আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

ভারতে বিতর্কিত ৩ কৃষি আইন বাতিল ঘোষণা

news-image

ভারতে কৃষকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের কাছে মাথা নোয়াতে হলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে বিতর্কিত সেই তিন
কৃষি আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গতকাল জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মোদি আইন প্রত্যাহারের কথা জানান বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। মোদির ঘোষণার পর আনন্দ মিছিল বের করেন ভারতের কৃষকরা। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আনন্দ মিছিল বের হওয়া, মিষ্টি বিতরণের খবর জানা গেছে। ভারতের গাজীপুর সীমান্ত অঞ্চলের কৃষকরা মিছিল নিয়ে বের হন। এ সময় তারা কিষান একতা জিন্দাবাদ এমন সেøাগানও দেন। গত প্রায় এক বছর ধরে আন্দোলনে মোদি সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে সফল হলেন তারা।
ভাষণে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমি দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আমাদের হয়তো তপস্যাতেই খামতি ছিল। তাই কৃষি আইন প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এ মাসে শুরু হতে চলা সংসদ অধিবেশনে আইনগুলো প্রত্যাহার করা হবে। সবাইকে অনুরোধ করছি আসুন, আন্দোলন ছেড়ে নতুন দিনের সূচনা করি। এবার আপনারা মাঠে ফিরে যান, পরিবারের কাছে যান।’
মোদি আরও বলেন, ‘দেশের ১০০ জনের মধ্যে ৮০ জন ক্ষুদ্র কৃষক। তাদের জমির পরিমাণ দুই হেক্টরের কম। তাদের জীবনের আধার এই ছোট জমিটুকু। এমন কৃষক রয়েছেন প্রায় ১০ কোটি। এই ছোট জমিতেই তারা নিজেদের পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে কাজ করছেন। তাই বীজ, বীমা, বাজার আর সেভিংসের ক্ষেত্রে কাজ করেছি। আমরা ফসল বীমা যোজনাকে আরও কার্যকরী করেছি। পশুপালন ও মাছচাষের সঙ্গে যুক্ত কৃষকরা কিষান ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা পেতে শুরু করেছেন। কৃষকদের সামাজিক পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ক্ষুদ্র কৃষকদের কথা ভেবেই তিনটি কৃষি বিল আনা হয়েছিল। দেশের কৃষক সংগঠন, কৃষি অর্থনীতিবিদদের এই দাবি বহুদিনের। আগের সরকারও এ নিয়ে ভেবেছে। এরপরই সংসদে কৃষি বিল নিয়ে আলোচনা করে তা পাস করানো হয়। কয়েক কোটি কৃষক এই বিলকে সমর্থন জানিয়েছেন। ভালো মনে এই আইন আনা হয়েছিল। কৃষকদের স্বার্থে আনা এই বিল আমরা কয়েকজনকে বোঝাতে পারিনি। সেই কয়েকজন কৃষকই এর বিরোধিতা করছেন। তবু সেটিও আমাদের জন্য বড় বিষয়। তাদের বোঝাতে চেয়েছি, আমরাও তাদের কথা বোঝার চেষ্টা করেছি। সরকার আইন বদলাতে রাজি ছিল। এর মধ্যেই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে চলে যায়।
এর আগে বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন স্থগিত রাখতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশনা দেয় ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। ওই তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে ভারতে বহুদিন ধরে আন্দোলন করছেন কৃষকরা। আন্দোলন-বিক্ষোভে ঘটেছে প্রাণহানির ঘটনাও। তবু রাজপথ ছাড়েননি কৃষকরা। দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে, তবে বিষয়টির সুরাহা হয়নি। করোনা মহামারীর মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যান কৃষকরা।
মোদি বিতর্কিত তিনটি আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও কৃষকদের নেতা ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের (বিকেইউ) রাকেশ টিকাইত বলেছেন, পার্লামেন্টে বিতর্কিত তিন আইন প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কৃষকদের চলমান বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে। পার্লামেন্টে আইনগুলো প্রত্যাহার হলেই আন্দোলন থামানো হবে বলে জানান তিনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শস্যের সর্বনিম্ন মূল্য (এমএসপি) এবং অন্যান্য বিষয়ে সরকারের উচিত কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করা। তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ প্রত্যাহার হচ্ছে না, আমরা পার্লামেন্টে কৃষি আইন বাতিল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করব। সরকারের উচিত এমএসপিসহ অন্যান্য ইস্যুতে কৃষকের সঙ্গে কথা বলা।’

এ জাতীয় আরও খবর

‘পদত্যাগপত্র লিখে মুরাদ হাসানের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয়েছে’

কোম্পানিতে আসতে চান না বাস মালিকরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইউপি নির্বাচন মাদক মামলার আসামিও পেলেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন

রোবেল বাহিনীর হামলা- রূপগঞ্জে মানসিক প্রতিবন্ধিসহ চারজনকে কুপিয়ে জখম

নিরীহদের বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা।। কিশোরগ্যাংয়ের ৩ সদস্যকে

এতিম খানা মাদ্রাসা গরীবদের দেওয়া হলো ৫০ মন জাটকা

জাহাজের ধাক্কায় ২১ জেলেসহ ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ ৮

হাসপাতালে মাদক সেবন, চিকিৎসককে শাস্তিমূলক বদলি

প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে নিয়ে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে তর্কে জড়ালেন যুবদল নেতা

প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মাহির ভাইরাল ফোনালাপ নিয়ে যা বললেন নায়ক ইমন

নতুন ‘নয়ন বন্ডে’র গাঁজা সেবনের ভিডিও ভাইরাল!

করোনা পরীক্ষা করে পজিটিভ হলে সোয়া লাখ টাকা পুরস্কার!