আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

মাতামুহুরী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চকরিয়া উপজেলা আ.লীগের সম্পাদকসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে পরিবেশের মামলা

কক্সবাজারের চকরিয়ায় শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান দলের সদস্যদের মারধর ও জব্দকৃত দুটি ট্রাক ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ এবং আরো ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক মাহবুবুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি রুজু করেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীসহ জ্ঞাত-অজ্ঞাত ১২ জনের বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার মামলা রুজু হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গণি।

মামলার এজাহারনামীয় অন্য আসামিরা হলেন- পৌরসভার দিগরপানখালী গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে এরশাদ, আবুল খায়েরের ছেলে জহির উদ্দিন, শফি মেম্বার, তার দুই ছেলে হেলাল ও মাহমুদুল্লাহ এবং গোলাম কাদেরের ছেলে মো. রফিক।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৫ ডিসেম্বর বিকেলে বাদীর নেতৃত্বে চকরিয়া পৌরসভার দিগরপানখালী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের উত্তরাংশে মাতামুহুরী নদী থেকে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বাদী পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক মাহবুবুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে মাতামুহুরী নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বড় পাইপ দ্বারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বেড়িবাঁধের পাশে স্তুপ করে বিক্রি করছিলেন। অভিযানের সময় প্রায় তিন লাখ ঘনফুট উত্তোলিত বালু স্তুপাকারে দেখা যায়। পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ধরনের অনুমোদন না নিয়ে অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ, নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। এছাড়াও পরিবেশ বিধ্বংসী এই কর্মকাণ্ডের কারণে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট, ভূ-গর্ভস্থ গঠনের ব্যাপক পরিবর্তন, নদীপথ পরিবর্তনসহ নানাবিধ ক্ষতি হয়েছে। যা কোনভাবেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অমান্যসহ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০) এর ৬ (ঙ) ও ১২ ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অবস্থায় আইনের ১৫ (১) এর ৮ ও ১২ ধারা মোতাবেক শাস্তি প্রদানের লক্ষ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই মামলা রুজু করা হয়েছে।

পরিদর্শক মাহবুবুল ইসলাম বলেন, অভিযানের সময় অভিযুক্তরা পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট টিমের সদস্যদের মারধর করে আহত করে। এ সময় তারা ছিনিয়ে নিয়ে যায় জব্দকৃত দুটি ডাম্পার ট্রাকও। তাই ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রাপ্তিসাপেক্ষে এই মামলা রুজু করা হয়েছে থানায় এবং মামলাটি পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন অফিসারই তদন্ত করবেন।