আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি না করায় অটোরিকশায় সন্তান প্রসব

news-image

গাইবান্ধায় মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি না নেয়ায় শহরের ডিবি রোডে অটোরিকশার মধ্যেই সন্তান প্রসব করেছেন জেমি বেগম নামে এক প্রসূতি। মঙ্গলবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে সেখান একটি পার্শ্ববর্তী পরিত্যক্ত ঘরে নেয়া হয়।এ সময় ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অসুস্থ অবস্থায় প্রসূতি মা ও নবজাতক শিশুকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

জেমি বেগমের স্বজন ও সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ার গৃহবধূ জেমি বেগম প্রসব বেদনা নিয়ে সিনএনজিযোগে গাইবান্ধা মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি হতে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার উপস্থিত না থাকায় কেন্দ্রের পরিদর্শিকা সেলিনা আক্তার প্রসূতিকে ভর্তি না করে তাকে অন্যত্র যেতে বলেন। এ সময় নিরুপায় প্রসূতির স্বজনরা কাকুতি-মিনতি করতে থাকলে কেন্দ্রে থাকা পরিদর্শিকাসহ স্বাস্থ্যকর্মী ও আয়ারা প্রসূতিসহ তার স্বজনদের কথায় কোনো কর্ণপাত না করে প্রসূতিকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেনি।

পরে প্রসূতি জেমি বেগমের প্রসব বেদনা তীব্র আকার ধারণ করলে জেলা শহরের ডিবি রোডে অটোরিকশার মধ্যে সন্তান প্রসব করেন। পরে তাকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নেয়া হয়। এরপর এলাকাবাসী ও পুলিশের সহযোগিতায় অসুস্থ অবস্থায় মা ও শিশুকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে মাতৃসদনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আফসারী খানম বলেন, মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র সবার জন্য উন্মুক্ত। এখানে সবার সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। রাতের যে ঘটনাটি ঘটেছে তা হল রোগীকে রেফার্ড করা হয়। সেই রোগী হাসপাতালে যাওয়ার পথে সন্তান প্রসব করে। এতে কারও যদি কর্তব্য অবহেলার কোনো বিষয় থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি খান মো. শাহরিয়ার বলেন, ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে তারা গভীর রাতে প্রসূতিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। তার যাবতীয় সেবার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেন, প্রসূতি মা ও নবজাতক শিশুকে দেরি করে হাসপাতালে নিয়ে এলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শিশুটির যথাযথ পরিচর্যার অভাবে মা ও নবজাতকের ক্ষতির সম্ভাবনা ছিল। বর্তমানে প্রসূতি মা জেমি বেগম ও তার নবজাতক কন্যাসন্তান গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।