আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

মধুমতিতে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

news-image

মাগুরার মহম্মদপুরে মধুমতি নদীতে অবাধে বালু উত্তোলন করছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল। নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের এই মহোৎসব চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ভাসমান কার্গোর উপর ড্রেজার মেশিন স্থাপন করে মোটা পাইপলাইনের মাধ্যমে ২/৩ কিলোমিটার দূরের নিচু ও জলাভূমি ভরাট করা হচ্ছে মধুমতির বালু দিয়ে। এ ছাড়া প্রতিদিনই শত শত ট্রাক বালু উত্তোলন করা হচ্ছে ড্রেজার মেশিন দিয়ে। অজ্ঞাত কারণে হাত-পা গুটিয়ে বসে আছেন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ। এতে করে প্রতি বছর নদী ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র বসতি স্থাপন করেছে বহু পরিবার। সরজমিন দেখা গেছে, উপজেলা সদরের চর জাঙ্গালিয়া, চর গোপাল নগর, চর পাঁচুরিয়া, চর রুইজানি, পলাশবাড়িয়ার ঝামা, আড়মাঝি, যশোবন্তপুর, শির গ্রাম, পাল্লা এবং বাবুখালির চরসেলামতপুর মধুমতি তীরের অর্ধশত পয়েন্টে অবৈধ বালু তোলার ধুম পড়েছে। শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ড্রেজার দিয়ে বালু কেটে পাহাড়তুল্য স্তূপে পরিণত করে সেখান থেকে ট্রাক, ট্রাক্টর, নসিমন-করিমন, আলমসাধু, ভটভটি ও ভ্যানযোগে ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকার শত শত ইটভাটায় পৌঁছে যাচ্ছে। রাতদিন সমানভাবে বালু তোলার কারণে একটি অসাধু স্বার্থান্বেষী চক্র আর্থিকভাবে পকেট ভারী করলেও নদীর তীর, কৃষকের ফসলি জমি, নদী শাসন ব্যবস্থা, নদী পাড়ের বাসিন্দারা ক্ষতির মুখে পড়ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ প্রতি ট্রাকে গড়ে ২০০ ঘনফুট বালু ধরে।
এক ট্রাক বালু বিক্রি হয় এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকায়। সে হিসেবে প্রতিদিন গড়ে চল্লিশ লাখ টাকার বালু বিক্রি করছেন প্রভাবশালীরা। সরজমিন জানা গেছে, নদী তীরবর্তী উপজেলার সীমান্তে কালিশংকরপুর থেকে চরসেলামতপুর পর্যন্ত প্রায় ২০টি গ্রাম রয়েছে। ফরিদপুর সীমান্তে অবস্থিত অধিকাংশ গ্রাম উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে মধুমতি নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। এসব গ্রামগুলো হচ্ছে চরসেলামতপুর, মাধবপুর, পাল্লা, শিরগ্রাম, কাশিপুর, বসুরধুলজুড়ী, ভোলনাথপুর, রুইজানী, গোপালনগর, জাঙ্গালিয়া, ধুপুড়িয়া, মুরাইল পশ্চিম খণ্ড, রায়পাশা, ঝামা, আড়মাঝি, দেউলি, যশোবন্তপুর এবং কালিশংকরপুর। এসব গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বিগত দুই-তিন বছর ধরে মধুমতি নদীর বুক থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চুন্নু বললেন, নদীর পাড় থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ঝামা এলাকার ব্লক দিয়ে বাঁধা এলাকার বেশির ভাগ স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদী ভাঙনের পর স্থায়ী চর জেগে ওঠায় অনেকেরই পৈতৃক সম্পত্তির বেশির ভাগ নদী বিচ্ছিন্ন ফরিদপুর সীমান্তে চলে গেছে। অবাধে ও অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে নদী তীরবর্তী পরিবারগুলোর বসতি এবং নদী শাসন ব্যবস্থা ক্ষতির মুখে পড়ছে। তিনি এ ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু নজরদারি কামনা করেছেন। দেউলি গ্রামের কৃষক দবির হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বালু তুলে নদীর সর্বনাশ করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এ এলাকার আবাদি জমি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রামানন্দ পাল বলেন, কেউ অবৈধ বালু উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া বালু উত্তোলন বন্ধে বেশ কয়েকবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে এবং সেটি অব্যাহত রয়েছে। মাগুরা জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম বলেন, নদী ভাঙনের কারণেই মধুমতি নদীর কোথাও কাউকেই এ বছর কোনো প্রকার ইজারা দেয়া হয়নি। এ অবস্থায় যদি কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে থাকেন তবে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ জাতীয় আরও খবর

১৫১ প্রতিমা নিয়ে বড় দুর্গাপূজার আয়োজন

স্বজন হারানোর আহাজারির মাঝেই চলছে অবৈধ বালু তোলার মহোৎসব

নূরুল ইসলাম রাজা দ্বিতীয়বার মানিকগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত

শ্রীবরদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দায়ী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: বিদায়ী র‌্যাব ডিজি

কক্সবাজারের রামু বাঁকখালীর বাঁকে বাঁকে অবৈধ ড্রেজার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা–কর্মীরা মিলেমিশে নদীর ২৫টি অংশে ৫০-৫৫টি খননযন্ত্র বসিয়ে দৈনিক ৫০০ ট্রাক বালু তুলছেন।

নিলামে বালু বিক্রি, ১৩ সরকারি কর্মকর্তাকে চিঠি বেলার

মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে নিলামে বালু দিলেন ইউএনও

অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন হুমকিতে শত কোটি টাকার সেতু

ভূঞাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন

তথ্য অধিকার আইন, দোরগোড়ায় সুফল পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী