আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

ব্রহ্মপুত্রে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন, ভাঙন ঝুঁকিতে ঘরবাড়ি-গোরস্থান

news-image

ময়মনসিংহ সদরের তারাগাই ব্রহ্মপুত্র নদের পাশে গৃহবধূ সালেহা খাতুনের (৭৫) বাড়ি। বিয়ের পর ৬০ বছর ধরে সেখানে বাস করছেন। অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে তার বাড়ির পাশের পাকা রাস্তার অর্ধেক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পারিবারিক গোরস্থানের অর্ধেক নদীগর্ভে চলে গেছে, বাকিটাও ঝুঁকিতে। গোরস্থান না থাকলে মৃত্যুর পরে কোথায় কবর হবে, এ নিয়ে চিন্তিত সালেহা।

তিনি বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্রে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই ভাঙছে নদীর আশপাশের বাড়িঘর, রাস্তাঘাটসহ গোরস্থান। ইতোমধ্যে তাদের পারিবারিক গোরস্থানের অর্ধেক নদীগর্ভে চলে গেছে। ভেঙে গেছে পাশের রাস্তার অর্ধেক। আসছে বর্ষায় বাকি গোরস্থান ও রাস্তা নদীগর্ভে চলে যাবে।’

সরেজমিন ব্রহ্মপুত্র নদের পাশের ঘুন্টি, কিসমত, তারাগাই, কল্যাণপুর, বাহাদুরপুর গ্রাম হয়ে বেগুনবাড়ি পর্যন্ত দেখা গেছে, অবৈধ ড্রেজার মেশিনের ছড়াছড়ি। ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে সড়কের পাশে রেখে বিক্রি করা হচ্ছে। দিনরাত বালু পরিবহনে ব্যবহার হচ্ছে শতাধিক ট্রাক। এতে এলাকায় ধুলোবালি উড়ে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় দোকানি ফারুক জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী হাজী সিরাজ, বাদল মেম্বার, জুলহাস, ফরহাদ, সজীব, আসাদ ও আবু সাঈদসহ ১৫-২০ ব্যক্তি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে ব্রহ্মপুত্র থেকে বালু তুলে বিক্রি করছেন। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে ব্রহ্মপুত্রের আশপাশের অনেক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেক বাড়ি বিলীন হওয়ার পথে। রাস্তাঘাটের অনেক জায়গা ভাঙন ধরেছে। পাশাপাশি গোরস্থান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্কুল হুমকির মুখে। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় এই প্রভাবশালী মহল লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

স্থানীয় জুবায়েদ হোসেন জানান, বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী। তারা মানুষের বাড়িঘরের ভেতর দিয়ে পাইপ নিয়ে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলছে। এভাবে বালু তোলায় কল্যাণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক দেবে গেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে বিদ্যালয়টি।
বালু ব্যবসায়ী আসাদ জানান, বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের লোকজন এসে ড্রেজার মেশিন জব্দ করে, জরিমানা করে এবং মামলা পর্যন্ত দিয়েছে। তবে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বালু উঠালে স্থানীয় লোকজনের তেমন কোনও একটা সমস্যা হচ্ছে না। বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিবছর ভাঙনের কবলে পড়ে বাড়িঘর, রাস্তাঘাটসহ অনেক প্রতিষ্ঠান।

জেলা প্রশাসক এনামুল হক জানান, দ্রুতই অবৈধ ড্রেজার মেশিন মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। কোনোভাবেই তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

পদ্মা সেতু: শিল্পের জন্য প্রস্তুত গোপালগঞ্জ

এখন যানবাহনের অপেক্ষায় ফেরি

ফেরিতে পাঁচ ভাগের এক ভাগে নেমে এলো ছোট গাড়ি

বাঁশখালীতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণ

মানিকগঞ্জে পদ্মা সেতুর লাইভ অনুষ্ঠানে অস্ত্র নিয়ে মহড়া, সাংবাদিক গ্রেপ্তার

উল্লাসে মেতেছে পদ্মা পাড়ের মানুষ

চার মাস না যেতেই উঠছে ৯ কোটি টাকার সড়কের পিচ

পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পিঠা উৎসব

নদী ভাঙা মানুষের বিলাপ

সাঁতরে মঞ্চে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলল কিশোরী

বঙ্গবন্ধুর শ্রেষ্ঠ উপহার স্বাধীনতা, আর প্রধানমন্ত্রীর শ্রেষ্ঠ উপহার পদ্মা সেতু : পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী

সেতুর উদ্বোধনে ফায়ার সার্ভিসের শোভাযাত্রা