আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

মানিকগঞ্জ সদর সরকারি বরাদ্দে খাল ভরাট স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ খালটি ভরাটের একমাত্র উদ্দেশ্য ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ির পরিধি বাড়ানো।

news-image

বর্ষায় নদী থেকে পানি খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আশপাশের কৃষিজমিতে পড়ে পলির আস্তরণ। আর শুষ্ক মৌসুমে খালটির পানি ব্যবহার করা হয় সেচসহ বিভিন্ন কাজে। এমনই গুরুত্বপূর্ণ এক খাল সরকারি বরাদ্দের অর্থে মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। খালটি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাড়ারিয়া গ্রামে। কালীগঙ্গা নদীর সঙ্গে যুক্ত এই খাল স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ‘ভাড়ারিয়া খাল’ নামে পরিচিত।

খালটি ঘেঁষে স্থানীয় ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল জলিলের বাড়ি। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের বাড়ি সম্প্রসারণের জন্য সরকারি অর্থ অপচয় করে মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে খালটি।

গত সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার বালিরটেক-হরিরামপুর সড়কের ভাড়ারিয়া গ্রামে খালটির ওপর ২৮ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু রয়েছে। সেতুটির দক্ষিণ পাশে খাল ঘেঁষে ইউপি চেয়ারম্যানের বসতবাড়ি। সেতুসংলগ্ন পূর্ব পাশে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি ঘেঁষে খালের বেশ কিছু অংশে মাটি ফেলে ইতিমধ্যে ভরাট করা হয়েছে। ফলে খালের পশ্চিম পাশে পানি আটকা পড়েছে।

ভাড়ারিয়া গ্রামের কৃষক মোতালেব হোসেন ও গোলাম মোস্তফা বলেন, এই খালের পানি কৃষিজমিতে সেচের পাশাপাশি এলাকাবাসী নানা কাজে ব্যবহার করে থাকেন। এ ছাড়া খালের পানিতে মাছও শিকার করে থাকেন। খালটি ভরাট হলে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে কৃষিজমিতে পানির অভাব দেখা দেবে। তেমনি বৃষ্টিপাত হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। এতে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

খালে ভরাট করা অংশে ছোট একটি ফলকে লেখা থেকে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ লাখ টাকায় খালটি ভরাট করা হচ্ছে। ভাড়ারিয়া গ্রামের আকতারের বাড়ি থেকে জামালের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের জন্য সরকারি অর্থে খালটি ভরাট করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের সভাপতি ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বশির উদ্দিন।

বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে কথা হয় চেয়ারম্যান আবদুল জলিলের সঙ্গে। তাঁর দাবি, নিজের স্বার্থে নয়, সরকারি বরাদ্দে এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে খালটি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। আর খালটিতে এখন পানি প্রবাহিত হয় না।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয় ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কে এম ফিরোজের সঙ্গে। তিনি বলেন, খালটি ভরাটের বিষয়ে আগে জানতেন না তিনি। জায়গাটি নথিপত্রে সরকারি হালট হিসেবে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এটি খাল। খাল ভরাটের বিষয়ে তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।

প্রবহমান খালটি ভরাট করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ভয়ে তাঁরা প্রতিবাদ করছেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, খালটি ভরাটের একমাত্র উদ্দেশ্য ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ির পরিধি বাড়ানো।

এ ব্যাপারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনন্দ সাহা বলেন, খাল ভরাট করা বেআইনি। ইউপি চেয়ারম্যান তাঁর নিজের স্বার্থে তাঁর বাড়ির সীমানা বাড়াতে খালটি ভরাট করছেন। প্রকল্পটি সরকারি অর্থ অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। খালটি ভরাট করা হলে এলাকার মানুষ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

প্রবহমান খাল ভরাট করার কোনো সুযোগ নেই বলে জানান সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা বলেন, খোঁজখবর নিয়ে এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

অভিযানের খবরে ড্রেজার রেখে পালালেন অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা

আনোয়ারায় বালু ব্যবসায়ীকে জরিমানা

মাটিকে গুরুত্ব দিয়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নাশকতা মামলায় বিএনপির বদলে আ.লীগ নেতা আটক পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ দলীয় নেতাকর্মী

ধোপাজান নদীর বালু-পাথরের টাকা সিন্ডিকেটের পকেটে

পদ্মার চরে মাটি-বালু লুট চলছেই

শঙ্খ নদী থেকে বালু উত্তোলন, জরিমানা

চাঁঁদপুরের মেঘনা পাড়ের মাটি কাটায় ৪ জনকে দুই লাখ টাকা জরিমানা

নালিতাবাড়ীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, জরিমানা আদায়

টাঙ্গাইলে চায়নার ডেইরি ফিডের জন্য নিশ্চিহ্ন হচ্ছে জমি ও শতাধিক বাড়ি

আমরা উন্নয়ন করি, আর বিএনপি মানুষ খুন করে: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামে ২৯ প্রকল্পের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর