আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

মাথায় ছাত্রদলের ক্যাপ, কপালে জুটল স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদ

news-image

বগুড়ার শেরপুরের সুঘাট ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের নবঘোষিত আংশিক কমিটিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদকের সুপারিশে ছাত্রদল কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যায় জোড়গাছা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন পূর্বের কমিটির নেতাসহ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী। বিক্ষোভে ছাত্রদল কর্মীদের কমিটি থেকে বাতিলের দাবি জানান নেতারা।

জানা যায়, ২০১৩ সালে উপজেলার সুঘাট ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটি গঠন করা হয়। এতে হাফিজুর রহমান হাদু সভাপতি ও আতিকুর রহমান রঞ্জু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। এরপর থেকেই এ কমিটি দায়িত্ব পালন করে আসছে।

এরই মধ্যে গত ৫ সেপ্টেম্বর রোববার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে ৮ সদস্যের একটি নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন। ঘোষিত নতুন কমিটিতে গুয়াগাছি গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে ছাত্রদল কর্মী সেলিম রেজাকে ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ও আওলাকান্দি গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে একে রঞ্জু আহম্মেদকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দেন।

এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয় সুঘাট ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে। এ ঘটনায় বিতর্কিত ওই দুইজনকে কমিটি থেকে বাদ দেয়ার প্রতিবাদে পূর্বের কমিটির নেতাকর্মীসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় জোড়গাছা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

বিক্ষোভে পূর্বের কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান হাদু, সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান রঞ্জু তাদের বক্তব্যে বলেন, সুঘাট ইউনিয়নের বর্তমান কমিটিকে না জানিয়ে উপজেলা কমিটির নেতারা বিএনপি সমর্থিত কর্মীদের প্রবেশ করিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করেন। এতে আমরা বিচলিত। অনতিবিলম্বে বিতর্কিত সেলিম ও রঞ্জুকে কমিটি থেকে বাদ দিয়ে দলীয় পরিশ্রমী কর্মীদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রেজাউল করিম বিপ্লব বলেন, শেরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবিদ হাসান সুমন ওই ২ জনের নাম দিয়ে সুপারিশ করায় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরে শুনলাম- তারা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পূর্বের কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবিদ হাসান সুমন বলেন, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার কারণে তাদের বিএনপির মিছিল করতে বাধ্য করেছিল। পরে তারা চাকরি ছেড়ে দিয়ে এলাকায় আমাদের সঙ্গে রাজনীতি করছে।