আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের প্রথম ঈদ যেভাবে কাটছে

news-image

ঈদের নামাজের জন্য তৈরি করা হয় বিশাল প্যান্ডেল, তার সম্মুখে তৈরি করা হয় ঈদ মোবারক লেখা তোরণ, নামাজের পরে শিশুদের বিনোদনের জন্য ছিল মেলার আয়োজন, মেলায় রোহিঙ্গা ব্যবসায়ীদের ছোট ছোট দোকানে ছিল শিশুদের খেলনাসহ বিভিন্ন প্রসাধনীর সমারোহ। নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী আবাসস্থল ভাসানচরে এই ঈদ আয়োজনের ব্যবস্থা করে নৌ-বাহিনীর সদস্যরা।

রোহিঙ্গারা ভাসানচরে অবস্থানের পর থেকে এটি প্রথম ঈদ উদযাপন। রোহিঙ্গারা ধর্মীয় ভাবে ইসলাম ধর্মের অনুসারী হওয়ায় এই ঈদ ছিল তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের বাড়তি আনন্দ দিতে নৌ-বাহিনীর সদস্যদের এসব আয়োজনের ব্যবস্থা করেন।

ভাসানচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহে আলম জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে যে কয়েকটি মসজিদ রয়েছে তাতে জায়গা সংকুলান কম হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়। এজন্য ১নং ওয়্যার হাউজের ভেতরে ও বাহিরে প্রায় চার হাজার লোক এক সঙ্গে নামাজ পড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। ওয়্যার হাউজের বাইরে পুরো মাঠে সামিয়ানা দিয়ে তৈরি করা হয় বিশাল প্যান্ডেল। প্রবেশ মুখে তৈরি করা হয় বিশেষ তোরণ।

রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি বিশেষ প্যান্ডেলে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৮টায়। প্রথম জামাতে প্রায় চার হাজার রোহিঙ্গার অংশগ্রহণে সম্পূর্ণ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে অনুষ্ঠিত হয়। অনুরূপভাবে সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জামাত।

এদিকে রোহিঙ্গাদের বাড়তি আনন্দ দিতে নৌ-বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় আয়োজন করা হয় ঈদ মেলার। মেলায় শিশুদের খেলানাসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যাপক সমারোহ ছিল।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর থকে আনুষ্ঠানিকভাবে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই পর্যন্ত ৬টি ধাপে আসা প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার রোহিঙ্গা বর্তমানে ভাসনচরে অবস্থান করছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচরে ১২০টি গুচ্ছ গ্রামের অবকাঠামো তৈরি করে। যাতে এক লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।