আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে তিন ফসলি আবাদী জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটার পেটে

news-image

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বিভিন্ন এলাকায় তিন ফসলি আবাদী জমি থেকে মাটি কেটে পার্শ্ববর্তী কয়েটি ইটভাটা ও স্থানীয়দের কাছে বিক্রয় করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। যেখান থেকে এক্সকেভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কেটে মাটিবাহী ট্রাক এবং ট্রাক্টরে যুক্ত ট্রলি দিয়ে ভাটাগুলোতে পৌঁছে দিচ্ছে এসব মাটি ব্যবসায়ীরা। আবার কৃষকদের বেশি অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে চলতি মৌসুমে আবাদকৃত সরিষার খেত্সহ অন্যসব ফসলের জমি কেটে নিয়ে বিক্রয় করছে।

এ সকল ফসলি জমির উর্বর মাটি দূরত্ব ভেদে এক হাজার বর্গ ফুট মাটি  এক হাজার থেকে পনেরো শ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। এসব মাটি কেটে নেওয়ার সময় গাড়ি ফসলি জমির ওপর জোরপূর্বক নেওয়া হচ্ছে। মাটি ব্যবসায়ীরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না। এতে করে প্রতিদিন উপজেলার আবাদী জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। আবার কেউ এসব অবৈধ মাটি ব্যবসায় বাধা দিলে তাদের নানা পন্থায় ম্যানেজ করছে।

শিবালয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মোট আবাদী জমির পরিমাণ ১২ হাজার ৫২২ হেক্টর। শ্রেণি ভেদে প্রায় সব জমিতেই সারা বছরই কোনো না কোনো ফসল চাষ করা হয়। কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্যের যথাযথ মূল্য না পাওয়ায় কিছু কৃষক মাটি ব্যবসায়ী লোভনীয় অফারের কারণে ফসলি জমি থেকে মাটি বিক্রয় করে দিচ্ছেন। এতে জমি মালিকরা প্রতি বিঘা জমি থেকে ১-২ লক্ষ টাকা পাচ্ছে। এ ছাড়া শুষ্ক মৌসুমের কারণে অনেক জমি মালিক প্রলোভনে পরে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন না করে ভেকু দিয়ে জমি কেটে পুকুর বানাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক, ট্রাক্টর, মিনি ট্রাক করে মাটি নিয়ে ভাটগুলোতে পৌঁছে দিচ্ছে। উপজেলার ঢাকা-পাটুরিয়া মহাসড়কের মেগা ফিড কারখানার পেছনে অন্তত তিনটি স্পটে ফসলি জমি কেটে প্রায় ১৫-২০টি মাটিবাহী ট্রাক দিয়ে ফসলি জমির ওপর দিয়ে রাস্তা বানিয়ে জোরপূর্বক মাটি ট্রাকে নিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া বেলতা, জমদুয়ারা, কৃষ্ণপুর, বিলপাড়া, উথুলী, বাড়াদিয়া, আড়পাড়া, আমডালা, উলাইল, ফলসাটিয়া, মানিকনগর, বুতুনী, ঢাকাইজোড়া, নয়াবাড়ি, পয়লাসহ অর্ধশতাধিক স্পট থেকে কোনো নিয়ম-নীতি না মেনে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উথুলী এলাকার কয়েকজন কৃষক জানান, জোর করে আমার ফসলি জমির ওপর দিয়ে মাটি নেওয়ার রাস্তা বানিয়েছে। আমরা কৃষক মানুষ কোথায় যাবো, কার কাছে যাবো জানি না। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়েছি।

মেগাফিড এলাকার কৃষক চাঁন মিয়ার কাছে মাটি কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, আমার জমি আমি মাটি বিক্রয় করছি এতে আপনার কোনো সমস্যা আছে কি না। প্রশাসনের লোক তো আমাদের কিছু বলে না। ভূমি অফিসের মাধ্যেমে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করেছেন কি না বললে তার কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

শিবালয় উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউর রহমান জানান, কৃষি জমির ফসল উৎপাদনের প্রাণ হলো টপ সয়েল। মাটির ৬ ইঞ্চি পর্যন্ত থাকে এ উর্বরতা। তা কেটে নিলে কখনও ভালো ফসল হবে না। জমি ফসল উৎপাদনের ক্ষমতা হারাবে। যে হারে মাটি কাটা হচ্ছে তাতে এ উপজেলায় আবাদী জমির পরিমাণ কমে যাবে। যা আমাদের কৃষির জন্য খারাপ।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদ  জানান, এ বিষয়ে কেউ আমাকে লিখিত বা মৌখিকভাবে জানায়নি। তবে ইতিমধ্যে আমি কয়েটি স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মাটি কাটা বন্ধ করেছি। অভিয়োগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফসলি জমি থেকে মাটি কাটলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এ জাতীয় আরও খবর

শতকোটি টাকার হাঁস প্রজনন কেন্দ্রের বাচ্চা ফোটে কাগজে-কলমে

পরিত্যক্ত ঘোষণার ৩০ বছর পরও ভবনে চলছে পুলিশ ফাঁড়ির কাজ

‘তথ্য অধিকার, সংকটে হাতিয়ার’ প্রসঙ্গ: স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ মরতুজা আহমদ প্রধান তথ্য কমিশনার

মোবাইলের লোভ দেখিয়ে শিশু ধর্ষণ, কিশোর আটক

ডোমার খাদ্য গুদামে চাল দেননি চুক্তিবদ্ধ ৪৯ মিলার

গণধর্ষণের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এমসি কলেজে পুলিশ কমিশনার

গাজীপুরে পুলিশের অস্ত্র-গুলি ছিনতাই

যৌন নির্যাতনের শিকার পাঁচ বছরের শিশু, হাসপাতালে ভর্তি

ভ্রূণ হত্যা, নির্যাতন, যৌতুক দাবি- তিন অভিযোগে এসআইয়ের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা

এমসি কলেজে গণধর্ষণ: অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীদের ধরতে অভিযান

ভেন্টিলেশন সাপোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেল, দোয়া চেয়েছে পরিবার

কার্যালয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে ইয়াবা খাওয়াচ্ছেন ইউপি সদস্য