আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

বড় বিপদ থেকে রক্ষা ॥ ইয়াসের প্রভাবে বিস্তীর্ণ উপকূল প্লাবিত

news-image

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ভারতে তাণ্ডব চালিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ায় বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারেনি। ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে ইয়াসের প্রভাবে দেশের বিস্তীর্ণ উপকূল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের দমকা হাওয়া ও জলোচ্ছ্বাসে এ পর্যন্ত ৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া শতাধিক গ্রাম পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এর ফলে উপকূলবাসী এখন চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছে। এছাড়া বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তর ফসলি জমি ও অসংখ্য মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। সাময়িক ক্ষতি খুব বেশি মনে না হলেও ইয়াসের প্রভাবে উপকূলবাসী সিডর, আইলা ও আমফানের মতো দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইয়াসের প্রভাব চলে গেলেও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। ঢাকা আবহাওয়া অফিস বলেছে, এখন আমাদের দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টিপাত নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করব।

ভারতীয় সময় বুধবার সকাল ১০টা ৭ মিনিটে ওড়িশা রাজ্যের বালেশ্বর ও পশ্চিমবঙ্গের দীঘা উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তান্ডব চালিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় ওই এলাকায় ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস হওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ওড়িশাসহ ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াস আঘাত হানায় বাংলাদেশ এখন ঝুঁকিমুক্ত। এর প্রভাবে দেশে তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে ভরা পূর্ণিমার প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলোতে পানি বৃদ্ধি আরও দু’একদিন অব্যাহত থাকবে। এছাড়া ইয়াসের প্রভাবে দেশে অন্তত ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়টির গতিমুখ বাংলাদেশের দিকে না হলেও এর প্রভাব বলয়ে খুলনা উপকূল ছিল বলে প্রায় ১৫ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। দুর্ঘটনা এড়াতে নদীপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল মঙ্গলবার থেকেই বন্ধ করে দিয়েছিল বিআইডব্লিউটিএ।

সাগর উত্তাল থাকায় সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস বলেছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম জেলা এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সঙ্গে ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

পূর্ণিমার প্রভাবে উপকূলীয় জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৬ ফুটের বেশি উচ্চতার জোয়ারে।

ইয়াসের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৮ জনের মৃত্য ॥ ফেনীর সোনাগাজী ও বরগুনার বামনায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারের পানিতে ডুবে দুই জেলের মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে ভোলার লালমোহনে গাছ চাপায় এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ওঠা পানিতে ডুবে জিনিয়া আক্তার (৪) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার দিবাগত রাতে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আলাউদ্দিন মিলন বলেন, ওইদিন বিকেলে নিয়ামতি ইউনিয়নের ঢালমারা গ্রামের হাফিজুর রহমানের তিনবছরের কন্যা সুমাইয়া এবং গাড়ুরিয়া ইউনিয়নের রুনসী গ্রামের আলী আজহারের তিনবছরের কন্যা আজোয়া মারা গেছেন।

এছাড়া এদিন ঝালকাঠীতে সিয়াম হোসেন (৮) ও সামিয়া আক্তার (৪) নামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

ভোলা প্রতিনিধি জানান, লালমোহনে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে গাছ চাপা পড়ে আবু তাহের (৪৮) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কালমা ইউনিয়নের মৃধার চৌমুহনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আবু তাহের, স্থানীয় গফুর পাটোয়ারীর ছেলে।

নিহতের স্বজনরা জানান, রাতে তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে যান। এ সময় প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাসে বাগানের একটি রেইনট্রি গাছের ডাল ভেঙ্গে তার গায়ে পড়লে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান।

অপরদিকে মঙ্গলবার রাতে বরগুনার বামনায় মাছ শিকার করতে গিয়ে নান্না জোমাদ্দার (৩৫) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার দক্ষিণ ডৌয়াতলা গ্রামের মতি জোমাদ্দারের পুত্র।

পারিবারিক সূত্র জানায়, নান্না মঙ্গলবার রাতে বাড়ির পাশের হোতাখালে মাছ শিকার করতে গেলে হঠাৎ খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি পানিতে ডুবে মৃত্যু বরণ করেন।

এছাড়া ফেনীর সোনাগাজীতে মঙ্গলবার মাছ ধরতে গিয়ে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারের পানিতে ডুবে হাদিউজ্জামান নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগরের শেখপাড়া গ্রামে।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম পলাশ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছোট ফেনী নদীর বাইরের চরে ১০ থেকে ১২ জন জেলে মাছের পোনা ধরতে যায়। এ সময় ৪-৫ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে অন্যরা বাঁচতে পারলেও হাদিউজ্জামান নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস তার মরদেহ উদ্ধার করে।

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ওঠা পানিতে ডুবে জিনিয়া আক্তার (৪) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। খাউলিয়া ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। জিনিয়া ওই গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক কালাম গাজীর মেয়ে।

জানা গেছে, ঘটনার সময় বাড়ির মধ্যে পানি উঠতে দেখে গরু বাঁচানোর জন্য ছুটে যান কালাম গাজী ও তার স্ত্রী লিজা বেগম। কিছুক্ষণ পরে ঘরে ফিরে জিনিয়াকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাকে পাওয়া যায় ঘরের পাশে পানির মধ্যে। দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাঃ কামাল হোসেন শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

খাউলিয়া ইউনয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, অতিরিক্ত পানি উঠে যাওয়ায় শিশুটি পানিতে ডুবে মারা যায়।

জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত ৯ জেলার ২৭ উপজেলা ॥ ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’-এর প্রভাবে অতি জোয়ার বা জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় ৯ জেলার ২৭ উপজেলার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সার্বিক ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান এ কথা জানান। তিনি বলেন, ভোলার লালমোহন উপজেলায় গাছ চাপা পড়ে একজন মারা গেছেন।

তিনি জানান, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- শ্যামনগর, আশাশুনি, কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা, শরণখোলা, মোংলা, মোড়েলগঞ্জ, মঠবাড়ীয়া, বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী, পটুয়াখালী সদর, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, দশমিনা, মির্জাগঞ্জ, কলাপাড়া, চরফ্যাশন, মনপুরা, তজুমদ্দিন, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, ভোলা সদর, হাতিয়া, রামগতি ও কমলনগর।

ল-ভ- সেন্ট মার্টিনের পর্যটক জেটি : ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্ট মার্টিনের একমাত্র পর্যটক জেটি ল-ভ- হয়ে গেছে। প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে দৈনিক ৫ থেকে ১২ হাজার পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এই জেটি দিয়ে জাহাজে ওঠানামা করতেন।

মঙ্গলবার রাত থেকে ঘূর্ণিঝড় ও জোয়ারের পানির উত্তাল ঢেউ জেটিতে আঘাত করতে থাকে। এতে জেটির পন্টুনে ফাটল দেখা যায়। বুধবার সকালে উত্তাল সাগরের ঢেউ আঘাত হানলে জেটির অধিকাংশ পন্টুন, রেলিং ও সিঁড়ি নষ্ট হয়ে যায়।

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে সার্ভিস ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আলম বলেন, সাগর উত্তাল হয়ে পড়ায় গত রবিবার দুপুর থেকে বুধবার পর্যন্ত টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দ্বীপে তরিতরকারিসহ খাদ্যপণ্যের সংকট দেখা দিতে পারে। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পূর্ণিমার জোয়ারও।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নূর আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে দ্বীপের দক্ষিণ সৈকতে ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও দ্বীপের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিম সৈকতের বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বেশ কিছু গাছপালা, হোটেলের সীমানাপ্রাচীর ভেঙ্গে গেছে। দ্বীপের চারদিকে লোনাপানি প্রবেশ করায় মিষ্টি পানির সঙ্কট হতে পারে।

বজ্রপাত-দমকা হাওয়া নিয়ে সতর্কতার পরামর্শ: ঘূর্ণিঝড় ইয়াস বাংলাদেশ থেকে দূরে সরে গেছে। তবে এর প্রভাবের কারণে বজ্রপাত-দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া নিয়ে এবার সতর্ক থাকতে হবে।

ইয়াসের সার্বিক প্রভাব নিয়ে আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, এখন আমাদের দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টিপাত নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করব।

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী আবহাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যতক্ষণ মেঘলা আবহাওয়া থাকবে, ততক্ষণ তাপমাত্রা ওঠানামা করবে। তবে তাপদাহ থাকবে না। কিন্তু জলীয়বাষ্পের অনুপ্রবেশ ঘটেছে ইয়াসের কারণে। তাই রোদ উঠলে অস্বস্তি করবে।

ইয়াস আঘাত ধীরে ধীরে শক্তি ক্ষয় করে বৃহস্পতিবার নিম্নচাপে রূপ নেবে। ফলে ২৭ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তবর্তী ভারতের জেলাগুলো ভারী বর্ষণের আভাস রয়েছে।

স্বেচ্ছশ্রমে ফাটাল ধরা বেড়িবাঁধ রক্ষা ॥ হাতিয়া থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে অতিরিক্ত জোয়ারের নতুন নির্মাণ করা বেড়িবাঁধের অনেকাংশে পাটাল ধরে ধসে পড়ার উপক্রম হয়। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন এসে অনেকটা স্বেচ্ছাশ্রমে ঝুঁকিতে থাকা বেড়িবাঁধ মেরামত করে ধসে পড়া থেকে মুক্ত করে। এ সময় পাশেই ত্রাণ বিতরণে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসেনও এসে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। বুধবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নলচিরা ইউনিয়নের ফরাজি গ্রামে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমরান হোসেন বলেন অস্বাভাবিক জোয়ারে হাতিয়ার তিনটি ইউনিয়নের ৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। জোয়ারের উচ্চতা অনেক বেশি হওয়ায় অনেক জায়গায় ছিড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কিছু কিছু জায়াগায় এলাকার লোকজনের সহযোগিতায় মেরামত করা হয়েছে। তবে রাতের জোয়ারে এসব এলকায় বেড়িবাঁদ ছিড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি ডুকে পড়েছে অন্তত ১৩টি গ্রামে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে দ্বীপটির হাজার হাজার বাসিন্দা। জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে পুকুরের মাছ ও জমির ফসল। বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ভাঙ্গা বেড়িবাঁধের পাশে থাকা বাসিন্দারা।

এ সময় বেড়ির বাইরে ৫-৭ ফুট উচ্চতায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ায় নতুন করে নির্মাণ করা বেড়িবাঁধে ফাটাল দেখা দেয়। এর মধ্যে সোনাদিয়া ইউনিয়নের ফাইক বাজার এলাকায় বেড়িবাঁধ ছিঁড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। তবে সুখচর ও নলচিরা ইউনিয়নের অনেক জায়গায় বেড়িবাঁদ ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম হলে এলাকাবাসী তা আবার সঙ্গে সঙ্গে মেরামত করে পেলে। অনেকে নিজেদের বাড়ি থেকে বাঁশ, বস্তা, দড়ি নিয়ে এসে কোনভাবে বেড়িবাঁধ ধসে পড়া থেকে রক্ষা করে।

ডুবে গেছে ভোলার ৩০ চর ॥ ভোলা থেকে প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে উপকূলীয় দ্বীপজেলা ভোলার ওপর দিয়ে বুধবার সকাল থেকে থেমে থেমে ঝড়ো বাতাস ও মাঝে মাঝে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। মেঘনা নদীর জোয়ারের পানি বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। অস্বাভাবিক জোয়ারের পানির চাপে মনপুরায় ২টি স্থান দিয়ে বাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়াও জেলার দুর্গম অন্তত ৩০টি চরাঞ্চলে প্লাবিত হয়েছে। এতে করে প্রায় ৫০ হাজার লোক পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অপর দিকে ভোলার লালমোহন উপজেলায় আবু তাহের (৪৮) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে উত্তাল রয়েছে নদী। এতে উপকূলের চরাঞ্চলের ঘরবাড়ি, রাস্তাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে গেছে। ভেসে গেছে পুকুর ও মাছের ঘের। উপকূলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন সাইক্লোন সেল্টারে।

৬ ফুট পানির নিচে কুয়াকাটা ॥ ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে কুয়াকাটা এবং এর আশপাশের এলাকার নিম্নাঞ্চল ৬ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর ভেসে গেছে। উপকূলীয় এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত তিন দফা জোয়ারের পানিতে ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে কলাপাদা উপজেলার নিম্নাঞ্চল।

অতি জোয়ারে প্লাবিত সুন্দরবন ॥ বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, অতিরিক্ত জোয়ারে সুন্দরবনের অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে গেছে। ৩০ বছর পর ভরাপূর্ণিমায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিশ^ খ্যাত ম্যানগ্রেভ এই বন কমপক্ষে ৫ ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে। সুন্দরবনের সব থেকে উচু এলাকা করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রও পানি ঊঠেছে। তবে এই কেন্দ্রের বন্যপ্রাণীগুলো এখনো নিরাপদ রয়েছে। অপরদিকে চিতলমারীতে চিত্রা নদীর বাঁধ ভেঙ্গে ‘মিনি সুন্দরবন’ ও তার আশপাশের সব গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

সুন্দরবনের দুবলা জেলে পল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রহ্লাদ চন্দ্র রায় জানান, সুন্দরবনের দুবলা অন্তত ৫ ফুট পানিতে তলিয়েছে। দুবলায় প্রচ- ঝড়ো হাওয়া বইছে। মাঝে মাঝে বৃষ্টি হচ্ছে। দুবলা টহল ফাঁড়ির ১০ জন স্টাফ দুবলা সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছেন। সুন্দরবনে অন্যান্য বন অফিসের সদস্যরাও সুন্দরবনের কোস্টগার্ডের আলোরকোল, কোকিল মনি, সুপতি ও ডুমুরিয়া ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে।

সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির জানান, করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে এক থেকে দেড় ফুট পানি উঠেছে। আরও এক ফুট পানি উঠলেও এই প্রজনন কেন্দ্রের বন্যপ্রাণী হরিণ, কুমির ও বিলুপ্ত প্রজাতির কচ্ছপ বাটাগুল বাচকা রক্ষা করা দুস্কও হবে।

অস্বাভাবিক জোয়ারে ভাসছে বরগুনা ॥ বরগুনা থেকে প্রতিনিধি জানান, অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে দিন-রাতে দুবার করে প্লাবিত হচ্ছে বরগুনার উপকূল। সাগর ও নদীতে জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে শত শত গ্রাম, বাড়িঘর, নিম্নাঞ্চলের আবাসন প্রকল্প, ফসলি জমি, পুকুর ও ঘের। অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের দুটি ফেরির (আমতলী-পুরাকাটা ও বাইনচটকী-বড়ইতলা) পন্টুন তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন প্রায়।

পূর্ণিমা ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে মঙ্গলবার রাতে সৃষ্ট উঁচু জোয়ারে বরগুনার লক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। স্বল্প উচ্চতা ও ভাঙ্গা বেড়িবাঁধই এ দুর্ভোগের কারণ বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকেই দায়ী করছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপকূলীয় নদ-নদীতে জোয়ার শুরু হয়। যা চলে একটানা রাত ১১টা পর্যন্ত। এ সময় বরগুনার নদ-নদীতে পানির উচ্চতা হয় ৪.৫ মিটার। যা বিপদসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে বরগুনার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়।

মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার বড়ইতলা ও ডালভাঙ্গা এলাকায় দেখা যায়, আনুপাতিক নিচু বাঁধের কারণে এ এলাকার অন্তত শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সিংহভাগ বসত ঘর চার থেকে পাঁচ ফুট পানির নিচে ডুবে গেছে। পানির তোড়ে ভেসে গেছে হাঁস-মুরগিসহ পুকুর ও মাছের ঘের। এলাকাবাসী উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

ষাটোর্ধ মালেকা বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, কোনরকমে সাঁতার কেটে রাস্তায় উঠেছি। পানির স্রোতে ঘরের চাল-ডালসহ যা ছিল সব ভেসে গেছে। আমি গরিব মানুষ, বাড়িতে কয়েকটা হাঁস-মুরগি ছিল, তাও সব ভেসে গেছে। অন্যদিকে বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নে মাইঠা, বড় লবণ গোলা, ছোট লবণ গোলা, বুড়িরচর, নাপিতখালী, ঢলুয়া ইউনিয়নের নলী, নলটোনা ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া, আজগরকাঠি এলাকায়ও লোকালয়ে পানি ঢুকে গেছে।

বাগেরহাট স্টাফ রিপোর্টার জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বৃদ্ধি পাওয়া নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় বাগেরহাটের নি¤œাঞ্চলের শতাধিক গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। দৃশ্যত জেলার সকল নদ-নদী ফুঁসে উঠেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে জেলার শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ, মোংলা ও বাগেরহাট সদর উপজেলার বিভিন্নস্থানে বেড়িবাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করছে। প্রচ- বাতাসের সঙ্গে ৬ থেকে ৮ ফুট উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়ছে বলেশ্বর নদীর তীরে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ঢালে। কোথাও কোথাও বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। মোড়েলগঞ্জে ফুলহাতা বাজার থেকে সূর্যমুখী খালের গোড়া পর্যন্ত প্রায় ২ কিমি রাস্তার অধিকাংশ নদীতে ভেসে গেছে। এসব এলাকায় রাস্তাঘাট, বাজার, ঘরবাড়ি, শিক্ষাসহ সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে।

বাউফল ॥ নিজস্ব প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে আর পূর্ণিমার জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে পটুয়াখালীর বাউফলের চর ও নি¤œাঞ্চলের ১ হাজার ২শ’ ৬৫টি পুকুর ও ঘের মাছ। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে শাকসবজি ও খরিপ ফসলের। ঝড়োবাতাসে বিধ্বস্ত হয়েছে রায়সাহেব গুচ্ছগ্রামের টিনশেডের ঘরসহ কয়েকটি গ্রামের ২০-২৫টি আধাপাকা ও কাঁচা ঘর। নাজিরপুর, ধুলিয়া, কেশবপুর ও চর মিয়াজান এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ও ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে শাকসবজির ক্ষেত ও খরিপ ফসলের ক্ষেত।

উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাস জানান, ক্ষয়ক্ষতির খবর নেয়া হচ্ছে। এই মুহূর্তে সঠিক হিসাব নিরূপণ করা না গেলেও প্রাথমিকভাবে ৬টি ঝুঁপড়ি ঘর বিধ্বস্ত ও রায়সাহেব চরের গুচ্ছগ্রামের টিনের চালা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নাজিরপুর চর মিয়াজান এলাকার প্রায় ২শ’ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, সরেজমিন মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ নেয়া হচ্ছে। বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ও ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে চর ও নি¤œাঞ্চলের চিনাবাদাম, মরিচ, তিল, মিষ্টি আলুসহ কিছু খরিপ ফসলসহ ঢেঁড়স, কুমড়া, করলা, পেঁপে, পুইশাকের মতো শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব আলম তালুকদার জানান, ১ হাজার ২শ’ ৬৫টি পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে।

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান , ইয়াসের প্রভাবে সাগর এখন খুবই উত্তাল। স্বাভাবিকের চেয়ে ৪-৫ ফুট পর্যন্ত পানি বাড়ছে। দেশের সর্বদক্ষিণে সাগরবুকে জেগে উঠা দ্বীপ সেন্টমার্টিন ও কুতুবদিয়ার কিছু কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার জোয়ার একই সঙ্গে হওয়ায় সাগরের পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। এ কারণে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল এবং উত্তর ধুরং বেড়িবাঁধের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামের লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও বুধবার সকালে বৃষ্টি-বাতাস বয়ে যাওয়ায় পূর্ণিমার জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৪-৫ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে। ভাঙ্গন ধরা বেড়িবাঁধের বহু পয়েন্ট দিয়ে সাগরের লোনা পানি কুতুবদিয়ার লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোঃ আবদুর রহমান বলেন, কক্সবাজারে ৩নং সতর্ক সঙ্কেত বহাল রয়েছে বটে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ঝুঁকি থেকে মুক্ত হয়েছে পর্যটন নগরী। সাগরের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর প্রভাবে সাগর এখন খুবই উত্তাল।

পটুয়াখালীর ৫০টি গ্রাম প্লাবিত ॥ পটুয়াখালী থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে পটুয়াখালী-মির্জাগঞ্জ-দুমকি দশমিনায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ সময় স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৬ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পটুয়াখালী শহরের পুরান বাজার, কাঠপট্টি, সদর রোড, মহিলা কলেজ রোড, সরকারী কলেজ রোডসহ বেশ কিছু এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়। জেলায় কম করে হলেও ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পায়রাকুঞ্জ ফেরিঘাট ও লেবুখালি ফেরিঘাট পানিতে তলিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

মির্জাগঞ্জ উপজেলার পায়রা নদীর তীরবর্তী মনহোরখালী, ফেরিঘাট, চরখালী, গোলখালী, বিকাখালী, রামপুর, মেহিন্দাবাদসহ ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। দশমিনায় তেঁতুলিয়া নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় তাদের প্রস্তুতি রয়েছে। গত রাতে ১৪ হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে ছিল বলে জানায় জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী। আশ্রায়কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্দেশনা দেয়া আছে। এছাড়াও প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মেডিক্যাল টিম, স্বেচ্ছাসেবী, রেডক্রিসেন্ট সদস্য, ফায়ারব্রিগেড দল সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।