি পটিয়া উপজেলার মনসা গ্রামে। পিতার নাম খুইল্যা মিয়া। মনসায় নিজ গ্রামে দুই প্রবাসীসহ চার ভাই মিলে দুই গণ্ডা জমির ওপর একটি বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন তিন বছর আগে। এ জন্য ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে নিয়েছেন ঋণ। কিন্তু শুরু থেকেই এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী ইয়াবা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি নুরুল আজিম বাচা ওরফে ইয়াবা বাচা ও রেজাউল করিম ওরফে কানা করিম বিভিন্নভাবে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দিলে ঘর নির্মাণ করতে পারবে না বলে হুমকি ধমকি দিতে থাকে। কখনো অজ্ঞাতনামা ফোন থেকে নিজেদের পরিচয় দিয়ে কখনো সামনা-সামনি এসে হুমকি-ধমকি দেন। কখনো মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন নির্মাণ শ্রমিকদের। এ ধরনের ঘটনায় ২০২০ সালে নগরীর কোতোয়ালি থানায় দুটি ও বাকলিয়া থানায় একটি এবং পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। কিন্তু কোনো থানা এসব জিডির তদন্ত করেনি। পটিয়া থানায় করা জিডি তদন্ত করতে গিয়ে কালারপোল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সোলায়মান বাদিকে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘লোকগুলো খারাপ। তাই নিরাপদ স্থানে সরে থাকা ভালো।’

সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১৬ জুন সকালে শফি কর্মস্থল চট্টগ্রাম রেজিস্ট্রেশন অফিসে আসার পথে কোতোয়ালি থানাধীন ফিরিঙ্গিবাজার অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন অফিসের সামনে হামলার শিকার হন। সন্ত্রাসী বাচা ও কানা করিম তাদের সহযোগীদের নিয়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে ব্যাপক মারধর করে শফিকে। তার কাছে থাকা ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে শফি কোতোয়ালি থানায় যান মামলা করতে। রাতভর থানায় বসিয়ে রেখে পরদিন সকালে মামলা গ্রহণ করে পুলিশ। এ মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় উপ-পরিদর্শক সুকান্ত চৌধুরীকে। তিনি মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ বা তাদের গ্রেফতার চেষ্টার পরিবর্তে উলটো বাদীকে নানাভাবে চাপ দিতে থাকেন আসামিদের সঙ্গে আপস করতে। শফি যেসব সাক্ষী নিয়ে গেছেন তাদের থানায় উলটো নাজেহাল করতে থাকেন ওই তদন্ত কর্মকর্তা। এ অবস্থায় মামলার বাদী (শফি) তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের জন্য আদালতে আবেদন করেন। আসামির বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আরজিতে উল্লেখ করেন তিনি।

ওই ঘটনার তিন মাসের মাথায় ১৮ সেপ্টেম্বর আসামিরা আবারও শফির ওপর হামলা করে। বাসযোগে শহরে আসার পথে কর্ণফুলী থানাধীন ভেল্লাপাড়া বালুর মহাল এলাকায় ফাঁকা গুলি করে বাস থামায় সন্ত্রাসীরা। ওই বাস থেকে শফিকে নামিয়ে বালুর মহালে নিয়ে যায়। সেখানে বাচা ও করিমের নেতৃত্বে ১৫-১৬ জন মিলে শফিকে হাত-পা বেঁধে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। টাইলস কেনার জন্য শফির হাতে থাকা ১২ লাখ ৪২ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেয়। আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে থাকায় এক পর্যায়ে আসামিরা পালিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সযোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পথে কোতোয়ালি থানার সামনে শফিকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স নেওয়া হয়। মামলার আইও সুকান্ত চৌধুরী ও থানার ওসি জাহিদুল কবিরকে স্বজনরা খবর দিলে তারা এসে রক্তাক্ত অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে দেখেন শফিকে। ওই হামলায় শফির মাথা হাত ও পায়ে অন্তত ছয়টি কোপ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন অছেন।

এদিকে ওই ঘটনায় সিএমপির কর্ণফুলী থানায় মামলা দায়ের করেন শফি। মামলায় আসামি সেই নুরুল আজিম বাচা ও রেজাউল করিম ওরফে কানা করিমসহ অজ্ঞাতনামারা। এ মামলাটি তদন্ত করছেন কর্ণফুলী থানার উপ-পরিদর্শক মো. আলমগীর।

‘আগের মামলায় ব্যবস্থা নেওয়া হলে দ্বিতীয় দফায় হামলা করার সাহস পেত না আসামিরা’-এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক সুকান্ত চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘শফির ওপর দ্বিতীয় দফা হামলার বিষয়টি আমরা জানি। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সে ওসি ও আমি নিজে শফিকে দেখেছি। আর এর আগে কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে। আসামির সঙ্গে আপস-মীমাংসার জন্য বাদীকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। একই আসামিরা যে ফিরিঙ্গি বাজারেও এমন ঘটনা ঘটিয়েছে সেটি এখন বিশ্বাস হচ্ছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে সুকান্ত চৌধুরী বলেন, এসব তদন্তাধীন বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না।

হামলার শিকার শফি বলেন, ‘হামলার শিকার হয়েই পুলিশের কাছে আমাকে প্রমাণ করতে হচ্ছে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজরা চাঁদার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়েছিল। আমার ওপর হামলা করেছিল। এর পরও পুলিশ বিশ্বাস করছে কিনা তা নিয়ে আমি সন্দিহান। না হলে মামলার তদন্তে পুলিশের এতো অনীহা কেন?’

এ জাতীয় আরও খবর

অভিযানের খবরে ড্রেজার রেখে পালালেন অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা

আনোয়ারায় বালু ব্যবসায়ীকে জরিমানা

মাটিকে গুরুত্ব দিয়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নাশকতা মামলায় বিএনপির বদলে আ.লীগ নেতা আটক পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ দলীয় নেতাকর্মী

ধোপাজান নদীর বালু-পাথরের টাকা সিন্ডিকেটের পকেটে

পদ্মার চরে মাটি-বালু লুট চলছেই

শঙ্খ নদী থেকে বালু উত্তোলন, জরিমানা

চাঁঁদপুরের মেঘনা পাড়ের মাটি কাটায় ৪ জনকে দুই লাখ টাকা জরিমানা

নালিতাবাড়ীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, জরিমানা আদায়

টাঙ্গাইলে চায়নার ডেইরি ফিডের জন্য নিশ্চিহ্ন হচ্ছে জমি ও শতাধিক বাড়ি

আমরা উন্নয়ন করি, আর বিএনপি মানুষ খুন করে: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামে ২৯ প্রকল্পের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর