আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

মানিকগঞ্জে প্রথম দিনে খোলেনি ২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়

news-image

সরকারঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা থাকলেও এ জেলার যমুনা ও পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলের ২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যার পানিতে নিমজ্জিত থাকায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম একযোগে শুরু করতে পারেনি।

জানা গেছে, জেলার নদী তীরবর্তী এলাকা রয়েছে ৫০ কিলোমিটার। চলতি বছরে বর্ষা মৌসুমে কয়েক দফা পদ্মা ও যমুনার ভাঙনে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া চলতি বন্যায় জেলার ঘিওর, শিবালয়, দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পানি প্রবেশ করে। গত সপ্তাহ থেকে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় পানি কমতে শুরু করে। তবে চরাঞ্চলের অন্তত ২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বন্যার পানি নামলেও প্রাঙ্গণ এলাকায় পানি রয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘এ উপজেলায় একশটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বাঁচামারা, বাঘুটিয়া ও চরকাটারি এলাকায় বিদ্যালয়গুলোতে পানি নামলেও আঙিনায় কাদা রয়েছে। এরকম পরিস্থিতি এ চরাঞ্চলের ১৯টি বিদ্যালয়ে থাকায় ক্লাস শুরু করতে পারেনি। তবে এই সপ্তাহের মধ্যেই সবগুলো বিদ্যালয় খুলতে পারব’।

হরিরামপুর উপজেলা সহাকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বদর উদ্দিন বলেন, হরিরামপুর উপজেলায় ৮৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১টি শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ উপজেলায় প্রথম দিনেই শতভাগ বিদ্যালয় খোলা ছিল। চলতি বন্যায় হরিরামপুর উপজেলার সুতালড়ি ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পদ্মা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাশের ডুবাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠকার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার অধিকারী বলেন, ‘জেলায় মোট ৬৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। যমুনা নদীপাড়ের দৌলতপুর উপজেলার হাটাইল, টুটিয়াম, আহুলিয়া, বহড়া, গাজীছাইল, মীর কুটিয়া, নিলুয়া এবং হরিরামপুর উপজেলার আজিমনগর, সুতালড়িসহ চরাঞ্চলের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছিল। পানি চলে গেলেও উঠানে কাদা রয়েছে। এসব কারণে প্রথম দিনে ২৫টি বিদ্যালয় খোলা সম্ভব হয়নি।’

চরাঞ্চলের পানি কমতে শুরু করেছে আগামী ৩-৪ দিনের ভিতর সবগুলো বিদ্যালয় তার পাঠদান কর্মসূচি শুরু করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন। উল্লেখ্য, গত দেড় বছর ধরে করোনাকালীন সারা দেশের ন্যায় মানিকগঞ্জে ছয়শ ৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ছিল।