আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

মানিকগঞ্জের ঘিওরে সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ

news-image

আল মামুন বিশেষ প্রতিনিধি মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সমাজসেবা অফিসের একশ্রেণির কর্মকর্তা ও কর্মচারীর দায়িত্বে অবহেলার কারণে অসহায় দরিদ্রদের ভাতার টাকা চলে যাচ্ছে অজ্ঞাত নম্বরে। রেজিস্ট্রেশন করার সময়ে অদক্ষ মানুষ দিয়ে বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট করার কারণে অনেক মোবাইল নম্বর ভুলসহ নানা কারণে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের ভাতার টাকা তুলতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন ভাতাভোগীরা ।

আগে ব্যাংকের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে এলাকার শত শত মানুষ ভাতার টাকা তুলত। এতে কষ্ট ও হয়রানির শিকার হয়ে অনেকেই বাড়িতে চলে যেত। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে শুরু হয় ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআরএস)। যার মাধ্যমে ঘরে বসেই ভাতা মোবাইলের মাধ্যমে উত্তোলন করার প্রক্রিয়া চালু হয়। কিন্তু ঘিওরে বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা নেওয়ার ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্ন দৃশ্য। ভাতার টাকা আসল নম্বরে না গিয়ে চলে যাচ্ছে অন্য নম্বরে। আর এই টাকাগুলো অনায়াসে তুলে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র।

জানা গেছে, এ উপজেলায় সরকারি ভাতাভোগীদের সংখ্যা মোট ৮ হাজার ৬১৫ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ৫ হাজার ১৭৪ জন, বিধবা ১ হাজার ৬৬৪, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা ১ হাজার ৬৫৮ জন এবং অন্যান্য ১১৯ জন। তাদের প্রত্যেককেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঘিওর গোলাপনগর গ্রামের যতীন সরকার জানান, তার দেওয়া নগদ/বিকাশ নম্বরে টাকা আসেনি। তিনি অফিসে অভিযোগ করলে জনৈক কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনার টাকা অন্য নম্বরে চলে গেছে। এতে আমাদের কিছুই করার নেই।’ আবার অনেকে বলছে নিজের দেওয়া নম্বরে টাকা এলেও পিন নম্বরের কারণে টাকা তুলতে পারছে না। ফলে নানা ধরনের ভোগান্তির কারণে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী বিধবা নারীরা দিনের পর দিন অফিসে ঘুরেও ভাতার টাকা তুলতে পারছেন না।

সমাজসেবা অফিসে এ ধরনের অভিযোগ করলে তাদের সঙ্গে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা খারাপ আচরণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।